শনিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৩

প্রবন্ধ: মানুষ যা করতে পারে



ভূমিকা : সৃষ্টি নিয়ে খেলছেন সৃষ্টিকর্তা ও মানুষ
মহান আল্লাহ তা’আলা কুরআনে সূরা বাক্বারায় তাঁর ফেরেশতাকুলকে একদিন ডেকে বললেন, আমি পৃথিবীতে ইনসান (মানুষ) সৃষ্টি করতে যাচ্ছি। এ কথা শুনে ফেরেশÍারা বলে উঠলেন, হে মহান রব আপনি কি এমন এক কওম পৃথিবীতে সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন, যারা পৃথিবীতে রক্তপাত ঘটাবে,হানাহানি ও খুনখারাপিতে লিপ্ত থাকবে। মহান রব বললেন,আমি যা জানি তোমরা তা জানো না। সেই থেকে ফেরেশতারাও মহান সৃষ্টিকর্তার মানুষ সৃষ্টির রহস্য জানতে পারলো না। মহান প্রভু মানুষ সৃষ্টি করলেন মৃত্তিকা অর্থাৎ মাটি থেকে। এ বিষয়টা আমরা প্রত্যেক মুসলমানই জানি। মাটির তৈরি প্রথম আদিম ও সমস্ত মানবকুলের আদি পিতা হযরত আদম (আ.)। আদম (আ.) কে জান্নাতে দেওয়া হলো। কিন্তু একাকী জীবন অতিষ্ঠ। সৃষ্টির যুগল তৈরি করে দিলেন পৃথিবীর অনন্য আকর্ষণীয় এক সৌন্দর্য্যশীল মানবী নারী হাওয়া (আ.)। কিন্তু মানুষ সৃষ্টির বহুপূর্বে মহান সত্তা আরেক আশ্চর্য্য সৃষ্টি জ্বীন জাতিকে পৃথিবীর বুকে সৃজন করেছিলেন। তবে জ্বীন জাতিকেও নির্মূল করলেন এক নাটকীয়তায়। কেননা জ্বীন জাতিরা পৃথিবীতে বিচরণ করতো উচ্ছৃংখলভাবে। কোন বাঁধা মানতো না, নিয়ম মেনে চলতো না। সারাক্ষণ মারামারি,কাটাকাটি আর রক্তপাতে লিপ্ত থাকায় মহান আল্লাহ্ তা’আলা সমূলে ধ্বংস করে দেন জ্বীন জাতিকে। কিন্তু দৈবক্রমে বেঁচে যান আযাযীল খাবিশ। যাকে আমরা ইবলিশ শয়তান বলে জানি। এখানেও মহান আল্লাহ তা’আলা এক অকল্পনীয় খেলা খেলেন আযাযীলকে বাঁচিয়ে। তিনি ইচ্ছা করলে মেরে ফেলতে পারতেন ওই সময়েই যখন জ্বীন জাতিকে ধ্বংস করা হচ্ছিল। কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তা সেটা করেননি। প্রত্যেক খেলাতেই প্রতিপক্ষ থাকে। যেটা মানুষের সাথে ইবলিশ শয়তানের পতিপক্ষতা। মহান আল্লাহ্ তাআলা কুরআনে একাধিকবার মানুষকে হুশিয়ার করে বলেছেন-নিশ্চয় ইবলিশ শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
সৃষ্টি নিয়ে চিন্তাধারা :
পৃথিবীতে মানুষের প্রথম আবির্ভাবের পর শুরু হয় জীবনধারণ। কিভাবে সে জীবন ধারণ করবে, কিভাবে চলবে, তার চালচলন বা কিরুপ হবে। তা প্রাথমিক ভাবে মহান আল্লাহপাক আদি মানব হযরত আদম (আ)কে শিক্ষা দিয়েছিলেন। যেকোন অবস্থান নির্ভর করে পরিবেশের উপর। কোন পরিবেশে কিভাবে চলতে হয়। তাই মানুষ অর্থাৎ আদি মানবরা প্রথম জীবন ধারণের জন্য বাসস্থান,খাদ্য যোগানকে কেন্দ্র করে চিন্তা করেছিল, এমন কি সৃষ্টি করলে থাকার একটি ঘর হবে। খাওয়ার জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা হবে। চিন্তা শক্তিতে এক সময় ধরা দিল খরকুটো দিয়ে ঘর বানানো, আগুন জ্বালানোর জন্য পাথর দিয়ে ঘর্ষন। থাকার ঘর,আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা তো হলো। এখন পানি রাখার জন্য পাত্র কিভাবে তৈরি করা যায়। প্রকৃতির কাছে মানুষ ঘুরতে ঘুরতে এটাও শিখল গাছের মাঝ অংশে খানিকটা গর্ত করে জল রাখার ব্যবস্থা। খাদ্য গ্রহণের জন্য মানুষ জানতে পারলো প্রকৃতির অরণ্য জঙ্গলের ফলফলান্তি। নিজের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখার জন্য লতা-পাতা দিয়ে পোশাক বানানো। জীবন ধারণের জন্য খাদ্য ব্যবস্থার জন্য শিকার ছিল অন্যতম। শিকারের দ্বারা আদি মানুষরা পশু-পাখি,জলের মাছ সহ প্রাণীদের দ্বারা খাদ্যের ব্যবস্থা করতো। বাস্তস্থান হিসাবে খড়ের চাল,পাহাড়ের গুহা,গাছের শাখা ব্যবহার করতে করতে এক সময় আদি মানুষ পৌছে গেল একটু উন্নত পরিবেশে। কালের ধারাবাহিকতায় মানুষ নিজেকে নানাভাবে পাল্টাতে শিখলো। নিজের জংলী ভাবটাকে কাটাতে শিখলো। বের হয়ে এলো মুক্ত পরিবেশে। জংগল আর পাহাড়ের গুহা ছাড়লো। জাতি সভ্যতা নিল ভিন্ন রুপ। জাতি বিভাজন হয়ে ছড়িয়ে পড়লো সমস্ত পৃথিবীর বুকে। আস্তে আস্তে মানুষ জানতে লাগলো পৃথিবীর বুকে কিভাবে রাষ্ট্রীয় ভাবে বাস করা যায়। সৃষ্টি হতে লাগল গোত্র থেকে সমাজ। সমাজ থেকে সীমারেখা ভূগোল। সেটাই ক্রমে রুপ নিল রাষ্ট্র হিসেবে। মানুষের এ পরিবর্তনের ধারায় সমাজ-পরিবেশ-প্রকৃতি পাল্টে গেল। পান্ডুলিপির পৃষ্ঠার মত একের পর এক পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে পৌছে গেলাম আজকের এই প্রযুক্তির সভ্যতায়।
ধারাবাহিক

[মহান সৃষ্টির মধ্যে মানুষই হলো আশ্চর্য প্রাণী]

[এটা মানুষের সৃষ্টি]

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন