শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১১

কাব্য গল্প: পৃথিবীটাই আমার কবিতার মঞ্চ


আমি একদিন কবিতার মঞ্চে উঠে ঘোষণা দিলাম
আজ থেকে আর একটিও কবিতা লিখব না।
আমি এখন অবসর নিব-
সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চ কেঁপে উঠলো
দর্শকশ্রোতা চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো
না-না আমরা এ ঘোষণা মানিনা, মানবো না
মানতে পারি না, আপনাকে লিখতেই হবে কবি।
না তা হয়না,হে কবিতা পাগল দর্শক
আজ আমি কবিতা লেখা থেকে অবসর নিতে চাই,
অনেক তো লিখেছি, আর কত?
সঙ্গে সঙ্গে আবার কেঁপে উঠল কবিতার মঞ্চ,
মনে হলো এটাকি কোন ভূ-কম্পন!
কবিতা পাঠকদের চিৎকারের আওয়াজে সাইক্লোন ঝড়!
আওয়াজ হল প্রচন্ড ঝাপটায়-
আমরা আপনাকে অবসরে যেতে দিতে চাই না
পারব না আপনাকে বিদায় জানাতে।
আমি বললাম-যখন আমি থাকব না তখন তোমরা কি করবে?
কবি কখনই মরে না-বলে উঠলো কেউ একজন-
তার সাথে হাজারো সম্মিলিত আকাশ কাপনো কন্ঠস্বর।
আপনাকে লিখতে হবে কবি,লিখতে হবে,
আমি ভাবলাম আমার বুঝি কবিতার জগত থেকে,
আর অবসর নেওয়া হলো না।
কবিতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম-
কেন লিখব কবিতা বলতে পার তোমরা?
তাহলে পৃথিবীতে এসেছেন কেন, বলে উঠল আরেকজন-
শুধুই থাকতেই এসেছেন,বিদায় তো নিবেন সময় ফুরিয়ে এলেই,
লিখবেন না কিছুই,পৃথিবীর বুকে স্বাক্ষর রেখে যাবেন না?
এই প্রশ্নে আমি থমকে গেলাম,
কেন এসেছি এই পৃথিবীতে আমি?
প্রশ্নটায় হৃৎপিন্ড কম্পন হতে থাকল।
আচ্ছা বলুন আমি কবিতা লিখব কেন? আরেকটি প্রশ্ন আমার
কেউ একজন দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করল-
সুন্দর একটি কবিতা চমৎকার একটি গল্প,
সুন্দর একটি কবিতা রোমান্টিক রসালো একটা উপন্যাস
সুন্দর একটি কবিতা গায়কের কন্ঠের সুরের মুর্ছনা
সুন্দর একটি কবিতা পূর্ণিমা রাতের রুপালি চাঁদের চমৎকার বর্ণনা
সুন্দর একটি কবিতা জোনাকি আলোর নক্ষত্ররাজির বর্ণনা
সুন্দর একটি কবিতা পুস্পার্ঘের ছটায় প্রেমিকের অর্চনা
সুন্দর একটি কবিতা গোটা বিশ্বের-ই সর্ব বৃহৎ রচনা।
কেন ভুলে যাচ্ছেন কবি,আবেগকে দিচ্ছেন এক ভূলের প্রবঞ্চনা??
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি, পৃথিবীর কবিতার মঞ্চে,
নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি দর্শক গ্যালারির দিকে।
আবার মেয়েলি কন্ঠে একজন দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করল-
কবির কবিতা ছাড়া প্রকৃতির রুপে মিলেনা ছন্দ
কবির কবিতা ছাড়া নিবির রজনীর গল্প ব্যর্থ
কবির কবিতা ছাড়া পূর্ণিমার জোছনার রাত ঘটেনা মোহ,
কবির কবিতা ছাড়া ফুলেরা ফুটতে পায় না সাচছন্দময় আনন্দ
কবির কবিতা ছাড়া তরুণী পায় না ভালবাসার স্পন্দন,
কবির কবিতা ছাড়া সুরকারের হয়না গানের ভূবন
কবির কবিতা ছাড়া চিত্রকরের ছবিতে পড়ে না তুলির আচঁড়
কবির কবিতা ছাড়া পৃথিবীটা নেহায়েতই ব্যর্থ
পৃথিবীটাই কবির কবিতার মঞ্চ……।
আবার আরেকজন বলে উঠল-
যেখানে কবিতা নেই সেখানে পৃথিবী নেই,
যেখানে কবিতা নেই সেখানে কোন আনন্দ নেই,
যেখানে কবিতা নেই সেখানে কোন প্রেম নেই,
যেখানে কবিতা নেই সেখানে পূর্ণিমা চাঁদের উজ্জ্বল আলো নেই,
যেখানে কবিতা নেই সেখানে ফুলের সুবাস নেই,
যেখানে কবিতা নেই সেখানে কোন ভালবাসা নেই,
কবির কবিতা ভালবাসার লাল গোলাপ
কবির কবিতা নারীর অপরুপ বর্ণনা,
কবির কবিতা প্রেমের দামী অলংকার,
তাই যেখানে কবি থামিয়েছে কলম,সেখানেই কবিতার অপমৃত্যু
যেখানে কবিতার অপমৃত্যু সেখানেই পাঠকের বিষন্নতা
যেখানে কবিতার মঞ্চ সেখানেই ঝরছে ফুলের সুবাস।
আবার আরেকজন সংগে সংগে বলে উঠল-
হ্যাঁ কবি আপনার কবিতাগুলাই আপনার সন্তান
কেন এই নবজাতকদের মেরে ফেলতে চান,
মেরে ফেলতে চাই ? আমি বলে উঠলাম-
হ্যাঁ হ্যাঁ আপনি মেরে ফেলতে চান-
আরে যুগযুগ জেগে থাকা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম
আপনাকে বাচিয়ে রাখবে আপনার সৃষ্টির কবিতাগুলো-
এখানে তো আর দৈহিক মিলনের প্রয়োজন নেই!
যে আপনার বৃদ্ধাবস্থায় সন্তান উৎপাদন অসম্ভব হবে,
আপনার যৌবন আপনার লেখা, আপনার সৃষ্টি,
আপনার যৌবন আপনার অবচেতন আত্না,
আপনার যৌবন আপনার অমৃত কবিতা,
আপনি যেভাবে লিখবেন সেভাবে গড়ে উঠবে আপনার সন্তানেরা
আপনি কি মেরে ফেলতে চান আপনার সন্তানগুলোকে?
আপনি কি মৃত্যু ঘটাতে আপনার স্বীয়কে?
আমি বললাম- না-না-না- আমি তা চাই না,
আমার কবিতার মঞ্চ থেকে অবসরের ঘোষণাটা উহ্য করে নিলাম
আজ থেকে আবার কবিতা লিখে যাব, তোমাদের কথা দিলাম।
সংগে সংগে পৃথিবীটা আনন্দে নেচে উঠল
গ্যালারী জুড়ে করতালির আওয়াজে আনন্দ ঝরতে লাগল।
আমি নেমে এলাম পৃথিবীর কবিতার মঞ্চ থেকে;
আমার সন্তানেরা (কবিতা) আমাকে আনন্দে শিহরণে জড়িয়ে ধরল,
ফুলের সুবাসে সুরের মোহনায় আমি হার মেনে গেলাম
কবিতা লেখা থেকে অবসর নেওয়ার কোন মানে নেই,
এক অদ্ভুত ভাবনার মধ্য দিয়ে গৃহালয়ের দিকে চললাম।

