শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১১

কাব্য চিঠি: তোমাকে আমি স্বপ্নে দেখেছি

তুমি আমি এক যাত্রীবাহী বাস থেকে নেমে যাই তেতুলিয়া বাস স্টান্ডে,
তোমার হাতে দুটি ব্যাগ যা বহন করে চলেছ বাড়ীর অভিমুখে
আমিও হাটতে থাকি তোমার পিছনে এক নি:শব্দে পদচারণায়
যাতে তোমার কানে আমার পদশব্দ বিন্দুমাত্র না পৌছে।
তোমার সাথে কথা হয়না দীর্ঘ ১ যুগ পূর্তি হতে চলেছে
দীর্ঘ এই ১ যুগের নীরবতায় উভয়েই হয়ে গেছি,
বোবা মানুষদের মত এক জোড়া মানুষ;
তোমার সাথে বাসে পাশাপাশি বসেও বোবা হয়েই ছিলাম
চোথের ভাষায় হয়তো অনেক স্মৃতিঝরা কথাই প্রকাশ পেয়েছে।

কিভাবে এই একটি যুগ বাকশক্তিহীন নীরব প্রেমে কাটিয়ে দিলাম
তারই এক প্রামাণ্যচিত্র যেন দু’চোখের রঙিন পর্দায় ভেসে উঠেছিল
অথচ কথা বললেই বলতে পারতাম! কিন্তু কিসের এক অভ্যাসের সংকোচে,
চোখ দুটো কথা বললেও মুখ ফোঁটে বলার সাহস আর হয়নি।
আমরা দু’জনই হঠাৎ কখনো সামনাসামনি বা মুখোমুখী হয়েও গেছি,
দু’চোখের দৃষ্টিতে তখন বুকের পাজঁরে হৃৎপিন্ডটা থরথর কেঁপে উঠতো
আর কেমন একটা অনুভূতিতে দূর্বল হয়ে যেতে থাকতো স্নায়ানুভূতি।
এবং ভেঙে যেতে থাকত হৃদয়টা তখন, কোন এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে,
মুছরে যেতে থাকতো দেহের সমস্ত শক্তি।
তার ফলে আমরা নির্বাক বাকশক্তিহীন হয়ে অপ্রকাশ একটা অনুভূতি নিয়ে,
পাশ কাটিয়ে চলে যেতে হয়েছে দুজনকেই।

কিন্তু আজ তোমার সাথে কথা বলবোই বলবো এমন একটা অনুভূতি যেন,
আমার পদশক্তিকে দ্বিগুন বাড়িয়ে এগিয়ে নেয় বাঁধভাঙা ঝড়ের মতো,
আমি তোমার পাশাপাশি,খুব কাছাকাছি হয়ে, জিজ্ঞেস করি কেমন আছ মিস লিপিকা!
তোমার চোখজোড়ায় বিস্ময়ের দৃষ্টিতে দেখেছি তোমার হৃৎপিন্ডটা মোচর দিয়ে উঠলো,
আর দেখলাম এক আনন্দের উত্তাল ঢেউ ধাক্কা দিয়ে ঝাকিয়ে গেল তোমায়।
একটু সুমিষ্ট হাসিতে প্রস্ফুটিত গোলাপী ঠোঁটে বলে উঠলে,
আজ বুঝি এক যুগ পর মরা গাছে ফুল ফুটলো!!
কিভাবে তোমার বোবা মুখে কথার কলি ফুটলো ‘এস’
জেগে উঠলো ঝিমিয়ে থাকা পুরুষত্বের আবেগীর দুর্গম সাহস!
জানো,তোমার এ জিজ্ঞেসের অপেক্ষায় আমার নারীত্ব যৌবনের প্রহর কেটেছে
কতটি বছর?
প্রায় এক যুগ!
জানো, আমার যৌবন দেহে আসার পর পরই তোমার পরশ পেতে,
কত রাত উতলা হয়ে কষ্টানুভবে ঘুমিয়েও চোখের পাতা এক করতে পারিনি,
জানো না,আমি প্রায় আয়নায় দাঁড়িয়ে আমার উন্মুক্ত প্রশস্ত যৌবনা বুক দুটোতে,
তোমার ছবিটা দিয়ে সারাশির মতো চেপে একটু প্রশান্তি নিতে চেষ্টা করেছি।
কতবার শাড়ী পড়ে তোমাকে দেখাতে চেয়েছি, দেখো তো আমাকে কেমন লাগছে,
কিন্তু কাকে দেখিয়েছি জানো ‘এস’তোমার নিস্প্রাণ ছবিটাকে।
এখনো প্রায় রাতেই একটু পুরুষের স্পর্শের পরশের আশায়,
সেই তোমাকেই সহস্র কল্পনায় এনে নি:শব্দে রাত্রি পার করি।
অথচ কিসের এক পারিবারিক দ্বিধাদ্বন্ধে দুজন আবাদহীন পতিত জমির মতো,
বছরের পর বছর নিস্ফল পড়ে আছি।
দীর্ঘ একটি যুগ কম মনে করতে পার ‘এস’?
৩৬৫ কে গুন করে দেখো, প্রায় এক যুগে কতটা দিন জীবন থেকে হারিয়ে গেছে।
অথচ তুমি জানো,প্রেমের একটা দিন বৃথা গেলে,
পুরো জগতটাকে যেন বিষের মত লাগে
কেন ওই গানটি তো প্রায়ই গাইতে-
‘একদিন তোমাকে না দেখলে বড় কষ্ট হয়,
সেইদিনটাই বুঝি আমার বড় নষ্ট হয়’।
তুমি সবই বুঝ ‘এস’,কারণ আমাকে ভালবেসে,
এই একুশ শতাব্দীর একজন লেখক হয়ে আমার নারী দেহের মতো,
কাগজের বুকে সাহিত্যের শৈলিতায় কলম চালিয়ে যাচ্ছ!
এখন বলো কেমন আছ ‘এস’?
আপ্লুত হয়ে আনন্দের অনুভূতি চোখের জলের সাথে মিশিয়ে বলি-
ভাল আছি লিপিকা;
কোথায় গিয়েছিলে?
কেন, স্কুলে-
হাতে দুটি ব্যাগ যে,ভাবলাম অন্য কোথাও গিয়েছিলে বোধয়-
ঠিক ধরেছ, বোনের বাসা থেকে ফেরা পথে ভাবলাম স্কুলটা করেই যাই,
তার মধ্যে বাচ্চাদের ক্লাশ,
খুব ভাল করেছো,
দাও একটি ব্যাগ আমাকে-
একটি ভেনও পেলাম না ‘এস’,তবে খোদাকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে,
তোমার সাথে আমার এক যুগ পর দেখা করিয়ে কথা বলালেন।
হ্যাঁ লিপিকা, মহান আল্লাহর কাছে আমারও অশেষ কৃতজ্ঞতা লিপিকা।
আমরা হাটতে থাকি কথা বলতে বলতে,বলা হয় পথা চলার সাথে সাথে,
এই এক যুগ পেরিয়ে যাওয়া নানা কথা,নানা স্বপ্ন বুনার কথা,
মাঝে মাঝে লিপিকার দেহের সাথে আমার দেহ কিসের এক চুম্বকের টানে,
নাকি যৌবনের এক আকর্ষনের টানে মিশে যেতে চাইছে ক্রমশ..
আচ্ছা লিপিকা,
কি ‘এস’
তুমি আর আমাকে ভূলে যাবে না তো?
কি বলছো ‘এস’!
ঐ দেখো তোমার ভাই সামনে পথ আগলে রেখেছে?
কিছু ভেবো না ‘এস’
চলতে থাকি আমরা,প্রায় সামনাসামনি হয়ে যাই লিপিকার ভাইয়ের,
যার জন্য ভেঙেছিল আমাদের এক যুগ আগের পবিত্র প্রেম,
আজ আবার অতি সামনে পড়ে যাই তার……….

[লিপিকার ভাই আসরাফ আলী মুন্সির সাথে দেখা হয়,তারপর কি হলো ঝগড়া হলো না অন্য কিছু--]
সকাল: ৬:৩৩ মিনিট, ৬জুলাই/২০১১ইং।

undefined

কাব্য গল্প:আমি এখন চা খাচ্ছি

[উৎসর্গ: মিসেস মুরুব্বীনীকে]

আমি এখন চা খাব চন্দ্রমল্লিকা;দু’কাপ চা বানিয়ে নিয়ে এসো
তুমি না ল্যাপটপের সামনে শব্দনীড় ব্লগে চোখ বুলিয়ে যাচ্ছ,
চা খাওয়া আর আমার সাথে গল্প করা সময় কোথায় তোমার?
নেটে বসলেই তোমার খানা-পিনার কথা বিলকুল মনে থাকে না,
কি যে বলো?
বলব না মানে,নিজের চোখেই তো দেখছি, তাছাড়া- তুমি কি জানো?
কি?
সব খবরই গোয়েন্দার মত টুকিয়ে রাখি,
ওরে বাপ রে,তুমি তো দেখছি অতি শীঘ্রই হোম মিনিষ্টার হতে যাচ্ছ?
জ্বি স্যার,ঠিক ধরেছ?
সপ্তাহে তিনদিন অফিস করো বাকি চারদিনই কম্পিউটারে ডুবে থাক,
আমাকে সময় দিতেই বললেই বেশ সুন্দর হাসিতে কাটিয়ে যাও,
খুব সহজ গলায় বলো, ব্যস্ত আছি প্রিয়…
আচ্ছা তুমি দেখছি দিন দিন শব্দনীড়ের গভীর প্রেমে জড়িয়ে গিয়ে
আমার কথা বিলকুল ভুলে যাচ্ছ?
ব্যাপার কি,১৪৪ ধারায় এসব বন্ধ করে দিব বিয়ের পর,বুঝতে পারছো?
জ্বি ম্যাডাম, মাননীয় হোম মিনিষ্টার!
আচ্ছা তোমার ডায়েরীর পাতায় কিছু প্রিয় লিষ্টে ওয়েব ব্লগারের নাম দেখলাম,
ওনারা কারা,জানতে পারি?
অবশ্যই জানবে মল্লিকা,আগে চা করে আনো,
তারপর না হয় চুমুকে চুমুকে সবিস্তারে বলে যাই
কফি না লাল চা খাবে?
লাল চা;সাথে আদা মিশিয়ে দিও,যাও কুইক।
যাচ্ছি বলে চন্দ্রমল্লিকা চা করতে যায়।
শ্রাবণ বৃষ্টি ঝরা বিকেল
প্রবল বৃষ্টির ধারা দেখে মনে হয়েছিল ঘর থেকে বেরোনোই দায়,
এক নিমগ্ন ভাবনা থেকে ফিরে এসে পিসিতে চোখ রাখি।
হ্যাঁলো দাদু কবি সাহেব শুধু ল্যাপটপ টিপলেই হবে,
না আমার দাদুমণি চন্দ্রমল্লিকাকে একটু——
রসিকতা করতে করতে কাছে এসে গা ঘেসে বসলেন
মল্লিকার দাদু প্রেমচন্দ্র রায়
ঠিক বলেছেন দাদু,দিন দিন কেমন যেন আমরা মানুষ থেকে
রোবটের মতো ডিজিটাল যন্ত্রমানবে রুপান্তরিত হতে চলেছি
ডিজিটাল মানব! বলো কি কবি দাদু ভাই?
হ্যাঁ দাদু,মানুষ এখন ডিজিটাল যন্ত্রমানব হয়ে যাচ্ছে দৌড়ে এসে বলে বর্ণালী
জানো দাদু,আমার এ হবু বর কবি সাহেবও সত্যি সত্যি যন্ত্রমানব হয়ে যাচ্ছে
চা নিয়ে এসে সহাস্যে বলল চন্দ্রমল্লিকা…
এখনকার কবিরাও দেখছি অত্যাধুনিক যন্ত্রমানব হতে চলেছে,
হাসির খৈ ফোঁটে সারা বাড়ির আঙিনা নেচে উঠে দাদুর হাসিতে
আড়ালে আঁচল টেনে মুখ ঢেকে হাসেন চন্দ্রমল্লিকা মা শ্রীমতি মাধবীবালা।
সারা বাড়ীর উঠোন জুড়ে যখন হাসির কল্লোল তখন কারেন্টের সুইচ অফ করে
চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে যায় কবি ও চন্দ্রমল্লিকা।
বাড়ীর উত্তর কোণে ছাতা বিস্তৃত নয় বছর বয়সী লিচু গাছ,
এই গাছটির নিচে এসে দাঁড়ায় কবি আর চন্দ্রমল্লিকা
জানো এই গাছটি আমার নিজ হাতে লাগানো
এই ভরা মৌসুমেও প্রচুর ফল ধরেছিল এই গাছটায়
চায়ের চুমুকের ফাঁকে ফাঁকে বলে মল্লিকা
তখন তোমার বয়স কত ছিল?
তের;
জানো আমি স্বপ্ন দেখি
কি দেখ?
তোমাকে বিয়ে করে দুটি ফুটফোঁটে বাচ্চার মা হবো,
পাকা লিচুর গায়ের রংয়ের মতো টকটকে রুপ হবে আমাদের সন্তানদ্বয়ের
জানো,আমার না মা ডাক শুনতে খুব ইচ্ছে করে,
আমার বান্ধবী লিতা বিয়ে করে বছর খানেকের মধ্যে মা হয়েছে,
এখন সেই ছোট্ট খোকা লিতাকে মা ডাকে কি প্রানবন্তই না করে তুলে
বলো না আমরা কবে বিয়ে করছি,
কবি নীরব!
এই শুনছো না কেন, কিছু বলছো না যে?
তোমার স্বপ্নটা খুবই সুন্দর মল্লিকা,
সত্যি বলছো?
হ্যাঁ সত্যি বলছি।
আচ্ছা মুরব্বী আজাদ কাশ্মির জামান ভাইয়াটা কে?
যার কথা মাঝে মাঝে গল্পচ্ছলে উল্লেখ করে থাক,
বেশ কয়েকটি কবিতা দেখলাম উৎসর্গও উনাকেও করেছ!
হ্যাঁ,মল্লিকা খুব পছন্দ ও ভালবাসি উনাকে,
উনি একজন ব্লগ পরিচালক,শব্দনীড় ব্লগটা উনার,
তাই নাকি?
হ্যাঁ তাই,আমাকে খুব আদর-স্নেহ করে থাকেন।
একদিন তেঁতুলিয়ায় চায়ের দাওয়াত দিয়ে আমন্ত্রণ জানাও না;
আচ্ছা তোমার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণটা জানিয়ে দিব
আর মুরব্বীনীসহ কিন্তু!
এই যুগল দম্পত্তিকে জানিয়ে দাও তেঁতুলিয়ায় আসার একটা নিমন্ত্রন
অনেকে তো অনেক সুন্দর সুন্দর দেশ-বিদেশ গ্রহেও হানিমুনে বের হয়
তেঁতুলিয়ার মতো ছোট্ট একটা শহবের ওনারা হানিমুন করতে আসুক না
ঠিক বলেছ দাওয়াত পৌছে যাবে।
তুমি কি জানো?
কি?
“যেখানে বাংলাদেশের প্রান্তিক শুরু তেঁতুলিয়া দিয়ে
হিমালয়ের পর্বতের আকাশ ছোঁয়ার এক নান্দনিক সৌন্দর্য
কাঞ্চনজঙা-দার্জিলিংয়ের রুপের ঐশ্বর্য্যরে বিলাস
বিস্তৃত চাবাগানের চোখ জুড়ানো স্বপ্নীল মায়াবি ছবি
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই জোনাকি আলোর হৈচৈ পড়ে
ঝি ঝি পোকার গুঞ্জনে মুখরিত হয় এখানকার চারপাশ
ডাহুকের ডাকে সরব হয় নদী মহানন্দার বুক কাশবন প্রান্তর
আকাশ থেকে চুয়ে চুয়ে পড়ে শিশির কণার মতো চাঁদ-জোৎস্নার আলো
নদী মহানন্দার জলের সাথে খেলা করে চাঁদ-জোৎস্নার ঢেউ।
ভারতের তারকাটার বেড়ার সাথে সারি সারি ল্যাম্পষ্টের রঙিন আলোয়,
এ নদীর বুককে তখন মনে হয় যেন সিঙ্গাপুরের কোন অভিজাত শহর।
পড়ন্ত বিকেলের সূর্যাস্তের আরেক মনোমুগ্ধকর চিত্রায়ন
উড়ন্ত পাখিদের ডানা মেলে অভূত দৃষ্টির পলকায়ন।
বলো এর চেয়ে নন্দিত ঐশ্বর্যের প্রকৃতি স্বপ্নের মতো একটা শহর,
পৃথিবীর আর কয়টা মানচিত্রে পাওয়া যাবে বলতে পার ম্যাগপাই?
চলো ওই যে দাদু ওরা আসছে কি কাজটাই না করে এসেছি আমরা,
হ্যাঁ মল্লিকা হাসাহাসির মাঝে কারেন্টের বাতি অফ করে দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যাওয়া
হি হি হি,ওই দেখো দাদু মাল কাছার দিয়ে কিভাবে আসছে,
ঠিক এই সময়েই মোবাইলটা বেজে উঠলো কবির,
মোবাইলটা চন্দ্রমল্লিকার বাম হাতের মুঠোয়,
ম্যাগপাই তোমার ফোন, রিসিভ করবো?
করো-
নাম্বারটা দেখে চমকে উঠে বলে এই নাম্বারটা কার?
১৮ জুলাই/২০১১।

[কম্পিউটার ডেক্সটপ পিসির সামনে কবি]


কাব্য গল্প: আমার চা খাওয়া শেষ হয়েছে

এই তোমার চা খাওয়া শেষ হলো?
শেষ না হলে তাড়াতাড়ি এক ঢোকে সব গিলে ফেলো
পাশের রুম থেকে বলে উঠে চন্দ্রমল্লিকা।
হ্যাঁ কেন;কোথাও ঘুরতে যাবে নাকি?
জ্বি স্যার,রওশনপুর আনন্দপার্কে যাব,যাও-
কোথায়?
পোশাকটা পাল্টিয়ে টিয়ে রঙের শর্ট পাঞ্জাবি ও কালো প্যান্টটা পড়ে নাও,
ওই পোশাকে তোমাকে খুব দারুণ মানায়।
আমি গোলাপী রঙের স্যালোয়ার-কামিজ পরছি
কেন শাড়ী পরলে হতো না?
না ম্যাগপাই,বিয়ের আগে কখনো শাড়ী পরবো না,
কেন?
খুব লজ্জা লজ্জা লাগে,তুমি জানো না, কলেজের সেই নবীন বরণের দিন,
কেন কি হয়েছিল?
নবীণ বরণের দিন শাড়ী পড়ে কিনা লজ্জা পেয়েছিলাম,
কেন?
সেদিন সকাল সকাল কলেজে গেছি নীল শাড়ীটা পরে,
অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে আমি আর সাহেদ ভাই টানা এক পক্ষ
রিহার্সেল দিয়ে আসছিলাম
অনুষ্ঠান চলছে খুব জাকজমকপূর্ণভাবে,
কিন্তু বদমাইশ বন্ধু রঞ্জিত দা আমার শাড়ী পড়া দেখে খুব টিজ করছিল,
বলো কি?
হ্যাঁ ম্যাগপাই,পরে উপায়ন্তর না দেখে আমি সাহেদ ভাইকে বলি,
এরপর যেন আমার সাথে মিথ্যা প্রেমিকের ভান করে সঙ্গে সঙ্গে থাকে
সাহেদ ভাই নাকি তোমার প্রাইভেট ছাত্র ছিল?
আর উনি ছিল কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক,
ফলে একদিনের শাসনে আর কোনদিন রঞ্জিতদা আমাকে বিরক্ত করে নি।
সাহেদ এখন কোথায়,জানো?
শুনেছি ঢাকায় এক নামকরা স্কয়ার ফার্মাসিটিকেলে ভাল পদাধিকারে চাকুরী করে
মুঠোফোনে কথা হয়?
না,তবে কয়েকদিন আগে শুনলাম- প্রথম মেয়ে সন্তানের বাবা হয়েছে,
ওর ঠিকানায় কিছু গিফট পাঠিয়ে দাও,
চলো একদিন ঢাকায়,কি বলো-
যাব,আচ্ছা রওশনপুর আনন্দপার্কে আমরা কে কে যাচ্ছি?
আমি বর্ণালী,দাদু আর তুমি,
কিসে যাচ্ছি?
দাদুর ইচ্ছে ছিল মাইক্রোতে,কিন্তু বর্ণালীর ইচ্ছে টমটম গাড়ীতে,
তাছাড়া তেঁতুলিয়া এখন আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়েছে এই ডিজিটাল সভ্যতা।
তুমি কি রেডি মল্লিকা?
হ্যাঁ,আশ্চর্য তুমি দেখছি ফ্ল্যাক্স থেকে আরও এক কাপ চা ঢেলে নিয়েছো,
ব্যাপার কি,যেতে চাচ্ছ না নাকি? বল ব্যস্ত আছি?
আচ্ছা মল্লিকা দাদু যদি সবসময় আঠার মতো লেগে থাকে,
তাহলে আমরা আড়ালে প্রেম করবো কিভাবে?
ওরে বদমাইশ কোথাকার! কান ছিঁড়ে ফেলবো-
আরে আরে করছ কি কান ছিঁড়লো তো-
ছিঁড়–ক,যাও যটপট ড্রেসটা পাল্টে নাও,
মল্লিকা ওই ড্রেস তো আমার বাসায়,
দাঁড়াও নিয়ে আসছি-বলে তার রুম থেকে মিনিট তিনেক পরে
চকচকে একটা নতুন প্যাকেট সামনে এনে ধরে বলে-এই যে,
তার মানে এই কাজটা আগেই করে রেখেছ?
গত সোমবার পঞ্চগড় গিয়েছিলাম আমার কিছু কেনাকাটা করতে,
সঙ্গে তোমার জন্য দু’ সেট নিয়ে নিলাম।
খুব ভাল করেছ,অসংখ্য—
থাক থাক স্যার,তার বদল আমাকে দুটি চুম্বন গিফট্ দাও,
বাকি থাকলো,পরে আদায় করে নিওয়,
জ্বীনা স্যার বলে জোর করে দুটোর জায়গায় চারটা আদায় করে নেয় মল্লিকা।
এই মল্লিকা কেমন চুম্বন দিলে যে তোমার লিপিষ্টিক রাঙা গোলাপী ঠোঁট-
কেন কি হয়েছে?
দেখ ইয়া বড় চারটি চুম্বনের দাগ আমার গালে বসে গেছে
দাঁড়াও মুছে দিচ্ছি
অত:পর কবি পোশাক পাল্টে নতুন পোশাকে সুসজ্জিত হয়,
বাড়ীর আঙিনায় দাঁড়িয়ে একের পর এক হর্ণ দিয়ে চলেছে,
টমটম গাড়ীর ড্রাইভার বশির,
কই কবি দাদু তোমার হলো বিকেল তো তিনটা ছুঁই ছূই
বলতে বলতে আসলেন দাদু প্রেমচন্দ্র রায়।
আপু আপু,ভাইয়া ভাইয়া তোমাদের হলো দৌড়ে এসে বলল বর্ণালী
কবি বারান্দায় এসে বর্ণালীকে দেখে চমকে গিয়ে হাস্যজ্জলে বলে,
বাহ্ বর্ণালী তোমাকে তো পরীর মতো লাগছে!
এতো সুন্দর সৌন্দর্য এতোদিন কোথায় লূকিয়ে রেখেছিলে?
সত্যিই বলছেন ভাই,লজ্জারাঙা চোখে বলে বর্ণালী
এই চলো বলে মল্লিকা কবির বাম হাত ধরে টেনে এনে উঠোনে এসে দাঁড়ায়,
দাদু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে এই প্রেম য্গুলের দিকে,
দুজনকে খুব সুন্দর মানিয়েছে।
মল্লিকা দাদুর ঘোর ভেঙে দিয়ে বলে,এভাবে কি দেখছো!
দেখছি আর ভাবছি-
কি?
আমিই তোর বর হই,তোকে বিয়ে করে নতুন জীবন লাভ করি।
সমস্যা নাই দাদু, রাজী আছি,শুধু দিনটুকু তোমার জন্য বরাদ্দ গল্পের জন্য।
আর রাতটুকু?
আমার আর কবির
খুব পেকে গেছিস না,চল
চলো বলে টমটম গাড়িতে উঠে পড়ে সবাই,
এশিয়া হাইওয়ে রোড হয়ে টমটম চলতে থাকে রওশনপুর পার্কের দিকে,
কবির ইয়ার ফোনে বাজতে থাকে-
“আকাশের হাতে আছে এক রাশি মেঘ
বাতাসের আছে কিছু গন্ধ
রাত্রির গায়ে জ্বলে জোনাকি…………….।
[আমরা একটি মুহুর্তকে সাহিত্য ভাষায় রুপ কিংবা কাব্য গল্পে রুপ দিতে গিয়ে শেষ করতে পারি না,তাহলে জীবনের তো কতই মুহুর্ত আছে,তা কি করে শেষ করে সম্ভব! ভাবলেই আমি অবাক হই। আমার ইচ্ছে ছিল রওশনপুর আনন্দপার্কে চন্দ্রমল্লিকা-কবির সাথে চমৎকার বিষয় ফুটে উঠে,সেটাও তুলে ধরতে চেয়েছিলাম,কিন্তু পারলাম না এই পর্বে ]
২৩ জুলাই/২০১১।

কাব্য গল্প: প্রান্তিক সীমায় এক সন্ধ্যা

কবি একটা গল্প বলবে, আজ এই কাব্য ঝরা প্রান্তিক সন্ধ্যায়
কাব্য ঝরা সন্ধ্যা পেলে কোথায় চন্দ্রমল্লিকা?
কেন এই কথা বললে তুমি?
তুমি জানো না; যেখানে কবি আছে সেখানে কবিতার ফুল ফোঁটে,
কবিতার গুঞ্জন আছে।
হ্যাঁ মল্লিকা ঠিক বলেছ,যেখানে গীতিকার-সুরকারও আছে
সেখানে তো গানের সূরের মোহনায় এক আনন্দের ঢেউ তুলে।
তো হয়ে যাক আমাদের এই প্রান্তিক কবিতা-গানের মুর্ছনা।
আমরা বসে আছি প্রান্তিক সীমায় রুপালি সন্ধ্যায়
সূর্যটা ডুবু ডুবু ভাবে এখনো হেলে আছে পশ্চিমাকাশে,
রক্তজবা রুপে লাল গোলাপীয়তা সেজেছে হয়েছে এক অন্যান্যা।
ত্রিশ-পয়ত্রিশ হাত দূরেই নিকটস্ত প্রতিবেশী ভারত
আমাদের বসার স্থান হাতিফাঁসা ব্রিজ খ্যাতনামে নন্দিত
১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেগেই ভেঙে ফেলা হয় ব্রিজটি
সেই থেকে বিভাজন হয় ভারত-বাংলাদেশের এ মহাসড়কের যান চলাচল।
এখান থেকে কলকাতার অভিজাত শহরটি বেশি দূরে নয়,
পঁচিশ-ত্রিশ কিলো দূরে আছি আমি আর চন্দ্রমল্লিকা।
ভারতের তারকাটা বেড়ার সাথে সারি সারি ল্যাম্পষ্টের রঙিন আলোয়
আমার বাড়ীর উঠোন পশ্চিমা হেলে পড়া চাঁদ-জোছনার মতো মনে হয়।
আচ্ছা ম্যাগপাই এই ব্রিজটি হাতিফাঁসা হলো কেন,জানতে চায় মল্লিকা।
ব্রিটিশ আমলে এখান দিয়ে সারি সারি হাতি ফেঁসে যেত
সবচে মজার ব্যাপার হলো ব্রিজটি ছিল সম্পূর্ণ ইটের গড়া,
তবে ইটের কোন ভাঙা কংক্রিত নয়;
তাহলে?
আমারও মাথায় ধরে না মল্লিকা;সম্পূর্ণ ইটের গাঁথুনি বিন্যাস দেখে
কোন প্রকৌশলী এই ব্রিজটি নির্মাণ করেছিল ভেবেছি অনেকদিন ধরে,
ব্রিজটি ছিল অবিকল কালভার্ট আকৃতির প্রকান্ড গোল,
ভাঙার সময় পাশে থেকেই দেখেছিলাম এই দৃশ্য।
এই দেখো এই ব্রিটিশ রাস্তাটা সোজা চলে গেছে কলকাতা
আর উত্তরে বাংলাবান্ধা হয়ে অভ্যন্তরে চলে গেছে ভারত-নেপাল,দার্জিলিং।
এখান থেকে দার্জিলিং কতদুর ম্যাগপাই?
বাংলাবান্ধা থেকে ৮০ কিলোমিটার।
আর নেপাল,ভূটান ও চীনের দূরত্ব?
নেপাল ৪৪ কি.মি.,চীনের ১০০ কিলোমিটার আর ভূটানের ৭০ কিলোমিটার।
কলকাতায় যাওনি কখনো?
তবে হাটতে হাটতে প্রায় কলকাতার কাছাকাছি চলে যেতাম,
ওই দেখছো বি¯তৃত চা বাগান এটা তখন ছিল আনারসের
বিশাল এলাকা জুড়ে শুধুই আনারস আর আনারস বাগান
আনারস খেতে না?
খেতাম না মানে; খেতে খেতে জ্বিহবার ছাল তুলে দিতাম।
কেমনে যেতে,এখনকার মতো তখন কি কঠিন নিয়ম-বিধি ছিল?
তেমন একটা ছিল না মল্লিকা?
আমরা তখন দলবেধে গরু-মহিষের ঘাস কাটতে যেতাম,
শীতকালে ফজরের আযান হওয়ার পরপরই,
আর বর্ষাকালে দিনেই,
তখন প্রচুর ঘাস ছিল ঘন্টাখানিক ঘাস কাটলে বয়ে আনাই মুশকিল হতো
এপারে যারা পাহাড়া দিতো তাদের জন্যও ঘাস কাটতাম আমরা।
কখনো বিএসএফের হাতে ধরা খাওনি? ধরলে কি হতো?
কিছু বিএসএফ ছিল খুবই বদমাইশ গোচের,বিশেষ করে শিখরা
শিখরা তো খাস ভারতীয় তাই না ম্যাগপাই?
ঠিক বলেছ মল্লিকা। ওরা কাউকে হাতে নাতে ধরতে পারলে;
রাইফেলের বুট দিয়ে মারতে মারতে কাহিল করে দিতো,আর
মাস তিনেক জেল খাতিয়ে বাংলাদেশে এনে পার করে দিত।
তুমি কখনো ধরা পড়নি?
আমিও কয়েকবার ধরা খেয়েছি তবে শিখদের হাতে না,
মুসলমান বিএসএফের হাতে,তবে কিছুই হয় নি;
কিভাবে পার পেয়েছিলে?
সবচে ভালো হতো যদি তোমরা ভারতীয় হতে?
কেন!
জানো না?
না-
ভারতীয় বউ-শ্বাশুরী ও শ্বশুর পেতাম
খুব ভালো হতো তাই না ম্যাগপাই?
হুঁ
ওরে বদমাইশ কোথাকার,কান ছিঁড়ে ফেলবো।
উহু;কান ছিঁড়লো তো-
ছিঁড়–ক,তারপর কি হলো বল-
সবচে মজার ব্যাপার হলো আমরা যেখানে বসে আছি
এটাকে বড়বিল্লা বলে।
ওই যে দেখছো পশ্চিম সীমান্তে ভারতীয় চা বাগান,
ওখানে কিছু বাঙালি বসতিতে মুসলমানরা বাস করে
এই বড় বিল্লায় ৯৫,৯৬সালে ভারতীয় ছেলেদের সাথে
ফুটবল খেলতাম
আর যখন বিএসএফের সাথে ঘাস কাটতে গিয়ে ধরা খেয়ে যেতাম
বিএসএফ কি বলতো?
প্রথমে জিজ্ঞেস করতো তোমারা বাড়ী-
চট করে বড় বিল্লা বলে দিতাম,তখন বিএসএফ বলতো যাও যাও—
যখন বাংলাদেশের বুকে পা রাখতেই বিএসএফের চোখ পড়লেই
বলে উঠতো বাঙালী ম্যা আচ্ছা বদমাইশ হ্যা,আমাকো ধোঁকা দিতাহু
হি হি হি…
চন্দ্রমল্লিকা তুমি হাসছো?
হ্যাঁ,আমার কবি কো আচ্ছা রসিক হ্যাঁ।
একবার কি হয়েছিল জানো?
না বললে কি করে জানবো?
এক ইটের ঝাটায় বিএসএফের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল কালাম নামে এক যুবক
বলো কি, কিছু করলো না?
আরে না;তখন তো এখনকার মতো গুলি করার নিয়ম ছিলো না।
শুধু গালি দিত বাঙালী ম্যা আচ্ছা জারুয়া হ্যু
হি হি হি
ওই দেখছো টাওয়ারটা?
হুঁ
ওই টাওয়ারে উঠে এপারের বাঙালিরা সেই হ্যামিলনের ইদুরের মতো
বিএসএফের খাবারগুলো খেয়ে ফেলতো
এতো বদমাইশ বাঙালি?
হ্যাঁ,তবে কিছু বিএসএফের আচরনের জন্য এই কাজগুলো করা হতো।
তুমি জানো বাঙালি একটা সাধারণ পাবলিক দেখলে তখন-
ওরা প্রচন্ড ভয় পেত,
তাই নাকি?
হ্যাঁ,সেদিন ডা.দাউদ ও চারুমান্নানের সাথে এই প্রান্তিক গল্পটা শেয়ার করেছি
ওনারা কারা?
ওয়েবসাইট জনপ্রিয় লেখক ব্লগার,
তার মানে তোমার প্রিয় বন্ধু লিষ্টে বন্ধুমহল তাই না ম্যাগপাই?
হ্যাঁ। ঠিক ধরেছ,দেখো তো কয়টা বাজে?
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা।
চলো উঠি
চলো-
আমরা উঠে দাঁড়িয়ে বাসার উদ্দেশে হাটতে থাকি
পিছনে পড়ে থাকে খানিকটা আড্ডা দেওয়া হাতিফাসা ব্রিজের,
সবুজ ঘাসের বসার জায়গাটা।
১৯ জুলাই ২০১১।