আমিও সৃষ্টি নিয়ে খেলতে চাই


আমিও সৃষ্টি নিয়ে খেলতে চাই
খেলতে চাই সৃষ্টির সম্ভার নিয়ে
আমি বিশ্বাস করিনা আমাকে ছেড়ে;
সৃষ্টিকর্তা থাকেন সাত আসমানে,বা
শুধু সিদরাতুল মুনতাহায়!
থাকেন ঐ পাহাড়ে
থাকেন শুধু ফেরেশতাদের নিয়ে।
সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং থাকেন আমার কাছে,
আমাদের প্রতিটি জীবকুলের সাথে
কেননা আমি কথা বলি;
এত কথা কোথায় পাই!
এত ভাষা পাই কোথা হতে?
এত চিন্তা কোথায় থেকে পাই?
এত আবিস্কার কি করে সম্ভব হয়
আমাকে ছাড়া!!
সৃষ্টিকর্তা আমাকে দিয়েই তিনি;
নিজেকে প্রকাশ করছে স্ব-গৌরবে;
এত কিছু অভূতপূর্ব ও অসম্ভব সৃষ্টির রহস্য
আমাকে দিয়েই তিনি প্রকাশ করছেন-
ওহী প্রত্যাদেশ দিয়ে।
আমি মানুষ, সৃষ্টির সর্বশেষ্ট আশরাফুল মাখলুকাত!
আমাকে নিয়ে তাঁর জান্নাত-জাহান্নাম সৃষ্টি
এত কিছু মৌলেই সব সৃষ্টি আমাকে ঘিরেই,
আমিও সৃষ্টি নিয়ে খেলতে চাই;
যেভাবে স্রষ্টা আমাকে নিয়ে মজার খেলা খেলছেন;
আমিও নিতেই চাই কৃত্রিম সৃষ্টির সব আনন্দ!
আমার দ্বারাই সম্ভব, কারণ আমি মানুষ!!
সৃষ্টিকর্তার হাতের ছোঁয়ায় আমার সব অবয়ব
আমি বানাতে চাই এক কৃত্রিম জগত,
বানাতে চাই নিস্কলঙ্ক নতুন পৃথিবী।
আমরা চেষ্টা করলেই বানাতে পারি
নতুন আরেক পৃথিবী
উপহার দিতে পারি নতুন প্রজন্মকে
অসম্ভব বলে কিছু নেই;সবই সম্ভব
স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আমাকে দিয়ে চালাচ্ছেন-
যেমন এ পার্থিব বিশ্ব
আমি বিশ্বাস করিনা স্রষ্টা আমায় হতে দূরে;
আমি যা করি, তিনি সব কিছু দেখছেন আর খেলছেন!!