কাব্য গল্প: হাইওয়ে রোডে একটি বিকেল

আমিও রোজা রাখবো ম্যাগপাই বলে চন্দ্রমল্লিকা,
কবির চোখ জুড়ে বিস্ময় ঝরে বলে কি মল্লিকা’
খুব অবাক হচ্ছ তাইনা ম্যাগপাই!
হ্যাঁ মল্লিকা,অবাক হবো না মানে; তুমি তো হিন্দু ধর্মাবলম্বীর?
আমার অবয়ব-মুখমন্ডলে কি লেখা আছে যে,আমি হিন্দু!
আচ্ছা তোমার-আমার রক্তে কি সাদা-কালো যে বিভাজন হবে?
আমিও তোমাদের মতো রোজা রাখবো,নামায পড়বো,
ভোর সন্ধ্যায় পবিত্র গ্রন্থ কুরআন তেলাওয়াত করবো।
তুমি কি কুরআন পড়তে পারো?
না, তবে আমি শিখবো,তুমি ব্যবস্থা করে দাও,
আর আমি টেইলার্সে আমার জন্য দুটি বোরকা বানাতে দিয়েছি।
কি বলো!
খুব অবাক হচ্ছো তাই না?
এখন থেকে নগ্ন সভ্যতা থেকে দূরে থাকতে চাই
থাকতে চাই নষ্টামীর সব বেড়াজাল থেকে।
কোথায় থেকে শিখবে কুরআন,বাসা থেকে না আমার এখান থেকে?
তোমার এখান থেকেই,তুমি একজন ধর্মীয় শিক্ষক ঠিক করো,
যাতে পবিত্র মাসেই কুরআন হাতে নিতে পারি।
খুব ভালো কথা; হুজুর না মহিলা শিক্ষক কাকে পছন্দ তোমার?
অবশ্যই ধর্মশীলা,পর্দাশীলা মহিলা শিক্ষিকা হতে হবে
আমি ভিন্ন ধর্মের হলেও নিজের আদর্শতাকে
তোমাদের ইসলামী পর্দায় আসিন থাকতে চাই।
জানো কুরআনের একটি আয়াতের বাংলা তরজমা পড়েছি,
কী?
“ইসলামই একমাত্র আমার মনোনীত ধর্ম”
আচ্ছা মহিলা শিক্ষিকা দেখবো,চলি-
আজ কি তুমি ব্যস্ত?
না,তেমন না; কেন কোথাও ঘুরতে যেতে চাও নাকি?
হ্যাঁ,তুমি সঙ্গ দিলে এশিয়া হাইওয়ে রোডে হাটতে হাটতে
আজকের সোনালী বিকেল উপভোগ করতাম!
খুব চমৎকার ভাবনা;বেশ চলো।
চলো।
ভ্যান নিব?
নাও।
কবি আর মল্লিকা বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়ায়
কবির পিছনে পাশের বাড়ির কিছু মহিলা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে
মাঝে মাঝে কানাঘুষা করে বলে,শুনছো নি-
ফটিক (কবির বাল্য নাম) কি হিন্দু হয়ে যাচ্ছে নাকি?
কি যান্,ভাবসাব তো ভালা দেহাইতেছে না;
এতো সুন্দর পোলা শিক্ষা-দীক্ষায় খুবই ভালা,
ঠিক কইছো,শরম নাই মুসলমান অইয়া কিভাবে হিন্দু মেয়ের সাথে-
পোলাটা মানসম্মানটা খাইলো—।
পৃথিবীর সবচে কোলাহল জায়গা সেটাই যেখানে একাধিক নারী এক হলেই,
গল্পের হাট বসে,
ফিসফিসের ঢেউ উঠে,
কথায় কথায় ফের কখনো ঝগড়াও বাঁধে।
যেখানে এক ডজন পুরুষ থাকলেও এরকম কোলাহলের দৃশ্য,
খুব কমই চোখে পড়ে;
প্রতীক্ষার প্রহর শেষে খালি ভেন আসে সামনে দাঁড়ায়,
ভ্যানচালক রহিম মিয়া সহাস্যে বলে,ভাইজান কোথাও যাইবেন মনে অয়?
হ্যাঁ,দেখ ম্যাডাম কোথায় যেতে চায়,
এশিয়া হাইওয়ে রাস্তায় হাটতে যাবো,
ও বুঝছি,চড়ুন-
কবি-মল্লিকা ভ্যানে চড়ে,
ভ্যান চালক সিটে চড়ে প্যাট্টেল মারে,
চলতে থাকে ভ্যান এশিয়া হাইওয়ে রোডের উদ্দেশে,
পিছনে তাকিয়ে থাকে ফিসাফিসানী মহিলারা,
ভ্যানের চাকার চক্রে ঘুরতে থাকে এই সভ্যতার যত কৃষ্টি কালচার।
জানো ম্যাগপাই,আমার খুব ইচ্ছে জীবনের প্রথম রোজার ইফতার,
তোমার সাথে করতে;
তুমি কিন্তু ওইদিন বাসায় এসেই ইফতার করবে,বুঝতে পারছো?
জ্বি ম্যাডাম,
আর প্রথম ইফতারির বাজেটটা হবে আমার পক্ষ থেকে,
আজ থেকেই বুঝি সেহরী খেতে হবে-
এত কিছু তুমি জানো কি করে মিস ম্যাডাম?
কিছুদিন হোস্টেলে ছিলাম,রমজানে দেখতাম ছেলেরা রোজা রাখতো;
সেহরী খেত আর সন্ধ্যায় প্রফুল্ল চিত্তে সবাই মিলে ইফতার করতো।
জানো,এই ইফতারি সময়টা যেন নিঝুম শান্ত মনে হয়,
কেউ ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে,কেউ ইফতারি বানাচ্ছে,
আবার সবাই চাতক পাখির মতো অসম ধৈর্য্যরে মাঝে,
আযানের অপেক্ষা,কখন আযান হবে?
কি অদ্ভূত,সামনে এতো সুন্দর খাবার থাকলেও আযান ছাড়া,
কেউ খাচ্ছে না।
ঠিক কইছেন আপা,এই সময়টা আমার কাছে জান্নাতি মনে অয়,
বলে ভ্যানওয়ালা রহিম মিয়া,
আর ভাইজান (কবি) সেই ছোট্ট থেকেই রোজা রাহে,
দেইখ্যা আইতাছি,
তাই নাকি রহিম ভাই,
হঁ আপা,কোন রাস্তায় যাইমু
আজিজ নগর-
আচ্ছা বলে রহিম মিয়া ভ্যান নিয়ে চলে আজিজনগরের ভিতর দিয়ে,
রাস্তার দুপাশ ঘিরে এই শ্রাবণের বর্ষায়,
ভরা যৌবনায় উজ্জীবিত যেন ষোড়শী তরুণীর রুপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ভ্যান এসে থামে এশিয়া হাইওয়ে রোডে,
আপা এইতো এশিয়া হাইওয়ে রোড,
রহিম ভাই আপনার ভাড়া কত দিতে হবে,
দ্যান ইনসাফ কইরা,
এই নাও ৫০ টাকা,চলবে—
হঁ আপা,অইব।
এই নামো, ভ্যানেই বসেই থাকবে,
ও,কোনদিকে যাবে,পূর্বদিকে না পশ্চিম দিকে?
পশ্চিম দিকে..
চলো বলে হাটতে থাকে এশিয়া হাইওয়ে রোডে পশ্চিম দিকে,
এক জোড়া কপোত-কপোতী যুগলে হাটতে থাকে রাস্তার ধার ধরে,
পশ্চিমাকাশে সোনালী সূর্যের আলোর কিরণ ছড়িয়ে পড়ছে বিমুগ্ধ মননে,
কবি-মল্লিকা গল্পের মোহনায় হাটতে থাকে হাইওয়ে রোডটায়
এক মোহচ্ছন্ন বিকেলে।
[ প্রশ্ন থেকে গেল-চন্দ্রমল্লিকা তো হিন্দুধর্মের মেয়ে,সেকি সত্যি রোজা রাখবে]

কাব্য গল্প: একদিন পৃথিবী আর আমি

একদিন পৃথিবীর কাছে জানতে চাইলাম
এখানে আমার দায়িত্ব কি,আমার করনীয় কি,
তোমার দায়িত্ব পরম স্রষ্টার আরাধনা,আনুগত্য স্বীকার করা
যিনি তোমাকে-আমাকে সৃষ্টি করেছেন,তুমি তারই ইবাদত কর,
কেন জ্বীন-ইনসানকে একমাত্র তাঁরই ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।
আমি অবিভূত ও অনুকম্পিত হই আর আমার দায়িত্ব,
ফের জিজ্ঞেস করি;
যতদিন বেঁচে থাক কাজের কাজ কর,মহান স্বত্বার হুকুম পালন কর,
হেলা-খেলায় জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করো না,
যে জীবন তুমি পেয়েছ তা ওই সৃষ্টিকর্তার কাছে শোকরিয়া আদায় করো,
মনে রেখ যেদিনটি তোমার হারিয়ে গেল তা আর ফিরে আসবে না,
তাই আজকের দিনটি তোমার কি করা উচিত,আগামীকালের জন্য প্রস্তুত থাকো,
প্রত্যেকটি দিন আদম সন্তানকে এই আহবান করে ডাকতে থাকে,
আমি তোমার জীবন থেকে চলে গেলে আর ফিরবো না।
মনে করতে পার খোদা তাআলা ইচ্ছে করলে তোমাকে মানুষ না বানিয়ে,
ভিন্ন কোন জাতিতে রুপান্তর করতে পারতেন।
আমি আবার শিহরিত,পুলকিত হই,বিস্ময়ে শুনতে থাকি পৃথিবীর বাক্যলাপ।
জানো মানব,একমাত্র তোমরা ইনসান ও জ্বীনরাই আমার বুকে অদ্ভূত সৃষ্টিকৃত প্রাণী,
তবে জ্বীনদের চেয়ে তোমরা আরও ভয়ঙ্কর,অদ্ভূত!
কেন হে পৃথ্বি?
তোমরা রক্তপাত ঘটাও,এক একজনকে খুন কর,মানবতাহীন কতক পাষান হৃদয়ী হয়ে থাক
পৃথিবীর একমাত্র কোলাহলপূর্ণ,বাধ্য-অবাধ্য জাতি তোমরা মানব!
মনে পড়ে তোমাদের অতীত সভ্যতায় অবাধ্যতার জন্য বানর বানানো হয়েছিল,
তোমরা হিংস্রুক,ভয়ানক,পাথর হৃদয়ী কতক আচরন করে থাক,
তোমরা নিজেদের পাপের রাজ্যে লিপ্ত থেকে মুমিনদেরকে কষ্ট দিয়ে থাক,
নিজেদের পাপের কারণে অতীতে একটার পর একটা সভ্যতা ধ্বংস হয়েছে,
কুরআন-ইতিহাস পড়ে দেখ কি পরিণতি হয়েছিল অবাধ্যচারীদের!
আমি পৃথিবী দেখেছি এই ধ্বংসীল দৃশ্য,যুগে যুগে এক একটি নতুন সভ্যতার উদ্ভব;
আমি পৃথিবী আগে যেমন ছিলাম এখনো তেমনি আছি,
মাঝখানে পার হয়েছে তোমাদের গণনাকৃত সময়-কালের বিবর্তন ধারা।
বলতে পার পৃথিবীর বয়স এখন ছয়শ কোটি বছর!
পৃথিবী আমি তোমার বুকে যুগ যুগ বেঁচে থাকতে চাই,বলি আমি
সম্ভব নয় মানব,কারণ তুমি আমি উভয়েই সৃষ্টিকর্তার আইনে ধ্বংসীল
তবে তুমি তোমার সৃষ্টির মাঝে বেঁচে থাকতে পার,
যতদিন আমি পৃথিবী ধ্বংসের আগ পর্যন্ত বেঁচে থাকি,
আমি তোমাদের মানব কৃত্বীর অনেক কিছুই স্বাক্ষর করে রেখে চলেছি,
ইবনে সীনা,আল বেরুনী,হেরোডোটাস,সক্রেটিস,প্লেটো-এরিস্টল,রবিঠাকুর,কাজী নজরুল,
এরকম বহু মণিষীর নাম,তাঁদের সৃষ্টি স্বত্তা তোমরা এখন জানতে পারছ।
তোমরা মানব সৃষ্টির পূর্বে আমার বুকে জ্বীনরা বসবাস করতো
কিন্তু তারা বেঁচে থাকতে পারেনি,কারণ তারা ছিল শৃঙ্খলহীন রক্তপাত ঘটানো জাতি,
ফলত তারা ধ্বংস হয়েছ তাদের পাপে আমি বিষাক্ত হয়ে উঠেছিলাম।
যার ফলে আল্লাহ পাক তার ফেরেশতাদ্বীয়কে দিয়ে সমূলে ধ্বংস করেছিলেন,
অত:পর তোমাদের আগমন হে মানব!
উত্তম কাজের ফলাফল সব সময় প্রশংনীয়-ই হয় মানব;
আমি পৃথিবী সব কিছু দেখেই চলেছি এই কাল-মহাকাল ধারায়।
এখন আছি ধ্বংসের অপেক্ষায়;
তোমরাও দাঁড়িয়ে আছ এই ধ্বংসের অপেক্ষায়,
তোমাদের এ যান্ত্রিক সভ্যতায় বেড়ে চলেছে পাপ আর পাপাবলীর বসত
যান্ত্রিক ক্যাটাগরিতে তোমরা উন্মোচন করে চলে নগ্ন নর-নারী যৌন বিলাসী চিত্র
যেখানে লজ্জা থাকার কথা;সেটা আজ বিলুপ্ত হতে চলে,
এখন চলছে নারীর দেহ প্রদর্শনের প্রতিযোগিতার বিপনন বিলাস।
তোমরা যন্ত্রের গোলাম হয়ে যাচ্ছ ক্রমশ;
তাহলে কি পৃথিবীর মানব সূচনা হয় নগ্ন থেকেই? আমার প্রশ্ন
হ্যা ঠিক বলেছ মানব,মানুষ পৃথিবীতে নগ্ন হয়েই জন্মগ্রহন করে,
ফের নগ্নটা নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়,
বলা যেতে পারে পৃথিবীর মানুষের সূচনা নগ্ন সভ্যতার মিল আজকের সভ্যতা
এর মাঝখানে তোমাদের যন্ত্রের ব্যবহারই তোমাদের লজ্জা খেয়ে ফেলছে সুস্থ্য সভ্যতা।
বলতে পার আইয়ামে জাহেলিয়া হতেও এই যান্ত্রিক সভ্যতা আরও অন্ধকারের চেয়েও কম নয়;
তবে হতাশ হবার কিছু নেই,তোমরা এমন এক আখেরী যামনার নবীর উম্মত
যাকে সৃষ্টি করতে না পারলে আমাকেও সৃষ্টিও করতো না,
হ্যাঁ মানব তোমরা খুব ভাগ্যবান নবীর উম্মত
আহম্মদ মোস্তফা (সা) মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানিত রাসুল
যার নূরে আমি পৃথিবী পর্যন্ত গ্রহ-নক্ষত্ররাজি দ্বারা আলোকিত
তোমরা তোমাদের রাসুলকে অনসরন কর,
যার উম্মতরা সর্বপ্রথমই চিরশান্তির বাগিচার জান্নাতে প্রবেশ করবে
তোমরা কি জানো না,তোমাদের মুহম্মদী নবী (সা) এর নাযিল হয়েছে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ,
পবিত্র আল কোরআন!!
যা কেয়ামত পর্যন্ত এর কোন বিন্দুমাত্র রদবদলের কোন আশংকা নেই,
তোমরা এ কোরআনকে বুকে আগলে রাখ,
মানব,তুমি যেহেতু সৃজনশীল একজন রচনাকার,
তুমি তোমার লেখার মাঝে তাওহীদের বাণী ছড়াতে পার,
মনে করতে পার,তোমাদের খাস দিলের তওবা মহান আল্লাহর কাছে অতি পছন্দনীয়,
তোমরা অল্প ইবাদতে জান্নাতে যেতে পার,
নিশ্চয়ই তোমরা লাইলাতুল ক্বদরের নাম শুনেছ,
যার ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম!!
তোমাদের একমাত্র কাজ শয়তানকে মন থেকে উৎখাত কর,
তুমি লিখেছিলে না,পৃথিবীটাই আমার কবিতার কাব্য মঞ্চ
তুমি এমন কাব্য রচনা কর যেখানে উন্মাদের পদাচারণ না থাকে,
তোমার সৃষ্টিটাও ইবাদতের একটা সারবস্তু হতে পারে,
তুমি সেভাবে তোমার সৃষ্টির সম্ভার সাজিয়ে দাও,
যেখানে আমি পৃথিবী তোমাকে আ-স্মরণীয় করে রাখি।।
[অসমাপ্ত]

কাব্য গল্প: যার জন্য কবি সেই আমার কবিতা

আমি তোমাকে ভালবেসে হয়েছি কবি
তোমাকে ঘিরেই আমার সমস্ত কবিতার উৎপত্তি
তুমি আমার কবিতার প্রাণ;
তোমাকে ঘিরেই কবিতা হয়ে উঠে আমার
এক একটি কবিতা বৈচিত্র্যের সমাহার।
তুমি আমার কবিতার দেবী
তোমাকেই আমি বার বার পুঁজো করি
হৃদয়ের কানায় কানায় তোমার উপস্থিতি
আমার সাহিত্যের ভাষার উৎস তুমি।
যখন আমি কবিতা লিখতে বসি
দু-চোখের পর্দায় সহসাই ভেসে উঠ তুমি
ভাষ্যকারের মত অকপটে বলতে থাক তুমি
আমার কবিতার আনজাম ভাষাগুলি।
নইলে এত ভাষা কোথায় পাই?
যে ভাষাগুলো কখনো কল্পনাই করিনি আমি?
আমার কবিতা লেখা সব অনুপ্রেরণা তোমার
নইলে এতো কবিতা লেখার সাধ্য ছিল আমার?
তোমাকে ভাল না বাসলে হয়তো হতাম না কবি,
মানুষগুলো চিনতো না আমায়
আর ডাকতো না আমায়
লেখক-কবি-সাহিত্যিক…….।
আমার অন্তরে বসে থাকা কবির কবি
সমস্ত কবিতার অঙ্কন শিল্পী
তুমি আর্ট কর আমি লিখি
হয়ে উঠে বিলকুল কি আশ্চর্য কবিতাগুলি!
আমি ভাবতেই পারিনি কখনো কবি হব আমি
অথচ সেই কবিত্বভাব ফোঁটালে তুমি;
আমার অন্তর-মস্তিস্কে বসে;
আমাকে চালিত কর কবিতা লিখনে]
আমি যে তোমায় ভালবাসি কত,
তাতো আমার কবিতাগুলো হরহর করে বলে দিবে।
কি আশ্চর্য সুন্দরী মানবী তুমি!
তোমাকে দেখলেই কেমন যেন পাগল হয়ে যাই আমি।
তোমাকে আমার জন্য বুঝি সৃষ্টি করেছেন,
মহাময় বিধি!
এত সুন্দর তুমি প্রকৃতিও হার মানে;
অপরুপ পূর্ণিমার জোস্না তোমার মোহনীয় রুপে;
নিস্প্রভ হয়ে যায়!
তোমাকে কল্পনায় আমি আমার অন্ধকার ঘরে উপস্থিত করি;
দেখি আমার অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘর-
তোমার নূরালোকিত রুপে অসম্ভব আলোকিত,
আমার আর ইলেক্ট্রিক বাল্ব জ্বালাতে হয় না।
পৃথিবীর প্রথম আনন্দময় সকাল ছিল সেটাই;
যে সকালে প্রথম তোমার-আমার জীবনে
ভালবাসার ফুল ফোঁটে পৃথিবীকে স্বাগত জানিয়েছিল।
আর সে সকালে তোমার হাত ধরে বলেছিলাম আমি তোমাকে ভালবাসি।
তুমিও বলেছিলে-‘আমিও তোমাকে ভালবাসি ‘এস’
সেদিন আমরা দু’জনই হাত হাত ধরে বলেছিলাম-
আজ থেকে আমরা শুধু-‘দুজন দু’জনাকেই ভালবাসব’।
তখন তুমি ছিলে ফুটন্ত গোলাপের মত,
ফুট ফোঁটে মোহানীয়া যৌবনে পা রাখা বালিকা।
যেন স্বর্গ থেকে সরাসরি পাঠিয়েছিলেন স্বয়ং স্রষ্টা;
যে রুপের বর্ণনা আজও আমি দিতে পারি না।
এখনও তুমি স্বর্গীয়াই যেন রয়ে গেছ
পুত:পবিত্রতায় নিজেকে অক্ষত রেখেছ;
কিন্তু হলো না, তোমার সাথে আমার-
প্রথম সকাল বেলার ফুল ফোঁটা পবিত্র প্রেম;
আজ অধ্যাবদি পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে।
সেই একা-একাই রয়ে গেলাম দু’জন দু’জনা।
পাড়ার ওই দুষ্টমতি লোকেরা সহ্য করতে পারল না;
তোমার-আমার ঐশ্বর্য ভালবাসার ঈর্ষায়;
অথচ দেখ ওই দুষ্ট লোকেরা আর বখাতেরা;
আমাদের-ই ছিল বন্ধু-বান্ধব-আর নিজ পরিবারের—।
তারা কিনা তোমার-আমার পরিবারে,
লাগিয়ে দিয়েছিল হিংসের দাবদাহের জ্বলন্ত অন্তরক্ষয়া আগুন,
এই আগুনে ছাড়খাড় হয়ে গেল দু’টি পবিত্র সবুজ হৃদয়।
ফলে তুমিও ভেঙে পড়লে;
ভেঙে পড়লাম আমিও;
মাঝখানে তো চলতে লাগল এভাবেই;
দীর্ঘ একযুগ নীরবতা।
দীর্ঘ এই যুগের নীরবতার ফাঁকে আমি হয়ে উঠলাম;
তোমাকে ঘিরেই-এই ২১ শতাব্দির একজন তরুণ কবি;
যার কবিতা এখন এখানে-সেখানে,
পত্রিকায় পাতায় পাতায় এমনকি ওয়েবসাইট ব্লগগুলোতে;
বিস্তর ছড়াছড়ি।
আমি পূর্বেই বলেছি আমার সমস্ত কবিতার-
মূল উৎস তুমি;
সবুজ প্রাণ তুমি;
মরুভূমির তৃষ্ণা তুমি;
শুস্ক মরুভূমির জলধারা তুমি;
তুমি কবির কবিতা!
মাঝখানের এই ১ যুগের নীরবতায়-
কেউ কি পেরেছি আমরা
একটি রাত শান্তিতে ঘুমাতে!!
জানো, সেদিন তোমাকে এক পলক দেখে;
কি মনে হয়েছিল?
মনে হয়েছিল তুমি আমারি রয়েছ।
তুমি আগের থেকে কত্তো লাবণ্য হয়েছ!
যৌবনে (২১শে) এসে;
তোমার কি অসম্ভব পরিবর্তন!!
জানো, মাঝে মাঝে যখন তোমাকে দেখি;
সত্যি-ই আমার হার্ট-বিট বেড়ে যায়!
আর তোমাকে দেখে থাকতেই ইচ্ছে করে,
কেন যে তুমি আমার কাছ থেকে-
কাছাকাছি থেকেও—দূরে থাক??
জানো, তোমাকে ঘিরেই রচনা করলাম;
গতবছর-লেখক সাহেবের পাত্রী চাই উপন্যাসটি।
ও তোমাকে তো বলাই হয়নি,
গত ২০০৫ সালের ৬ এপ্রিল রাতে-
যে স্বপ্ন;
এখনো আমি এক মুহুর্তে ভুলতে পারি না!!
জানো, কি ঘটেছিল সেই স্বপ্নে;
সংক্ষেপে তোমাকে কবিতায় খুলে বলছি-
সেই স্বপ্নে তুমি-আমি পালিয়ে বিয়ে করি;
আমার নামে মামলাও করে তোমার পরিবার;
আমরা উভয়-ই প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায়,
মামলাতে আমার কিছুই হয়নি।
বিয়ের পর তো শুরু হলো আমাদের গোছগাছ সংসার,
মনের মত সাজিয়ে ফেলি আমাদের ছোট্ট সংসারটি,
আস্তে আস্তে কাটতে লাগল সুখী দাম্পত্যের আনন্দের দিনগুলি,
এক বছরেই তোমার কোল জুড়ে এলো-
এক ফুট ফোঁটে কন্যা সন্তান;
নাম রাখলাম-তামিমা সুলতানা তিন্নি।
তার বছর তিনেক পর একটি ছেলে দিয়ে;
মহান আল্লাহপাক তোমার আরেকটি কোল আলোকিত করলেন।
ছেলেটির নাম রাখলাম-তামিম আহমেদ লিংকন।
এ দু’টো ছেলে-মেয়ে নিয়ে বেশ আনন্দেই কাটতে থাকে;
আমাদের আনন্দময় ঘর সংসার।
অবশেষ একদিন ১৫তম বিবাহ বার্ষিকীর রাতে,
একটি মজার ঘটনাই ঘটে;
ওই রাত্রে আমাদের ছেলে-মেয়ের জন্মদিনও পালন কি,
মহাধুমপান করে!
এর সাথে পড়ে আমাদের ১৫তম বিবাহ বার্ষিকীর রাত,
কি সারপ্রাইজ ওই দিন-রাতটি তাই না!!
রাত গভীর;
তুমি-আমি বিবাহ বার্ষিকীর রাতে সাজানো রঙিন ফুলশয্যায়,
আমরা মগ্ন হই প্রেম গল্পের মোহনার ভিতর;
যখন নিবির রাত আমাদের নিদ্রায় আচ্ছন্ন করল-
আমরা ঘুমি পড়লাম স্বামী-স্ত্রী,
যেন স্বর্গীয়-ই ছিল রাতটি।
হটাৎ ঘুম ভাঙলেই হয়ে যাই একা!
১৫ বছর দাম্পত্যের স্বপ্ন ভাঙা;
এটা কি ট্রাজেডি স্বপ্ন নয়!
এটা কি বিচিত্র স্বপ্ন নয়!!
এটা কি স্মরণীয় স্বপ্ন নয়!!!
আমি সেরুপ কষ্ট পেয়েছিলাম,
যেরুপ কষ্ট পেয়েছিলাম-
সেই ভালবাসার ফুল ফোঁটা ভোরে,
সেদিন চলছিল তোমার-আমার উপর;
যেন তীব্র আঘাত হানা প্রলয়করী সিডর কিংবা নারগিস ঝড়!
কি সেই মুহুর্তের দিনগুলি,
মনে আছে তোমার?
সেই স্বপ্ন আর স্নিগ্ধ সকালের মন ভাঙা,
সাত সাগর জলের সমান কষ্ট নিয়ে,
পাথর চাপা হৃদয় নিয়ে-
নীরবে বয়ে চলেছি ক্লান্তময় পথিকে,
তা কি কখনো বুঝতে চেষ্টা করেছ?
জানো, আমার কষ্টগুলো এখন শেয়ার করি,
কাগজ আর কলমের মধ্যস্থটায়-
চোখের জলগুলো কলমের কালিতে মিশ্রিত করে,
সাজাই তোমাকে ঘিরে এক একটি বেদনার্ত কবিতা।

কাব্য গল্প: চন্দ্রমল্লিকার সোনালী-রুপালি সন্ধ্যা

পৃথিবীর এমনি এক রুপালী স্নিগ্ধ আগমনিত সন্ধ্যা
বিকেলই বলা যায়। ঘড়ির কাটায় বিকেল পাঁচটা পেরিয়ে চলন্ত কাটা।
কবি সাকা-চন্দ্র মল্লিকা এই আবহিত বিকেল-সন্ধ্যা উপভোগ করতে
বেরিয়েছে ঘর থেকে বাহিরে পদ হাটুনির যাত্রায়।
দিনটি শুক্রবার। ঝরঝর বহমানিত দখিনা শীতল শিহরন জাগা বাতাস
কবি বসে আছে ডাকবাংলোর তীর ঘেঁষা নদী মহানন্দার উত্তর কিনারায়,
মুখে শরতের ফোঁটা কাঁশফুলের ডগা চিবুনির মাঝে ফুটে উঠছে নান্দনিক দৃশ্য
মল্লিকা অনতি দূরে মহানন্দার চরে আধো জলে পায়ে গল্পে মোহচ্ছন্ন
সূর্যাস্তের রক্তিম লীলিমা হাসছে মৃদুতায় নদী মহানন্দার শান্ত স্রোতের ঢেউয়ে
এপারে-ওপারে অগনিত দর্শক চোখ মেলে এই সূর্যাস্ত অবাক নয়নে দেখে
অদূরেই গল্পে রত তিন নিন্দুক কি মনে করে চলে এসেছে,
এই লোভনীয় সূর্যাস্ত নীলিমা রাঙা প্রেমের টানে উম্মাদনার ডাকে।
পঞ্চাশার্ধ বয়েসে শুভ্র কেশী-দাঁড়ি গোঁফে পানি চিবুনির মর্দামীর একটা ভাব
এই শোভনীয় বিকেলটা ফুটে উঠেছে যেন অনন্য অনুপমায়।
বেনু মন্ডল,ফটিক চান মৌল্লা,আক্কাস জোয়াদ্দার কবির এলাকায় সম্ভ্রান্ত খচ্চর মাতব্বর
সহসাই চোখ পড়ে কবির বসার তীরের দিকে বেনু মন্ডলের,সহসাই বলে উঠে-
ওই তো আমাদের গাঁয়ের সাকা নামের কবিতা পাগল ছেলেটা না?
মাথায় ঝাকরা চুল,চোখে চশমা হাতে অত্যাধুনিক ল্যাপ্টপ,
কী দিব্বি কবিতা পাগলের মতো লিখে চলে।
হ্যাঁ হ্যাঁ,ওই ছেলেটাই তো ঝাকরা চুলের চশমা ছেলেটা,আচ্ছা ও এখানে কেন?
হাত চুলকাতে চুলকাতে বলে আক্কাশ জোয়াদ্দার।
আরে নদী মহানন্দার রুপ কবিতায় সাজালেই কি আর পেট ভরবে?
আরে ধুররু; ও এখানে এসেছে কোন মাইয়া-টাইয়ার সাথে যদি প্রেম-জারি
গোঁফ টানতে টানতে বলে বেনু মন্ডল।
আহ্-হা পেতে নাই ভাত,করবে মাইয়ার সাথে প্রেম! বলে ফটিক মোল্লা
ঠিক বলেছেন,খুব তো সেদিন বাবু প্রশান্ত রায় আমাদিগকে লেকচার দিয়ে গেল,
তাঁর অ্যাডভোকেট হওয়া মাইয়াটা নাকি ওই ছেলেটার সাথে বিয়ে দিবে,
আরে বলা সহজ,কাজের বেলায় সেটা রুপ দিতে কতবার মানুষের মন পরিবর্তন হয়
আক্কাস জোয়াদ্দার যেন মুখটা কুচিয়ে বাকা হাসি টেনে বিদ্রুপাচ্ছলে বলে।
আসলে আমার মনে হয়,আমাদের অপমান করাই ছিল সেদিনে মুখ্য উদ্দেশ্য,
আচ্ছা এই সভ্যতায় কবির চেয়ে কাকের সংখ্যা বেশী কীনা? বলে ফটিকচান মোল্লা।
অবশ্যই,বাংলাদেশের যে হারে কাক প্রতিদিন কা কা করে উড়ে বেড়ায়,
তার চেয়ে কবিদের উন্মাদনায় বিচরিত সারা বিশ্বের চারপাশ
তাছাড়া যন্ত্র সভ্যতায় মানুষের কবিতা-সাহিত্য পড়ার সময় কোথায়,
চারদিকে মোবাইল এমপিথ্রি,ভিডিও নোংড়ামীতে মগ্ন এ ডিজিটাল সভ্যতা,
জাহেলিয়ার যুগের চেয়ে এ যুগকে কম বলা যায় কিসে বলুন তো?
সেদিন বাজার থেকে রাত ন’টায় বাসায় ফিরছিলাম,
বাসার নিকট ব্রীজটায় এসেই দেখি দশ-বার বছরের ছেলেরা মোবাইলে ন্যাংটা ছবি দেখছে,
হায়রে সভ্যতা! ভাবতেই অবাক লাগে। বলে উঠেন-আক্কাস জোয়াদ্দার।
জানি না কি যুগরে বাবা! আমার ছেলেটা সারারাত ল্যাপটপ নিয়ে ঘুমহীন রাত কাটায়,
একদিন মেয়ে সুশীলা বলছিল ভাইয়া,ফেসবুকে কি সব চ্যাটিন করিস,ঘুমাবি না?
আমি আড়ালেই থেকেই শুনতে পাচ্ছি এ ভাই-বোনের কথোপকথন। আমি বুঝতে পারছি
এখনকার কবিদের যন্ত্রন সভ্যতায় অনেক পরিবর্তন,এখন আর কবিরা-
হাতে কলমে কবিতা না লিখে কম্পিউটারে কি সব টিপাটিপি করে চলে,
বলেন বেনু মন্ডল।
এই যে শুনেন;পিছন থেকে বিনীত স্বরে সালাম দেয় চন্দ্রমল্লিকা
সালামের আওয়াজ পেতেই মুখ ঘুরিয়ে চোখ পড়ে তিনজনেরই এক নয়োনা যুবতীর দিকে
এতো সুন্দর! গোলাপ রাঙা রক্তিম শিশির ঝরা ঠোঁটে মিহি কন্ঠস্বর!
মুখ শ্রাবস্তির সৌন্দর্য্যময় অনুপম মার্ধুয্যিত রুপ,সাত স্তরে ঢাকা যৌবনা বুক,
তিন নিন্দুক দৃষ্টি-ই যেন ‘থ’অক্ষরে এসে হোঁচট খাচ্ছে বারংবার
এই পঞ্চাশার্ধ বয়সে কটিবদ্ধ পোষাকের অভ্যন্তরে জেগে উঠে আরেকটা মাস্তুল শরীর,
শিহরনে ঝাকিয়ে তুলে ঝিমন্ত যৌবনে হঠাৎ কোন বানের ধাক্কায় তোড়ে।
তিন নিন্দুকের জ্বিহবায় লোলুপ দৃষ্টি দেখে বুঝতে পারে চন্দ্রমল্লিকা
বদমাইশ,শয়তানটাইপের বুড়োগুলো মন থেকে উঠে আসে সদুচ্চারিত শব্দ-বাক্য।
বেনু মন্ডল ফটিকচান মৌল্লাকে খোঁচা দিয়ে চোখের ইশারায় কথা বলতে চান,বলেই ফেলেন-
কে আপনি বলুন তো,আকাশ থেকে নামলেন না ধরা থেকে এলেন?
কি মনে হয়? চন্দ্রমল্লিকার বিনয় জবাব।
মনে হচ্ছে আকাশ থেকে নেমে এসেছেন,কি নাম আপনার?
চন্দ্রমল্লিকা
চন্দ্রমল্লিকা! তার মানে আপনি অ্যাড.চন্দ্রমল্লিকা বাবু প্রশান্ত রায়ের মেয়ে!!
হ্যাঁ। কেন চমকে উঠলেন যে?
আপনার নাম শুনেছি,কিছুক্ষন আগেও আপনাকে জপ করলাম। বলতে লাগলেন বেনু মন্ডল
ধন্যবাদ। আচ্ছা ওই যে নদীর তীরে বসা সাকাকে চিনেন নিশ্চয়ই?
হ্যাঁ হ্যাঁ চিনবো না মানে; আমাদের গাঁয়ের ছেলে কবি,বড়ই উন্মাদ;
উন্মাদ!
তাই তো,কবিরা তো সাধারন উন্মাদই হয়,
মানে?
উন্মাদ মানে জানেন না,পাগল দেখছি আপনি?
ঠিক বলেছেন,ওই যে পাগল কবিকে আমি আগামী ১১.১১.১১ তে বিয়ে করতে যাচ্ছি
এ্যাঁ,(তিনজনই অবাক) বলুন কি? দেখুন এতো বড় ভূল কেন করতে যাচ্ছেন?
তাছড়া আপনি হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিজাত বংশের মেয়ে,
কে বললো আমি হিন্দু, আমি তো এখন মুসলমান। ইসলামী শরীয়াহ মতে,
এই রমজানে ত্রিশটি রোজা,পাঁচ ওয়াক্ত নামায,তারাবীহ্,সাদকাতুল ফেতর আর,
আর কি?
আর মহান আল্লাহর পবিত্র গ্রন্থ কুরআনুল মাজীত তেলাওয়াত করেছি।
যা মুসলমান হয়ে এই তিন জনের মধ্যে একজনও আপনারা রোজা রাখেন নি?
এই মেয়ে রোজা রাখিনি মানে? অগ্নিশর্মা হয়ে বলে উঠেন ফটিক চান মৌল্লা।
না আপনারা কেউ রোজা রাখেন নি,দিনের বেলায় চোরের মতো পর্দার আড়ালে,
হোটেলে বসে কি দিব্বি ভাবে নাস্তা,চা,পান,সিগারেট খেয়েছেন,বলেন মিথ্যে বলছি?
না আসলে,মিথ্যা আসলে বলেন নি? জানেন আমরা কারা?
আপনাদের চিনে এক ফোটা লাভ আছে? শয়তানদের চিনতে কাঁঠ খড়ি পোড়াতে হয় না।
এই মেয়ে তুমি কিন্তু সীমা পেরিয়ে যাচ্ছ?
সীমান্তেই তো আছি,দ্যাখুন না পাশেই ভারত; মাঝখানে শুধু নদী মহানন্দাটাই ব্যবধান।
মল্লিকা তুমি কাদের সাথে তর্ক করছো?
এরা সমাজের ঘুনে ধরা কালক্রীত,তীর থেে উঠে এসে বলে কবি
ঠিক বলেছেন স্যার, এরা জুব্বা,পায়জামা দাঁড়ি রাখলেও মুখোশের আড়ালে বেঈমান
বলে কোর্ট-টাই পরা ঝাকরা চুলের ক্রেজে ভরা করা ভদ্রলোক
আরে অথর্ব তুমি?
জ্বি স্যার, আমি সেই অথর্ব যার দুটি পা ছিল না,অথচ আমাকে এক,
সোনালী ভবিষ্যত উপহার দিয়েছেন।
স্যার ইনি-ই কি চন্দ্রমল্লিকা ম্যাডাম,যার কথা কাব্য গল্পে ছত্রে ছত্রে বলে যাচ্ছেন?
হ্যাঁ অথর্ব,ইনিই তোমার ম্যাডাম।
ম্যাডাম স্লাইমালাইকুম,আমি অথর্ব চন্দ্রমল্লিকার দিকে মুখ করে বলে অথর্ব,
ওয়ালাইকুম আসসালাম,আমি শুনেছি আপনার গল্প,কেমন আছেন?
জ্বি ভাল,আমাকে আপনি তুমি করে বলবেন।
আচ্ছা বলব,কখন এলে?
এই তো কিছুক্ষণ আগে; স্যার এরাই কি সেই কট্টোর তিন নিন্দুক?
যাদের কথা “ওই যে ছেলেটি কবিতা লিখে” কাব্য গল্পে উল্লেখ করেছিলেন?
হ্যাঁ অথর্ব,চলো বাসায়,
প্লিজ স্যার একটু সময় দিন,আমার মাথার মুকুটকে অসম্মান করবে,
আমি কি করে সহ্য করব বলুন?
এই যে আপনি ক্যাডা,এই পাগলদের সাথে উড়ে এসে জুড়ে বসে এক হলেন?
বলে ফটিক চান মোল্লা
আমি কাওসার আহমেদ অথর্ব,কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার আর
এক প্রাইভেট ভার্সিটির কম্পিউটার লেকচারার।
আর এই যে আপনার-আমার সামনে সাকা নামে কবি পাগল লোকটি,
ইনি কে জানেন? আমার মাথার বাদশাহী মুকুট,
আমার দুটি পা ছিল না,অথচ সেই পা হীন ছেলেটাকে পড়াশুনা করিয়ে
সোনালী ভবিষ্যত দিলেন,
যার নিন্দা এতোক্ষন কি সব উপমাচ্ছলে করে যাচ্ছিলেন,
জানেন কি? আমার সারা জীবনের অর্জিত সম্পদ স্যার,
সারা জীবন বসে খেলেও শেষ হবে না,
কাকে বলছেন আপনারা আমার স্যার দরিদ্র ,পাগল।
সত্যিকার মানুষ তো সেই যে, সে শুধু দিতেই জানে,পাওয়ার আশা করে না,
অন্ধকে পথ দেখান,অসহায়ের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন গভীর মানবিকতায়,
এই পঞ্চাশার্ধ বয়েসে কেন সব নিন্দার প্রার্থনায় শরিক হোন, আর কত দিন….।
নিন্দুকরা আর কথা বলে না; মাথা নীচু করে পথের উল্টো দিকে হাটা শুরু করে,
মহান পাক নিন্দুকদের মাথা নিচু করেই রাখেন,
যাতে তারা সম্মানের উপহার থেকে বঞ্চিত থাকে।
অথর্ব তুমি কখন এসেছ,একা না পরিবার নিয়ে? বলে কবি
স্যার আমরা বিকেল তিনটায় হোটেল সীমান্তের পাড়ে উঠেছি,সঙ্গে-
আমার স্ত্রী মোহনা,মেয়ে দৃষ্টি ও ছেলে মাহদী এসেছে,
কোথায় ওরা?
ওই তো মহানন্দার চরের বুকে হেটে বেরিয়ে এদিকে আসছে,
আসার সময় শুধু আপনার কথাই বলতেছিল মোহনা,বলছিল-
বাবাকে যেন প্রথম সালাম করি আমি,আর দৃষ্টি ও মাহদী বলতেছিল,
বাবা আমরা আগে দাদুকে সালাম করে আর্শীবাদ নেব,বললাম ঠিক আছে।
সাকা চলো আমরা তীরের কাছাকাছি এসে দাঁড়াই ওরা আসুক,
আর আমার বাসায়-ই ওদের প্রথম নিমন্ত্রন,বলে চন্দ্রমল্লিকা
আচ্ছা চলো।
সূর্য ডুবতে শুরু করেছে,লাল আভায় আকাশ যেমন রাঙা বধু সেজে অপরুপা,
মহানন্দার জলে ভেসে উঠে নীল রঞ্জিত উজ্জ্বল হাসি।
খুব কাছাকাছি হয় মোহনা,দৃষ্টি ও মাহদী,
অথর্ব মাহদী ও দৃষ্টিকে ডাক দিয়ে বলছে এই দ্যাখো তোমাদের দাদু,
দাদু দাদু বলে দৌড়ে আসতে থাকে দৃষ্টি মাহদী
পশ্চিমাকাশে লাল রেখাটা আস্তে আস্তে বিলীন হতে থাকে সন্ধ্যাকে বিদায় দিয়ে।
[প্রিয় ব্লগার বন্ধুরা ইচ্ছে ছিল,অথর্বর স্ত্রী মোহনা,মেয়ে দৃষ্টি ও ছেলে মাহদীর সাথে চন্দ্রমল্লিকার একটা অন্যরকম সম্পর্কের প্রানবন্ত আড্ডা জমে উঠে। চন্দ্রমল্লিকার সাথে কবির এই বেজোর সালে ১১.১১.১১ তেই বিয়ে করতে হতে চাচ্ছে,ইচ্ছে ছিল এই পর্বে তা তুলে ধরতে ]

কাব্য গল্প: চন্দ্রমল্লিকার শ্বেতরাঙা জোস্না

চন্দ্রিমা রজনী
প্রকৃতির বুকে জোনাকির আলোর পসরা ছড়ানো,
বিমুগ্ধ জোছনায় স্বপ্নীল চারপাশ;
জোছনার কিরণে চুয়ে চুয়ে পড়ছে শুভ্র শিশির,
গাছের পাতার ফাঁকের ভিতর চাঁদ ঝিলিমিলিতে খেলে
ছায়ার ভিতর বিন্দু বিন্দু আলোকখন্ড মুক্তোর মতো মায়াবিতে হাসে,
প্রকৃতি পেয়েছে আজ স্বর্গের সান্নিধ্যের স্পর্শন।
এমন অপরুপিত শ্বেত-জোছনাঙ্গ বছরের ক’দিন হয়,
তা মল্লিকার আজ বোধগম্য নয়;
রাত্রি দশটা পেরিয়ে নিবির রজনীর দিকে হেটে যাচ্ছে বিমুগ্ধ চাঁদ,
অষ্টাদর্শীর যৌবনা রুপে সেজেছে চাঁদটা কোন শ্বেতাঙ্গ পরীতে,
ধরা সেজেছে যেন এক স্বর্গীয় উদ্যানে।
চন্দ্রমল্লিকা বসে আছে আর এফ এলের লাল চেয়ারটায়,
কবির উঠোন জুড়ে রুপসী স্নিগ্ধ চাঁদনী আলোয় বিকশিত রুপ,
পথ চেয়ে বসে আছে কবির অপেক্ষায়,কখন সে আসে?
প্রিয়জনের অপেক্ষায় অস্বস্তি লাগলেও বিরক্তটা অবশেষে মধুর
জোয়ার-ভাটায় খেলে নানা আনন্দ-বেদনা।
চন্দ্রমল্লিকা চেয়ে আছে নীল আকাশের বুকে শ্বেতাঙ্গ জোসনার দিকে,
পৃথিবীর বুকে ক্রমশ: নেমে আসছে যেন রুপালী চাঁদটা,
মনের ভিতর গেয়ে উঠে বেবী নাজনীনের সেই গানটা-
“এমনি এক রাত ছিল আকাশে চাঁদ ছিল,
বাতাসে গায়ে ছিল সুরভী,
তোমার দু’চোখে আমার দিকে আধার
ঢেকেছিল পৃথিবী।
তুমি-আমি মুখোমুখি বসে স্বপ্ন এঁকেছি
মনেরও আঙিনা ভরে ছিল নীল জোসনার বৃষ্টিতে
আমার হৃদয়ে ভালবাসা……………।”
নিরুপম সৌন্দর্যময় মায়াবি জোসনার রাত,
মল্লিকা অপেক্ষার প্রহর কবির আসার পথে চোখদুটো উজ্জ্বল্যমান
এখনো সাকা আসছেনা কেন?
কিন সুন্দর অপরুপ শোভামন্ডিত শান্তনিবির জোছনালী রাত,
আলোর মাঝে খেলা করছে ঋতুহীন শারদীয় বসন্ত,
খোদার এ নিখুঁত সৃষ্টি আলোক উপগ্রহ চাঁদের দিকে তাকালে,
চোখ দুটোয় বিস্ময়ের সাথে পলক দৃষ্টিতে শিহরনে হৃদয়াকম্পন হয়,
যেন খোদা তাআলা স্বর্গীয় দ্বার খোলে রাখে এই চন্দ্রিমা রজনীগুলোতে,
ফুলের ঘ্রানে বাতাসও যেন যৌবনে উল্লেসিত বেগবানে মুখরিত হয়,
সারা প্রকৃতিকে নাচিয়ে তুলে মৃদু বাতাসে প্রেমের মশগুলে বিভোর হয়।
সবুজ ধানের রুপা শিরশির বাতাসে দুলতে থাকে,
শিশিরের বুকে হাসে ঝলমলে গগনের এই শ্বেতাঙ্গ জোসনা,
মল্লিকার মনে উসখুস কবির আসার অপেক্ষায় চেয়ে থাকা পথ,
গাছের ছায়ায় পাতার ফাঁক দিয়ে বিন্দু বিন্দুতে খেলে চাঁদ জোসনার রোদ।
কবি বাসায় আসে ঘড়িতে রাত দশটা তের মিনিটে,
ক্লান্তময় দেহ-মনে ঘর্মাক্ত শরীরে অবসাদগ্রস্ত,
আশ্বিন মাসের এক কাঠফাটা রোদ বয়ে গেছে সমস্ত দিনটা তার,
বাসায় ঢুকেই অবিভূত হয় চন্দ্রমল্লিকাকে চেয়ারে বসে থাকতে দেখে,
আজ সপ্তাখানিক পর ওর সান্নিধ্যটা যেন অদ্য খুব প্রযোজন,
এই কয়দিন মল্লিকা ছিল দাদু প্রেমচন্দ্র রায়ের অতিথি আমন্ত্রনে,
আজই বুঝি বাসায় ফিরে এখানেই এক দৌড়ে…।
ম্যাডাম স্লামালাইকুম, কেমন আছেন?
ওয়ালাইকুম আসসালাম,জনাব ভালবাসি । আলহামদু লিল্লাহ্ । তুমি ভাল তো!
হ্যাঁ ভাল। উঠোনে সাইকেলটা স্টান্ড করতে করতে বলে কবি।
কখন এলে?
সন্ধ্যায়। এ কী তুমি ক্লান্ত দেখছি ?
হ্যাঁ,সারাদিনটা আজ কিছুটা পরিশ্রমের ভিতর অতিবাহিত হয়েছে।
নাও এ চেয়ারটায় বসো; আমি তোমায় বাতাস করে দিচ্ছি,গোসল করবে ?
না; ফোন করেছিলে বোধয়?
করেছিলাম; দেখলাম ব্যস্ত,তাই আর দ্বিতীয়বার চেষ্টা করিনি।
ভাল করেছ;
যাও হাত-মুখ ধুয়ে খেতে এসো,আজ রুপালি øিগ্ধ জোøা উপভোগ করতে বেরুব,
তুমি হিমু আর আমি রুপা হয়ে আজ রাতভর হাটব আর হাটব,
হাটতে হাটতে চলে যাব সীমান্তের সবুজ চা বাগানের দিকে,
যেখানে বসে চাদর জড়িয়ে সাহিত্য রচনায় মগ্ন থাকতে,
আমরা সেখানে বসে পাশে পুকুরের দিকেও চোখ রেখে রাত্রিটা কাটিয়ে দিব,
হা হা হা; খুব সুন্দর আইডিয়া তো! তাই বলে রাত এগারটায়!
ভয় পাচ্ছ বুঝি! এসো খাবার খেয়ে নাও।
যাও খাবার রেডি কর আমি আসছি,
এসো—বলে মল্লিকা কবির রুমে চলে যায় আনন্দে,
সামনে তার ছায়াটাও আনন্দে এদিক সেদিক নড়াচড়া করতে এগিয়ে চলে।
রাত পোনে এগারটা। কবি ফ্রেস হয়ে রুমে এসে দস্তরখানায় খেতে বসে,
মল্লিকার মুখে গোলাপ রাঙা সুমিষ্ট হাসি,
ওই হাসিতে মল্লিকার মুখ আরও রাঙিয়ে তুলে প্রেমদর্শন করে,
পড়নে লাল কামিজের সাথে সাদা স্যালোয়ার; উড়নাটা সরে আছে বুক থেকে,
মল্লিকার মায়া দৃষ্টির ভিতর সবুজাভ বাগানে ফুটন্ত ফুলের সমাহার,
কবি লক্ষ্য করে এমন সুনয়না চোখ আর কারও আছে কীনা সচরাচর দেখা মেলে না,
কি হলো সাকা; এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে কি দেখছ?
ওহ্ তাইতো (চমকে উঠে), মা কোথায়?
পড়শী ফিরোজা মামীর বাড়িতে কিছুক্ষন আগে বেরিয়েছেন,
কি রান্না হয়েছে জান?
জানবো কেন? তবে নিরামিষ হলেও ছয় প্রদ ভর্তার আয়োজন আছে।
বাহ্ সুন্দর আয়োজনের ভিতর উন্নতমানের খাবার।
কালি জিরার ভর্তা অবশ্যই আছে মনে হয়?
জ্বি জনাব,খাওয়া শুরু করুন।
আপনিও শুরু করুন মাননীয় অ্যাডভোকেট চন্দ্রমল্লিকা ম্যাডাম,
হি হি হি..
একটা রসিকতার নাটকের ভিতর খাওয়া চলতে থাকে কবি-মল্লিকার।
রাত্রি সোয়া এগারটা। কবি আর মল্লিকা বের হয়েছে ঘর থেকে রাস্তায়
প্রকৃতির জোসনালোকিত স্বপ্নীল মোহাচ্ছন্ন পরিবেশ,
চারপাশে ঝি ঝি পোকার গুঞ্জনে ফুল ফোটা মধুর শব্দে পদচল,
দখিনা শির শির মৃদু হাওয়ার তোড়ে জোনাকিদের ছোটাছুটিতে আলোর বিচ্ছুরণ
মল্লিকা যেন গুন গুন করে মধুর কন্ঠে গাইছে-
“ ঘুম ঘুম ঘুমিয়ে গেছে মায়াবি এ রাত,
ঘুম ঘুম পিঠ পুড়েছে রুপালি ওই চাঁদ
শন শন বাতাসে তে মেলে জানালা
প্রেম প্রেম খেলা করে দুষ্ট জোসনা….।”
কবি যেন কান পেতে শুনছে সেই সুরেলা গুনগুন গানটি,
দেহ-মনে ছড়িয়ে পড়ছে এ গানের সুরের মোহনা।
মল্লিকা মাঝে মাঝে অসম্ভব সুন্দর গান গায়,
সৃষ্টিকর্তা যেন সুন্দরের ভিতর অনেক কিছুই প্রতিভা ঢেলে দেন,
যে প্রতিভায় কবি মল্লিকাকে দেখে অবিভূত হয়।
কলেজ জীবনে মল্লিকা সেরাদের সেরা ছাত্রী-ই ছিল,
গানে গানে কখনো মাতিয়ে তুলতো সেসময় আয়োজিত মঞ্চগুলো,
গীতিকার হিসেবে প্রসংশার ভাষাই মেলে না;
মাধুর্য্য শৈলীতে উপস্থিত বক্তব্যতেও বেশ পারদর্শী মল্লিকা,
তাই হয়তো খোদা তাআলা ওঁকে আইনজীবিতে কবুল করেছেন।
জানো সাকা কখন থেকে আমি ভালবাসতে শুরু করেছি?
না তো;কখন থেকে?
আচ্ছা সেটা না হয় পরে বলা যাবে? চলো হাতি ফাসা ব্রীজ,
এতো রাতে ! ওখানে যাওয়া ঠিক হবে না ম্যাডাম,
তার চেয়ে চলুন ডাকবাংলোয়,নদী মহানন্দায় তীরে বসে-
জলের সাথে চাঁদ-জোসনার মাখামাখাতিতে ডুবে যাব
তাই হবে জনাব,চলুন।
তাহলে এসো,কিন্তু হাটতে হাটতে ?
চলো না হাটতে থাকি, এর মধ্যে ভ্যান পেয়ে যাব,
আচ্ছা চলো,একটু সুমিষ্ট মুচকি হাসির ভিতর
শান্ত ছোট্ট নি:শ্বাস ছেড়ে বলে মল্লিকা।
পথের বুকে চারপা হেটে চলেছে।
নিবির শান্ত প্রকৃতির বুকে পত্রশাখার অভ্যন্তর হতে,
ঝিলিমিলি আলোয়,
এমন স্বর্গীয় রুপ চন্দ্রিমা রাতেই ফুটে উঠতে পারে।
জানো সাকা,এই যান্ত্রিক সভ্যতার মানুষ খুব কমই জোসনারাত
উপভোগ করে
এখনকার মানুষ আর প্রকৃতির রুপে মাতামাতি করে না,
হারিয়ে যাচ্ছে যেন দিন দিন চন্দ্ররজনীকে ঘিরে যত উৎসবকাল।
ঠিক বলেছ মল্লিকা।
জানো না সাকা; যন্ত্র সভ্যতায় মানুষ এখন কৃত্রিম আনন্দে মুখর
সিডি,ভিসিডি,মোবাইল গেম,ফেসবুকে এখনকার মানুষের কাটে যান্ত্রিক সময়,
এখন আর মানুষ রাত জেগে প্রিয় মানুষদের জন্য চিঠি লিখে না,
সভ্যতা যখন ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে রুপ নিয়েছে যান্ত্রিকতায়,
মোবাইলে এসএমএস,ফেসবুক চ্যাটিন,ভিডিও কলিং মত্ত তরুণ সভ্যতা,
নগ্নতার ছড়াছড়িতে পাপকর্মে লিপ্ত মানুষ,
ধবংসের মুখোমুখিতে দাঁড়িয়ে আছি তুমি-আমি সকলে কিংকিমুর্ততায়,
খোদার আরস থেকে নেমে আসছে যেন এক একটি কেয়ামতের ধ্বংসীল আলামত।
ঠিক বলেছ;
আপা কোথাও যাবেন নাকি, এই রাতে? পিছন থেকে বলে তরুন ভেনওয়ালা বিপ্লব
আরে বিপ্লব যে,কেমন আছ?
জ্বি আপা ভাল,কোথায় যাবেন?
ডাকবাংলোয়। যাবে ?
চলেন।
চলো বলে কবি-মল্লিকা যৌথ কন্ঠে মুখ রোচক হাসিতে বলে।
ভেন চলতে থাকে ডাকবাংলোর উদ্দেশে। আবার কথা শুরু করে মল্লিকা
আচ্ছা সাকা তুমি কি ‘হিমুর নীল জোসনা’ বইটি পড়েছ?
হুঁ , তোমার কেমন লেগেছে?
অপূর্ব সাকা! খুব চমৎকার একটা উপন্যাস।
অভিনব একটি চরিত্রের ভিতর হুমায়ুন আহমেদ ফুটিয়ে তুলেছেন,
রাত্রিকার নীল জোসনা।
হ্যাঁ তাই,
আপা কোন দিক দিয়া যামু ডাকবাংলোয়,থানা রোড না বাংলাবান্দা রোড?
বাংলাবান্ধা রোড হয়ে যাও।
আচ্ছা, সত্যি আইজকা আকাশে ফকফকা (ঝকঝকে) জোসনা
মনে অইতাছে আকা থেইকা চুইয়া চুইয়া পড়তাছে সাদা (শুভ্র) শিশির
এমন রাইতে কে না চায় পুকুর পাড়ে বইয়া প্রিয়ারে লইয়া রাত কাটাইতে।
বাহ্ সুন্দর তো! খুব চমৎকার কথা বলতে পার তো দেখছি বিপ্লব।
কি যে কন আপা, মুর্খটা একটা ছেলে আমি,
লিখতে গেলে কলম ভাঙ্গে, বাপ-মা লেখাপড়া করাইতে চাইছিল,
কিন্তু পড়ি নাই;দুষ্টদের সাথে ঘুরতে ঘুরতে সময় পার করছি,
নইলে এহন আমি কলেজে পড়তাম,
এখনো তো পড়তে পার বিপ্লব,সময় এখনো আছে যে বয়স তোর-
না আপা শরম লাগে না; তয় টুকটাক ইংরাজি বলবার পারি,কখন ফিরবেন?
ঠিক নেই, বলা যাচ্ছে না;তবে ঘন্টা তিনেক-
আচ্ছা তাইলে আমি আপনাদের জন্যি অপেক্ষা করুম,
তাছাড়া রাতের ভাড়া মারি, আমার মোবাইল নাম্বারটা রাখেন,মিসকল দিলেই-
আচ্ছা দাও (হায় রে যুগ এখন ভ্যানওয়ালারাও মোবাইল কন্ডাক্ট করে ভাড়া মারে),
নিন-০১৮২…… আপা আইসা গেছি,নামেন।
তোমার ভাড়া কত হয়েছে বিপ্লব?
খুশি অইয়া এই রাইতের বেলা যা দেন,তয় একবারে দিয়েন-
মানে?
আরেকবার তো আপনাদের নিতেই আইমুই,তখন দিয়েন।
না এখনকার ভাড়া এখন নাও,তখনকারটা তখন—
আচ্ছা দেন।
এই নাও পঞ্চাশ টাকা,চলবে?
কি যে কন আপা; চলবো না মানে,আহি তাইলে মিসকল দিয়েন কিন্তু!
আচ্ছা দিব,যাও।
ডাকবাংলো। স্বপ্নীল চারপাশ
মৃদু পায়ে হাটছে কবি-মল্লিকা চাঁদের øিগ্ধ রৌদ্রময় উজ্জ্বল আলো,
গাছের পাতার ফাক দিয়ে বিন্দু বিন্দু খেলা করে বাতাসে দোলে
কে সাকা নাকি? পাশের ছায়ার মাঝ থেকে বলে কেউ,
কন্ঠ সুপরিচিত শিহাব নয়তো? নইলে কার কন্ঠ?
এই সাকা এইদিকে আয়,আবার কন্ঠে চমকে উঠে কবি,নিশ্চয় শিহাব,
সাকা কে তোমাকে ডাকছে? বলে সংকোচিত হয়ে বলে মল্লিকা,
শিহাব কোথায় তুই,কাছে আয় নইলে চিনলেও চিনবো না।
কে সাকা?
আমার বন্ধু শিহাব,ওইতো আসছে আলো ছায়ার ভিতর দিয়ে,সঙ্গে যেন কে?
মনে হয় বান্ধবী মিতা..বলে কবি ফের পা বাড়ায় সামনের দিকে।
ডাকবাংলোর টিলার উপর দাড়িয়ে আছে শিহাব তার বান্ধবী মিতা
নদী মহানন্দায় স্বচ্ছ জলে মধ্যকাশের যৌবনা চাঁদ,
শুভ্র আলোয় শ্বেতাঙ্গ পরীতে সাজিয়েছে নন্দনা মহানন্দাকে।
সাকা!
কি বলো?
চলো মহানন্দার তীরে গিয়ে বেশ মজা করে বসি,
সঙ্গে আনা ডেনিশ,কেক,চানাচুর আর পেপসি টানতে শুরু করব,
তার মাঝে শুনবো তোমার ‘‘দ্য হোয়াইট মুন নাইট’’ কবিতাটি,
যে কবিতাটি তুমি স্বপ্নে সেন্টমার্টিনে বসে রকিং চেয়ারে
চন্দ্রাহত মগ্নতায় হেলতে হেলতে মোবাইলেই লিখছিলে।
হ্যালো মিস্টার সাকা গাছের পাতার ছায়ার আড়ালে ডেকেছিলাম তোকে,
ভেবেছিলাম চিনতে পারবি না;
শালা মনে হয় হিমু হতে চলেছিস,পিছনে দাঁড়িয়ে কাঁধে হাত রেখে বলে শিহাব
আরে শিহাব,তুইও দেখছি জোøা উপভোগ করতে চলে এসেছিস
কেন আসতে পারব না? তা কেমন আছিস?
কেন নয়; ভালআছি,কতক্ষণ আছিস?
চলে যাব,মিতার ঘুম পাচ্ছে। আসি রে-
আয়,পরে দেখা হবে।
আচ্ছা শুভ রাত্রি বলে শিহাব পশ্চাদে ফের গাছের ছায়ার আড়ালে হারিয়ে যায়।
মল্লিকা এখানেই বসবে না নদীর কিনারে গিয়ে বসবে?
চলো কিনারেই গিয়ে বসি।
হ্যাঁ চলো বলে ডাকবাংলোর নিচের দিকে নামতে থাকে দুজন।
সময় চলতে থাকে মহানন্দার শান্ত স্রোত বয়ে চলে,
গল্পের মোহনায় হারিয়ে যায় কবি-চন্দ্রমল্লিকা,চন্দ্রিমা হেলে পড়ে পশ্চিমা গায়,
সাকা সাকা এই সাকা,
জ্বি বলো,
ঘুম পাচ্ছে
হুঁ
আচ্ছা তোমার ‘দ্যা হোয়াইট মুন নাইট’ কবিতাটি বলবে?
শুনতে চাও,
হ্যাঁ বলো।
নদী মহানন্দার শান্ত স্রোতে জোয়ার আসে,
অদূরে বসে থাকে ভেনওয়ালা তরুণ বিপ্লব
কবি দ্যা হোয়াইট মুন নাইট কবিতাটি আবৃত্তি করতে থাকে,
“দ্যা হোয়াইট মুন নাইট”
আমি এমনি এক চাদনী রাতে ঘুমহীন চোখ মেলে বসেছিলাম,
সারারাত চন্দ্রিমার শ্বেত জোøার কিরণ মুক্ত শিশিরে ঝরে পড়ছিল,
সেন্টমার্টিনের প্রবাল দ্বীপের উপর,প্রবাহিত ঝরণাধারায়,
মনে হয়েছিল এটা নিশ্চিত কোন স্বর্গীয় ভূবরাজ্য,
যেখানে প্রবাল জলে øিগ্ধ চাঁদ গগন থেকে মাটিতে নেমে এসে,
শিশুদের মতো মিছেমিছি খেলা করে,আনন্দের ঢেউ তুলে,
খিলখিল হাসে অবুঝ শিশুর মতো,যেখানে পূণ্যতার বিলাস
স্বর্গানুভূতিতে আমি শুধুই শিহরিত,অনুকম্পিত হয়েছিলাম।
আমি লক্ষ্য করেছি প্রবাল দীপে চন্দ্রের আলোর বিচ্ছুরণ,
উথলিত ঝরণাধারার ভিতর সাদা পাথরের শুভ্র রুপশ্বৈর্য্য তা ছিল সুস্পষ্ট
ঢেউয়ের ভিতর জোসনার দোল,শিহরিত দখিনা শীতল মুগ্ধকর বাতাস,
আমার পাশে ছিল নীল চোখওয়ালা পর্দাসীন যেন জান্নাতি হুর!
নূরানী চেহেরায় দুধের গাঢ় গায়ের রংয়ের চোখ ধাঁধানো রুপ
নয়তো বা মণিমুক্তার সদৃশ;
আমি হেলানো আসীন হয়ে চোখ দুটি মেলে রেখেছি শুধু জোসনারই ভিতর,
কিরণের অপরুপ মায়া রুপনীল মাধুর্য্যপূর্ণ অবয়বময়ী স্নিগ্ধ চাঁদের আদ্রতায়,
মোটেও ঠান্ডা নেই,নেই কোন উষ্ণতাও,
এমনি এক চাঁদনী রাত যা স্বর্গভূবন থেকে পৃথিবীতে হঠাৎ দেখা যায়!!
প্রবাল দ্বীপে অসম্ভবভাবে হেটে চলবো আমি যতদূর হাটা যায়,
আমি হিমুর মতো কোন নগরী অলি-গলির ভিতর হাটব না,
আমি হাটব প্রবাল দ্বীপের স্রোতসীনি থলো থলো ঝরণার উপর,
মাঝে মাঝে ডুব দিব,অতলে গিয়েও জোসনাকে খোঁজে ফিরব,
জোøার জলে সাতার কাটব,আমার সঙ্গে মেয়েটি আমাকে সহযোগিতা করবে,
তার হাত ধরে আধুনিক বিজ্ঞানের যন্ত্র আবিস্কারের উপর আমি ভরসা করব না,
আমার সাথে মেয়েটি যে স্বর্গপরী তাতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই,
তার দুটি ডানা এখনো প্রজাপতির মতো নাড়াচ্ছে অবাক চোখে তাকাচ্ছি
ভাবছি মেয়েটি আমাকে শুন্যাকাশে তুলে চাঁদের বুকে নিয়ে চলুক,
চাঁদের অপরুপ খুব কাছ থেকে দেখতে চাই,এর সামনে হাটতে চাই
পৃথিবীতে নেমে আসুক আমার সেই চাঁদের রুপালী ছায়া,
সেটা হোক এই শতাব্দির এক বিস্ময়কর স্বাক্ষর,তা গিনেস বুক ওয়ার্ল্ডে স্থান হোক।
মেয়েটির নাম উড়ান্তা,খুব অদ্ভূত একটা নাম,শুভ্রপরী,
তার চোখ দুটি অসম্ভব সুন্দর,নিবির কাজলা চোখে দৃষ্টির মায়াবি আকর্যণ
সুশ্রী মুখে গোলাপ ফোঁটা ঠোঁটে নিগুঢ় প্রেমের বিনীত নিবেদন
এমনি সুন্দর মুখ আজন্মে দেখিনি কখনো আমি।
আমি প্রবাল দ্বীপে হাটছি চাঁদটা নেমে আসছে যেন ধরায় ক্রমশ,
মেয়েটি হাত বাড়িয়ে দেয় আমার দিকে,আমিও প্রবল উৎসাহে তার হাত ধরি,
চলো উড়ে বেড়াই বলে মেয়েটি,আমি ভয় পেলেও সায় দেই,
আমরা উড়তে শুরু করি শুভ্র জোসনার চাঁদরে ঢেকে যাই আমরা…।

পৃথিবীর পথে আমি

undefined
অনন্তর পথ হেটে চলেছি আমি এই পৃথিবীর পথ প্রান্তরে
অত:পর দেখলাম পৃথিবীর মায়াবি আকর্ষিত মুখ
কালের গর্ভে হারালো কত এক একটি সভ্যতা
একবিংশ শতাদ্ধির আমি একজন পৃথিবীর যন্ত্র সভ্যতার মানুষ।
বীর্য-শুক্রানু হতে সামান্য মানুষ আমি
অভিনব আমার মাটির দেহে রক্ত মাংসে পিন্ডব
কি অদ্ভূত দোলাচলে হেটে চলি আমি
অথচ আমি বারবার সময়ের পরিবর্তনে রুপ নেই।
‘এ পার্থিব তো নিছক খেলাধূলা ছাড়া আর কিছুই নয়’
কুরআনের এ অমৃত বানী জেনেও আমি নিমগ্ন পার্থিব মোহের প্রতি
মৃত্যুকে ভুলে যাই স্রষ্টাকে ভুলে মিশে যাই অন্যায় অবিচার-পাপাচারে
অবশেষে মৃত্যু আমাকে ঘিরে ধরলেই বোধগম্যতে ফিরি আসলে এ পার্থিব কিছু নয়।
আমি সহচর পৃথিবীর বুকে কত চিত্র-বিচিত্র দর্শন করি
নিজের পরিবর্তন দেখে কতবার বিচলিত হই,
কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাসে ফিরে পাই
আমার বৃদ্ধতা হওয়ার বিষয়টা কেন ভাবতে উন্মুখ হই।
আমি অনন্তর দেখেই চলেছি পৃথিবীর রুপ
বীর্য থেকে ভ্রুন,তারপর সদ্য প্রসবিত শিশু অত:পর মানুষ
সময়ের চক্রে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠায় নানা পরিবর্তনের পিন্ডবের ছাপ
পৃথিবীর প্রথম গোলার্ধ থেকে আজ শেষ গোলার্ধে এসে ভাবতেই হয়ে যাই বিস্মুখ।
[অচীরে আসছে 'ডিজিটাল মানুষ,অন্ধ বিশ্বাস,নিষিদ্ধ ব্লু-ফিল্ম ধ্বংস,অক্ষত লাল গোলাপ জীবন্ত ষোড়শী' গল্পগুলো পোষ্টের মাধ্যমে]

দ্য লাইফ সাকসেসফুল: এখানেই শেষ নয়

প্রিয় পাঠক, এখানেই শেষ নয়। ব্যর্থতা জীবনেই আসবেই। প্রকৃতির সাথে মানুষের যে কতটা সামঞ্জস্য তার স্বচিত্র আমি আজ আলোচনা করব। জীবনটা যদি ৬০ থেকে ৭০ বছরের জিন্দেগী হয়। তাহলে তার একটা সরল রেখা অঙ্কন করা প্রয়োজন। জীবন আর যৌবন কারও অজানা নয়। প্রত্যেকেই তার নিজের জীবন ব্যতীত অন্যকিছু মূল্যবান ভাবতে পারে না। তাই তাকে জীবনের সাথে লড়তে হয়, প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। অনুকূলতার দৃশ্যাপট সবার চোখে ভাসে। প্রত্যেকেই চায় জীবনটা যেন তার সুখের হয়। কোন দুঃখ-দুদর্শা যেন তাকে স্পর্শ না করে। তাই কি হয় ? গাছপালা থাকলে সেখানে বাতাস বইবেই। আমরা বাতাসকে যেমন দেখিনা বা ধরতে পারি না, তেমনি নিয়তিকেও আমরা ধরতে বা দেখতে পারি না। সেটা এক অদৃশ্য দৃশ্যাপট। সাগরের বুকে যদি আমরা চোখ রাখি তাহলে দেখতে পারব, সেখানে কখনও প্লাবন, কখনও শান্ত প্রবাহনীর স্রোত। আবার কখনও গর্জে উঠা উত্তাল স্রোত। যেন বিভীষিকা আমাদের ভয়ে আত্মস্ত করে তুলে। ঠিক তেমনি মানব জীবনেও কখনো যুদ্ধ, ঝড় বয়ে যায়। আবার কখনো সুখ শান্তিতে সময় কাটে। কখনও দুঃখ দুর্দশায় জীবন পরিচালিত হয়। সুতরাং মানব জীবনটা সেই স্রোতসিনী নদীর মতো বহমান। কিন্তু মানুষের সাথে এটার এমনি পার্থক্য হলো যে, মানুষের জীবন অল্প দিনের।
প্রতিকূলতার সাথে লড়তে লড়তে হয়তো কেউ হাঁপিয়ে উঠে। ক্লান্তি অনুভব করেন। তখন ওই মুহূর্ত যেন মনে হয় এক দুর্বিষহ কন্টকাকীর্ন সময়। বিপর্যস্ততার কারণে নিজের আত্মবিশ্বাস তারা হারিয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন জীবনে গতির। সুদৃশ্য পথকে দেখে থাকেন এক ঝাপসা মেঘলা দিনের মত। তখন মনে হয় জীবনের যেন অন্তিম সময় সামনে দাঁড়িয়ে গেছে। বদ্ধ ঘরের মতই বন্দি শালা বলে মনে হয় পৃথিবীটাকে। বেঁচে থাকার আশা নেই বললেই চলে। পরাজয় আর ব্যর্থতার কারণে নিজের জীবনটাকে বিষাক্ত, ধৈর্যচ্যুতি, অবক্ষয় মনে হয়। সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার ক্ষীন মুহূর্তটাকে মানুষ ঘৃণা করে। আর পৃথিবীটাকে স্বার্থপর ভেবেই অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। সত্যি কি পৃথিবী স্বার্থপর ? তুমি পৃথিবী কে আপন ভাবতে পার কিন্তু পৃথিবী তোমাকে আপন বলে মনে করে না। পৃথিবী তোমাকে মুহূর্তের জন্য অতিথি বলেই মনে করে। যেমন আমরা মুহূর্তের আকর্ষণকে গভীর মন নিয়ে উপলব্ধি করি। কথাটি মনে হয় বোঝাতে পারছিনা। এমন কিছু পৃথিবীর মানুষ আছে. তারা নতুন নতুন প্রেমের জন্য প্রত্যাশায় পথ চলে। এমন কেউ আছে প্রতিদিন তাকে নিত্য নতুন সঙ্গী লাগে। ঠিক তেমনি পৃথিবী নতুনত্বের বিশ্বাসী। যখন তুমি শিশু হয়ে পৃথিবীতে এলে, তখন তুমি তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন অতিথি। আর যখন তুমি বৃদ্ধ অবস্থায় উপনিত হবে তখন তার কাছে বোঝা বলেই মনে হবে। কথাটা কাল্পনিক নয়, বাস্তবেই অবিনশ্বর। যেমন আপনার মা-বাবার কথাই ধরা যাক। শৈশব থেকে তারুণ্যে আসায় পর্যন্ত যে বয়সটি আপনার প্রয়োজন সে পর্যন্ত আপনাকে লালন পালন করল। যখন আপনি নতুন একজন সঙ্গী (স্ত্রী) জীবনের সাথে সংযোগ করলেন, তখন দেখা যাচ্ছে আপনার মা-বাবা হয়তো বৃদ্ধ অবস্থায় উপনিত। তখন তাদের কথা ভুলে যেতে থাকেন নতুন সঙ্গিনীকে পেয়ে। বছর কয়েক পরে যখন তারা চলাফেরা করতে নেহাৎ-ই অক্ষম কিংবা রোগ শয্যায় শায়িত থাকেন, তখন আপনি অর্থের স্বার্থেই হউক নতুবা প্রিয়সীর প্রেমের কারণেই হউক তখন তাদেরকে ভুলে যান বা বোঝা মনে করেন। ঠিক এরুপ দশ মাস দশ দিন আপনাকে আপনার গর্ভবতী মা পেটে রেখেছিলেন। তিনি তো বোঝা মনে করেন নি। যদি আপনার মতো স্বার্থপর হতেন, তাহলে তো আপনার পৃথিবীতে আসার আগেই গর্ভ নষ্ট করে দিতেন। ঠিক তদ্রুপ আপনি যদি নতুন সঙ্গী পেয়ে পুরাতন কে ভুলে যেতে পারেন, তাহলে পৃথিবী কেন এক সময় আপনাকে পুরাতন ভেবে নতুন কে গ্রহণ করবে না? তাই স্বার্থপরের সাথে লড়তে হলে স্বার্থপর হতে হয়।
ধরুন আপনার জীবনটা ৬০ বছরের ছক বাধা। বাঁচবেন ৬০বছর কিন্তু বর্তমান বয়স আপনার ৩০ বছর। আরও ৩০ টি বছর আপনি বাঁচবেন। যদি জীবনে হায়াৎ মউত এর কথা বলা যায় না। তথাপিও আমরা বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশে মানুষের গড় আয়ু ৬০ বছর। সেই অনুপাতে ছক বেধে নেওয়া হয়েছে। জীবনের ৬০ বছর। প্রথম ৩০ টি বছর হয়তো আপনার সুখে কিংবা দুঃখে কেটেছে। নানা প্রতিকূলতার সাথে আপনাকে লড়তে হয়েছে। যদি আপনার প্রথম জীবন দুঃখ দৈন্যতায় কেটে থাকে তাহলে আপনি হয়তো সাফল্য ও সুখকে ধরতে জীবনের সাথে প্রাণপন লড়াই করছেন। কিন্তু যখন সফল হতে পারছেন না প্রথম জীবনই আপনি হাপিয়ে উঠেছেন। আচ্ছা আপনার জীবনের গতি কত ? লক্ষ্য করুন । ৬০ কিঃ মিঃ আপনার জীবনের রাস্তা। চলতে হবে এই দীর্ঘ রাস্তাটি। এরই মাঝে দেখতে পারবেন নানা কিছু। আপনি কি দেখেন না একটি যাত্রীবাহী যানও চলতে চলতে হঠাৎ এক্সিডেন্ট করে বসে। চলন্ত ট্রেনটা তার গতি হারিয়ে দূর্ঘটনায় পরে। একটি যন্ত্রচালিত যানও যদি তার গতিহীনতার কারণে এক্সিডেন্ট করতে পারে তাহলে আপনার জীবনে যে এক্সিডেন্ট হবে না এমন কি নিশ্চিত হতে পারেন? সেই যন্ত্রের মতো চলছেন আপনিও। চলতে চলতে যখন আপনি ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত অনুভব করেন। তখন আপনার কাছে মনে হয় জীবনের গতি কমে এসেছে। একজন ক্ষুধার্ত মানুষ যেমন চলতে বিষাদ অনুভব করে, তেমনি একটি যন্ত্রও তার কাঙ্খিত খাদ্যের অভাবে তার চলা গতিহীন হয়ে পড়ে। তাই জীবন চলার পথে ঝড় আসবেই। সেই ঝড়ের সাথেও আপনার লড়তে হবে। আব্রাহাম লিঙ্কনের নাম আপনার ইতিহাসে শুনেছেন। তিনি ২১ বছর বয়সে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হন, ২২ বছর বয়সে আইন সভার নির্বাচনে পরাস্ত হন। ব্যবসায় ব্যর্থ হন আবার ২৪ বছর বয়সে। ২৬ বছর বয়সে তার প্রাণ প্রিয়তমা জীবন সঙ্গীনিকে হারান। কংগ্রেস নির্বাচনে পরাস্ত হন ৩৪ বছর বয়সে। ৪৫ বছর বয়সে হারেন সাধারণ নির্বাচনে, ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হন ৪৭ বছর বয়সে। সিনেটর নির্বাচনে আবার হারলেন ৪৯ বছর বয়সে। ২১ থেকে ৪৯ বছর পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে তিনি শুধু ব্যর্থ আর ব্যর্থ হন। তবু তিনি এখানেই শেষ নয় বলে দমলেন না, তিনি বললেন ব্যর্থতার পিছনেই সাফল্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে অপেক্ষা করছে। তাই তিনি পুনরায় যুদ্ধে নামলেন। অবশেষে তিনি সত্যি সত্যি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ৫২ বছর বয়সে। আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হলেই যে বেশি শিখব এমন কোনও কথা নেই। পিছনের ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করা উচিৎ, যাতে সেখান থেকে কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে সফলতার পথ উন্মেচনের দ্বার খোলা সম্ভব হয়। আমি দেখেছি এমন কিছু ব্যবসায়ীদের যারা সামান্য ব্যবসায়ে লস হওয়ার কারণেই ভেঙ্গে পরেন। পুনরায় ব্যবসায়ে নামতে ভয় পান এই ভেবে যে, যদি আবার ব্যবসায় ধস নামে। এক্ষেত্রে ‘যদি’ শব্দটি ব্যর্থতার ক্ষমতাকে চরম গুনে বাড়িয়ে দেয়। তার ফলে ব্যর্থতাকে লালন করি এবং তার সাথে লড়তে ভয় পাই। সিনিয়র টমাস ওয়াটসন বলেছেন, ‘যদি সফল হতে চাও তাহলে ব্যর্থতার হার দ্বিগুন বাড়িয়ে দাও’ আমরা যদি একটি বাইসাইকেলের প্রতি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাবো যে, একজন লোক সাইকেল চালানো শিখছে। কিন্তু সে বারবার সাইকেলটি চালানোর চেষ্টা করেও পারছেনা। মাঝে মাঝে আছার খাচ্ছে এবং পড়ে যাচ্ছে। ফলে তার মধ্যে একটা উদ্দিগ্নতার ভাবটি লক্ষ্য করা যায়। তা এমন যে, সে ওই মুহূর্তে তার ‘আমিত্ব’কে ব্যর্থতার ভাব প্রকাশ পায়। তবু সে সাইকেল চালানো শিখবে। তার এই ইচ্ছার আগ্রহ শক্তিটাকে বহু গুনে বাড়িয়ে দেয়। তখনি সে সফল হয়। এখন যদি তাকে বলা হল- তুমি কি সফল ? সে একটু উজ্জ্বল হাসি টেনে বলল, ণবং, ও ংঁপপবংং হড়.ি কারণ আমাকে অনেক চেষ্টা করতে হয়েছে এটার পিছনে। আমি মনে করি সাইকেল চালানোর মতোই ওই সব লোকদের চেষ্টা করা উচিৎ, যারা নিজেদের কে অপারগ বলে গণ্য মনে করে। ইংরেজীতে একটা প্রবাদ আছে- ‘শান্ত সমুদ্রে কখনও দক্ষ নাবিক হওয়া যায় না’। এখানে কি এটাই বুঝানো হয়নি যে, সমুদ্র যখন শান্ত, সেখানে তখন তরঙ্গ বা উত্তাল ঢেউ নেই। তাই সেখানে ঝড়ও নেই। অযোদ্ধার সাথে যেমন যুদ্ধার পরিচয় নেই, তেমনি শান্ত সমুদ্রে টাইটানিকের মতে দক্ষ নাবিকও নেই। আচ্ছা কোন একটি ব্যক্তিকে বলা হয় ‘সংগ্রাম’ কি? যদি ওই ব্যক্তি জীবনে কখনও যুদ্ধের সম্মুখীন না হন, তাহলে কি বলতে পারবেন সংগ্রামের অভিজ্ঞতা কি ? টমাস আলভা এডিসনের কাহিনী আমরা ইতিহাসে পড়েছি। বৈদুত্যিক ব্লাব এর আবিষ্কারক। তার ৬৭ বছর বয়সে ১৯১৪ সালে কয়েক মিলিয়ন ডলারের কারখানা অগ্নিকান্ডে পুড়ে বিনষ্ট হয়ে যায়। এই বৃহৎ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান টির ব্যাংকিং বীমা করা ছিল না। বয়স্ক এডিসন দেখলেন, তার জীবনের সমস্ত প্রচেষ্ঠার ফলক্রটি ভস্মে পরিণত হল। এবং তিনি মনে মনে এটাই বললেন, “বিপর্যয়ের মধ্যে একটি মহৎ শিক্ষা আছে। আমাদের ক্রটি-বিচ্যুতি পুড়ে ছাই হয়ে গেল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমরা আবার নতুন করে কাজ শুরু করব। ” এই সংজ্ঞাটুকু যদি ব্যবসায়ীরা মনে রাখেন, তাহলে অন্তত নিজেদের ব্যর্থতা, অপারগতা আর মনে দুঃচিন্তা, সংশয়, মন থেকে ঝেড়ে ফেলে সাফল্যকে খুঁজার চেষ্টায় নেমে পড়বেন এবং মনে ধৈর্য্য আসবে বলে আমার বিশ্বাস। মজার ব্যাপার হলো টমাস এডিসন তার ৩ সপ্তাহ পরেই দচযড়হড়মৎধঢ়য’ যন্ত্র আবিষ্কার করেন। তার ফলে তিনি আবার সাফল্যের শিখরে পৌছেন।
অনেকেই লেখার জগতে এসে ব্যর্থতা অনুভব করেন। এ ভেবে যে, তার লেখা কেন ছাপানোর উপযোগী হয় না। জানিনা আমার লেখাটি প্রকাশ হবে কি না? তাই বলে কি আত্মবিশ্বাস ছেড়ে দিয়ে লেখালেখি বন্ধ করে দিব? অন্ধকারের সাথে লড়তে লড়তে একদিন আলো দেখা যাবেই। এই দৃঢ় বিশ্বাস সামনে রেখে সে মনোভাব নিয়ে কাজ শুরু করেছি। তার শেষ না দেখে থেমে যাব? আমি মনে করি ‘যেখানে ব্যর্থতা শেষ, সেখানেই সাফল্যের শুরু’ আমরা যদি এই জানি যে যেখানে দাড়িয়ে আছি সেখানে মাটির নিচে স্বর্ণের খনি আছে। তাহলে কি আমরা বসে থাকবো না, না স্বর্ণের লোভে মাটি খুড়তে শুরু করব? স্বর্ণ খনিটি মাটির কত গভীরে আছে সেটা আমরা দেখি না, কিন্তু আমরা টনের পর টন মাটি কেটে উপরে তুলেছি তার হিসাবও করি না। আমাদের লক্ষ্য স্বর্ণ মাটির হিসাব নয়। তাই স্বর্ণের আশায় যদি আমরা গভীর থেকে গভীর মাটি খুড়ি, তারপরেও যেমন জানি না স্বর্ণ খনি আর কত দূর। তেমনি আমরা যে সাফল্যের জন্য ছুটছি তার পথও শেস কর দূর। তাই সাফল্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রবল ইচ্ছা ও পরিশ্রম। ওয়েস্টার্ন লেখক লুই-লামুর ছিলেন বিশ্ব খ্যাত একজন লেখক। জীবনে তিনি ৩৫০টি উপন্যাস রচনা করেছিলেন। পুরষ্কার পেয়েছেন অসংখ্য। তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশের জন্য ৩০০ প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছিলেন। কিন্তু সব প্রকাশকই তাকে ফিরিয়ে দিয়েি লেন। আমরা হলে লেখালেখি ছেড়ে দিতাম। কিন্ত ওয়েস্টার্ন লুই-লামুর কখনোই তা করেন নি। তাঁর লক্ষ্য ছিল অটুট। তাই তিনি লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়ে অবশেষে সাফল্য কে ঠিকই ধরতে পেরেছিলেন।
আকাশে মেঘ কখনো স্থায়ী ভাবে থাকে না। তাই তাকে সরে যেতে হয়। সাফল্য সেই সূর্যের মতো যে বার বার মেঘ টাকে ঢেকে রাখতে চাইলেও তা সে পারে না। তার কারণ সে স্থির নয়। চলমান তার গতি। তাইতো শুণ্য আকাশে কখনো মেঘ, কখনো পরিষ্কার আকাশ দেখতে পাই। ঠিক তেমনি মানব জীবনও এমন যে তার কখনো দুঃখ জর্জরিত জীবন, কখনো সুখী জীবন যাপন করছে। তাই জীবনে পদে পদে মানুষ কে সংগ্রাম করতে হয়। পরীক্ষায় পড়তে হয় বারবার। পরীক্ষা ছাড়া কৃতিত্ব বা জয় যেমন আশা করা যায় না তেমনি পরিশ্রম ছাড়া সৌভাগ্য মেলে না। যদি মিলে তাহলে তা অলৌকিক বৈ কিছু নয়। একবার সক্রেটিস কে এক তরুন জিজ্ঞাস করেছিলে ‘সাফল্যের রহস্যটা কি’ উত্তরে সক্রেটিস পরের দিন ছাত্রটিকে দেখা করতে বললেন, সে যখন এলো সক্রেটিস তাকে নিয়ে সোজা নদীতে নামলেন। হাটু বুক পেরিয়ে যখন গলা পানিতে তিনি গেলেন, তখন কিছু না বলেই ছেলেটির ঘাড় ধরে পানির মধ্যে ডুবিয়ে রাখলেন। ছেলেটি তখন পানির উপর মাথা তোলার জন্য বারবার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তিনি তাকে পানিতে ধরেই রাখলেন্ তার ফলে বাতাসের অভাবে ছেলেটি যখন নীল হয়ে যাচ্ছিল তখন তিনি তাকে উপরে তুলে চরে এনে বাতাস নেওয়ার সুযোগ করে দিলেন। ছেলেটি হা করে বাতাস গ্রহণ করছিল। কতক্ষণ পরে সক্রেটিস তাকে জিজ্ঞেস করল- যখন তুমি পানির নিচে ছিলে তখন সবচেয়ে আকূল ভাবে কি চেয়েছিলে ? ছেলেটি উত্তরে বলল, বাতাস। এটিই সাফল্যের রহস্য। এর কোন গুরু রহস্য নেই। সুতরাং তুমি যে ভাবে বাতাসের জন্য সংগ্রাম করছিলে সে ভাবেই পরিশ্রম কর। তাহলে সাফল্য অনিবার্য।
আমরা দেখি পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রাণীই জীবনের বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে থাকে। যদি আমরা এই দৃশ্যাপটও দেখে থাকি যে, ক্ষুদ্র প্রাণীদের মধ্যে সামান্য পিঁপড়াও তার প্রকৃতির সাথে টিকে থাকার জন্য সময়ের সাথে লড়ছে। তার সাথে গল্প করতে যান, সে বলবে সময় নেই। আমি আরও দেখছি এদেশের বেকার যুবকেরা তারা নিজেদের জীবনকে অভিশাপ বলে মনে করে। কিন্তু তারা এমন যে নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মেরে দুঃখ ডেকে আনে। এভাবে যে, সময়ের মূল্য তাদের কাছে কদাচিৎ বলে মনে হয়। সারা দিন তৈ তৈ করে ঘুরে বেড়াবে আর গভীর রাতে বাড়ি ফিরে খাওয়াটা পেলে হল, তারপর ঘুমিয়ে পরে। পরদিন সকাল ৮ টা ৯ টার দিকে ঘুম থেকে ওঠে। এই যে তার জীবনের একটি একটি করে মূলবান সময় ও দীন গুলো সে অবহেলায় পার করে দিচ্ছে। এই সময়টি যদি সে কোন ওয়ার্কশোপে কিংবা হতের কারিগরি শিক্ষার সময় কাটাত তাহলে পরিশ্রমী হবে বলে মনে করব। এবং পরিশ্রমের ফলেই সে জীবনে সাফল্য খুজে পাবে। এর বাস্তবটি গ্রহণ করা প্রত্যেক বেকারদের প্রয়োজন। তাই আমি বলি আপনার জীবন যদি মাঝপথে ব্যর্থতায় পরিণত হয়ে পড়ে তাহলে মনে ধৈর্য ধরুন। মনে রাখবেন ধৈর্য সাফল্যের অন্যতম সোপান। প্রথমেই বলেছি জীবনে যদি ৬০ কিলোমিটার যাত্রা হয় তাহলে মাঝপথে ব্যর্থতা কে জয় করে সাফল্যের জন্য অগ্রসর হোন। লক্ষ্য আপনার সাফল্য. ব্যর্থতা নয়।
“এখানেই শেষ নয়”

কাব্য গল্প: পৃথিবীটাই আমার কবিতার মঞ্চ

আমি একদিন কবিতার মঞ্চে উঠে ঘোষণা দিলাম
আজ থেকে আর একটিও কবিতা লিখব না।
আমি এখন অবসর নিব-
সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চ কেঁপে উঠলো
দর্শকশ্রোতা চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো
না-না আমরা এ ঘোষণা মানিনা, মানবো না
মানতে পারি না, আপনাকে লিখতেই হবে কবি।
না তা হয়না,হে কবিতা পাগল দর্শক
আজ আমি কবিতা লেখা থেকে অবসর নিতে চাই,
অনেক তো লিখেছি, আর কত?
সঙ্গে সঙ্গে আবার কেঁপে উঠল কবিতার মঞ্চ,
মনে হলো এটাকি কোন ভূ-কম্পন!
কবিতা পাঠকদের চিৎকারের আওয়াজে সাইক্লোন ঝড়!
আওয়াজ হল প্রচন্ড ঝাপটায়-
আমরা আপনাকে অবসরে যেতে দিতে চাই না
পারব না আপনাকে বিদায় জানাতে।
আমি বললাম-যখন আমি থাকব না তখন তোমরা কি করবে?
কবি কখনই মরে না-বলে উঠলো কেউ একজন-
তার সাথে হাজারো সম্মিলিত আকাশ কাপনো কন্ঠস্বর।
আপনাকে লিখতে হবে কবি,লিখতে হবে,
আমি ভাবলাম আমার বুঝি কবিতার জগত থেকে,
আর অবসর নেওয়া হলো না।
কবিতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম-
কেন লিখব কবিতা বলতে পার তোমরা?
তাহলে পৃথিবীতে এসেছেন কেন, বলে উঠল আরেকজন-
শুধুই থাকতেই এসেছেন,বিদায় তো নিবেন সময় ফুরিয়ে এলেই,
লিখবেন না কিছুই,পৃথিবীর বুকে স্বাক্ষর রেখে যাবেন না?
এই প্রশ্নে আমি থমকে গেলাম,
কেন এসেছি এই পৃথিবীতে আমি?
প্রশ্নটায় হৃৎপিন্ড কম্পন হতে থাকল।
আচ্ছা বলুন আমি কবিতা লিখব কেন? আরেকটি প্রশ্ন আমার
কেউ একজন দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করল-
সুন্দর একটি কবিতা চমৎকার একটি গল্প,
সুন্দর একটি কবিতা রোমান্টিক রসালো একটা উপন্যাস
সুন্দর একটি কবিতা গায়কের কন্ঠের সুরের মুর্ছনা
সুন্দর একটি কবিতা পূর্ণিমা রাতের রুপালি চাঁদের চমৎকার বর্ণনা
সুন্দর একটি কবিতা জোনাকি আলোর নক্ষত্ররাজির বর্ণনা
সুন্দর একটি কবিতা পুস্পার্ঘের ছটায় প্রেমিকের অর্চনা
সুন্দর একটি কবিতা গোটা বিশ্বের-ই সর্ব বৃহৎ রচনা।
কেন ভুলে যাচ্ছেন কবি,আবেগকে দিচ্ছেন এক ভূলের প্রবঞ্চনা??
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি, পৃথিবীর কবিতার মঞ্চে,
নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি দর্শক গ্যালারির দিকে।
আবার মেয়েলি কন্ঠে একজন দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করল-
কবির কবিতা ছাড়া প্রকৃতির রুপে মিলেনা ছন্দ
কবির কবিতা ছাড়া নিবির রজনীর গল্প ব্যর্থ
কবির কবিতা ছাড়া পূর্ণিমার জোছনার রাত ঘটেনা মোহ,
কবির কবিতা ছাড়া ফুলেরা ফুটতে পায় না সাচছন্দময় আনন্দ
কবির কবিতা ছাড়া তরুণী পায় না ভালবাসার স্পন্দন,
কবির কবিতা ছাড়া সুরকারের হয়না গানের ভূবন
কবির কবিতা ছাড়া চিত্রকরের ছবিতে পড়ে না তুলির আচঁড়
কবির কবিতা ছাড়া পৃথিবীটা নেহায়েতই ব্যর্থ
পৃথিবীটাই কবির কবিতার মঞ্চ……।
আবার আরেকজন বলে উঠল-
যেখানে কবিতা নেই সেখানে পৃথিবী নেই,
যেখানে কবিতা নেই সেখানে কোন আনন্দ নেই,
যেখানে কবিতা নেই সেখানে কোন প্রেম নেই,
যেখানে কবিতা নেই সেখানে পূর্ণিমা চাঁদের উজ্জ্বল আলো নেই,
যেখানে কবিতা নেই সেখানে ফুলের সুবাস নেই,
যেখানে কবিতা নেই সেখানে কোন ভালবাসা নেই,
কবির কবিতা ভালবাসার লাল গোলাপ
কবির কবিতা নারীর অপরুপ বর্ণনা,
কবির কবিতা প্রেমের দামী অলংকার,
তাই যেখানে কবি থামিয়েছে কলম,সেখানেই কবিতার অপমৃত্যু
যেখানে কবিতার অপমৃত্যু সেখানেই পাঠকের বিষন্নতা
যেখানে কবিতার মঞ্চ সেখানেই ঝরছে ফুলের সুবাস।
আবার আরেকজন সংগে সংগে বলে উঠল-
হ্যাঁ কবি আপনার কবিতাগুলাই আপনার সন্তান
কেন এই নবজাতকদের মেরে ফেলতে চান,
মেরে ফেলতে চাই ? আমি বলে উঠলাম-
হ্যাঁ হ্যাঁ আপনি মেরে ফেলতে চান-
আরে যুগযুগ জেগে থাকা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম
আপনাকে বাচিয়ে রাখবে আপনার সৃষ্টির কবিতাগুলো-
এখানে তো আর দৈহিক মিলনের প্রয়োজন নেই!
যে আপনার বৃদ্ধাবস্থায় সন্তান উৎপাদন অসম্ভব হবে,
আপনার যৌবন আপনার লেখা, আপনার সৃষ্টি,
আপনার যৌবন আপনার অবচেতন আত্না,
আপনার যৌবন আপনার অমৃত কবিতা,
আপনি যেভাবে লিখবেন সেভাবে গড়ে উঠবে আপনার সন্তানেরা
আপনি কি মেরে ফেলতে চান আপনার সন্তানগুলোকে?
আপনি কি মৃত্যু ঘটাতে আপনার স্বীয়কে?
আমি বললাম- না-না-না- আমি তা চাই না,
আমার কবিতার মঞ্চ থেকে অবসরের ঘোষণাটা উহ্য করে নিলাম
আজ থেকে আবার কবিতা লিখে যাব, তোমাদের কথা দিলাম।
সংগে সংগে পৃথিবীটা আনন্দে নেচে উঠল
গ্যালারী জুড়ে করতালির আওয়াজে আনন্দ ঝরতে লাগল।
আমি নেমে এলাম পৃথিবীর কবিতার মঞ্চ থেকে;
আমার সন্তানেরা (কবিতা) আমাকে আনন্দে শিহরণে জড়িয়ে ধরল,
ফুলের সুবাসে সুরের মোহনায় আমি হার মেনে গেলাম
কবিতা লেখা থেকে অবসর নেওয়ার কোন মানে নেই,
এক অদ্ভুত ভাবনার মধ্য দিয়ে গৃহালয়ের দিকে চললাম।

গল্প:I SAW THAT FAIR A LADY IN WHITE

কাননের ঠিক গোলাপটির মত মেয়েটি হবে। চমৎকার হবে সেই মেয়েটি, যার গায়ের রং হবে ফর্সা এবং হালকা গোলাপী মিশ্রিত সাদা। গোলগাল মুখ;দু’চোখে যাদু টানা দৃষ্টি, ঠোঁটযুগল রক্ত লাল গোলাপী লিপিষ্টিক এর মতো রং। কোন ক্যামিকেল থাকবেনা, ও দু’টো ঠোঁটে, প্রয়োজন হবে না কোন লিপিষ্টিকের। এমনকি এরকম কোন আকর্ষণ করার মত পালিশ। যেতে হবে তাকে কোন বিউটি পার্লারে, প্রয়োজন হবে কোন রুপচর্যার দক্ষ বিউটিশিয়ান। কোন মেকআপ ছাড়াই তাকে লাগবে অসম্ভব সুন্দরী। তাকে দেখলে মনে হবে সে কি এই মাত্রই
কোন রুপের মঞ্জিল থেকে বের হয়ে এলো!
হ্যাঁ মেয়েটি খুব চমৎকারই হবে। তার পুরো আপাদমস্তক এমন রুপ মাধুর্য়্যে ভরা থাকবে, যা কোন শিল্পী এরকম কোন ছবি আদো আর্ট বা অঙ্কন করেন নি। সে নিজেই তার তুলনা। সৃষ্টিকর্তা তাকে অতি নিপুনতায় সৌন্দর্য বিলাসে সৃষ্টি করেছেন। যিনি এই মেয়েটিকে দেখেছেন তিনি একজন মননশীল শিল্পী এবং তার চোখ দুটি অনবদ্য সুন্দর আর তিন্নি সুন্দর উপমায় কথা বলতে পারেন। আমি তাঁর ছাত্র ছিলাম এবং খুব কাছের অতি কাছের। তিনি বললেন, ন্যাশনাল বার্ড-তোর জন্য একটি বাক্য রয়েছে। বললাম বলবেন, কি সেটা এমনকি বাক্য? আমি ডায়েরীটা এগিয়ে দিলে তিনি লিখলেন,
“I saw that fair a lady in white for you only for your”
তিনি আরও লিখলেন-You will get a fair lady in your life. বাক্য দু’টির বঙ্গানুবাদ করতে তিনি সময় দিলেন একমাস। আমি সানন্দে রাজি হলাম। যদিও বাক্য দু’টির অর্থ আমি জানি,তবুও মনে মনে ভাবলাম এটা দিয়ে একটা গল্প হতে পারে।
তিনি দেখলেন মেয়েটি হেটে আসছে। গায়ে লাল কামিজ,তার দু’চোখে তার মুখের অবয়বের মানানসই চশমা। খুব সুন্দর মানিয়েছে চশমাটায় মেয়েটি। লম্বায় পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি। যা তিনি তার সাথে একজন সঙ্গী যোগ করলেন। দেখলেন কেমন মানায় দু’জন দু’জনকে। কেমন একটা উচ্ছ্বাস স্বরে বলে উঠলেন-“How niece’s very wonderful” তিনি কি জানেন, ছেলেটির সাথে মেয়েটির কী সম্পর্ক? কখনো কি তদের দু’জনের মধ্যে দাম্পত্য জীবন গড়ে উঠবে? তিনি না জানলেও এ্যাডজাষ্ট করার চেষ্টা করছেন। হয়তো হতে পারে ছেলেটির সাথে মেয়েটির বিয়ে, নয়তো না হতে পারে। তবু তিনি চিন্তা করছেন দু’জন দু’জনকে খুব ভাল মানিয়েছে। তিনি মুচকি মুচকি হাসতে লাগলেন। তিনি চৌরাস্তার একটি দোকানে বসে দেখতে লাগলেন ছেলেটির সাথে মেয়েটির। তারা হাঁটতে হাঁটতে তেতুলতলায় এসে দাঁড়াল। মুখোমুখি দুটি চোখ মিলিয়ে চার চোখে প্রেমাচ্ছল দৃষ্টি। দু’জনে হেসে উঠলো কোন কথায়। তার সাথে তিনিও হেসে উঠলেন।
ন্যাশনাল বার্ড মেয়েটি ভারি চমৎকার তো! মাথায় দীঘল কালো কেশ। মুখচ্ছবি দেখলে মনে হচ্ছে এই মাত্র গোলাপটি ফুটলো। নতুন করে জন্ম হল তার। পূণ্য যৌবনা। অপরুপ তার মায়াবি দুধরাঙা সর্বাঙ্গ শরীর। যেন তার শরীর থেকে রুপের জৌলশ বিন্দু বিন্দু শিশির কনার মত ঝরছে।
তাকে দেখে মনে হবে প্রবাল রত্ন এক ইয়াকুত। তিনি কি মনে করে যেন সুরা সাফফাতের ৪৯নং আয়াতটি পড়লেন। তার অর্থ ছিল এই
“ তাদের নিকট থাকবে আন্তময় তরুণীগন যেন সুরক্ষিত ডিম”
কথাটি কী তিনি আবেগে বলে ফেললেন। কি রুপ আছে ঐ মেয়েটির মাঝে যে, তিনি কবি জীবনান্দ দাশের বনলতার রুপ লাবন্যের কথা বলতেও বিলম্ব করলেন না।
বুঝতে পারলাম তিনি জীবনান্দদাশের বনলতার ভক্ত। চৌকুষ একজন মনন শিল্পী। রংতুলি ছাড়াই বিস্ময়কর ছবি আঁকতে পারেন। সুন্দর উপমা, মন সাজানো শব্দ-বাক্য। ভাষায় শৈলীতে তার যথেষ্ঠ দক্ষতা আছে বলে আমার থারণা। তিনি যে সত্যি উপমায়,বর্ণনায় আর বাচন ভঙ্গিতে শিল্প ব্যবহার করেন তাতে সন্দেহ নেই। যা সবাই পারে না।
তিনি আবার বলতে শুরু করলেন। এখন তিনি সেই মেয়েটির কি রুপের বর্ণনা করবেন তা আমার বোধগম্য নয়। আমি ভাবছি আমার কবিতা কেমন হবে। তিনি যা বর্ণনা করলেন তা কি সত্যি সত্যি ঘটবে। আর তাকে কি আমি সত্যি সত্যি পাব। যার জন্য হয়তে অপেক্ষা করছি দিনের পর দিন, মাসের পর মাস আর বছরের পর বছর। যাকে নিয়ে আমার যৌবন বসন্তে সকল চিন্তাধারা, ভালবাসার মোহে রাত জেগে কবিতা লেখা, নৈশব্দে তাকে নিয়ে স্বপ্ন ভূবনে ভাবতে ভাবতে রাত পেরিয়ে ভোরের উদিত সূর্য দেখা। তিনি কি বুঝতে পারছেন আমার পছন্দের মেয়েটি কেমন হবে!
আমি তাঁকে বললাম, আমার এখন কবিতার প্রয়োজন। জীবন সাথীর প্রয়োজন। সময় কাটেনা; রাতে শূণ্যতা মনে হয়। বিছানায় শয়ন করলে দু’চোখ এক হয় না। আমার পাশে এমন একজনের প্রয়োজন যা আপনাদের জীবনে রয়েছে। আমি বলিনি আমার প্রাণতম প্রিয়ার এই মুহুর্তে দরকার। তিনি বললেন, “I saw that fair a lady in white” আমার বিশ্বাসই হচ্ছে আমার পাশে বসা আমার শিক্ষক মানুষ না রোবট! এই একটি বাক্য আমাকে এতটা তাড়া করছে কেন? আর রাতে ঘুম হারাম করে দিচ্ছে কেন? আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে কবি জীবনান্দদাশের বনলতার মতো। যে কবি হাজার বছর পৃথিবীর পথে পথে ঘুরতে এক সময় বনলতার সানিধ্য পায়। আমারও কি এরুপ অপেক্ষা করতে হবে?
আমার উদিগ্নতায় থাকতে দেখে মানুষ নামক রোবট আবার বলে উঠলেন- “You will get a fair lady in your life.” সত্যি কথাটা আমাকে উৎসাহ দিচ্ছে, আর এক অদ্ভূত ঘোরে আমাকে ভিতর থেকে কে যেন বলাচ্ছে-“Where he fair Lady? I want see he at soon. I am thinking now really he will be very wonderful dream fair Lady. Now I’m Waiting for his, when he come with my life and when my dream will be Successful.
আমি বলিনি তিনি কে, কে এই মননশিল্পী, তার সাথে আমার কি সম্পর্ক? আসলে তিনি আমার জীবনের মুকুট। আমার জীবনের অন্যতম প্রথম সারির তালিকার একজন। যার সাহচর্যে আজ আমার বিদ্যাবাস, লেখালেখির জন্য কলম ধরতে পেরেছি। কলম চালিয়ে যাচ্ছি। কলমের ভাষায় মনের কথাগুলো বলার সুযোগ পাচ্ছি। তিনি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক-গুরুজন। আলোর পথে দিশারী, যার আলোয়র ছোঁয়ায় আজ আমাকে পাঠক মহল চিনতে পারছেন একজন একুশ শতাব্দীর তরুণ লেখক হিসেবে। আরেকদিকে তিনি আমার দুলাভাই। যেহেতু তিনি আমার একজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও অন্যদিকে সম্পর্কে দুলাভাই সেকারণেই হয়তো আমার ডায়েরীতে লিখলেন-Don’t think National Bird, I saw that fair a lady in white of course he will be choice you.