রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১১

কাব্য গল্প: আজকের বিকেলটা তোমাকেই দিলাম

আজ তোমাকে ভেবেছি কবিতার অবয়বে
তোমাকে ঘিরেই কবিতার ছবি আঁকব
পৃথিবীর শিল্প সাহিত্যের ঐশ্বর্য সৌন্দর্য কবিতা
যেরুপ পবিত্র আল-কোরআনের সেরা সৌন্দর্য্য সূরা আর-রাহমান
প্রকৃতির সৌন্দর্য পুস্প কানন,
ভালবাসার সৌন্দর্য্য চিরায়ত প্রেম,
রাতের সৌন্দর্য্য নক্ষত্রপুঞ্জ,
দিনের সৌন্দর্য্য ভোর-সন্ধ্যার আবহমান সূর্য
ঠিক তেমনি সেই সৌন্দর্য্যরে ছবি আঁকতে ততটা উদগ্রীব আমি
যতটা পাগল প্রেমিক তার প্রেমিকার মুখ কল্পনা করতে ব্যস্ত।
আজ তোমাকে নিয়েও কবিতার মতো সেরকম ভাববো
যতটা কবিতাকে ভালবাসি আমি প্রতিটি সময়
যতটা কবিতার ভিতর নিজের অস্থিত্ব নিবদ্ধ রাখি
কবিতার ছন্দ পল্লবে নির্জন তিমিরে গীতারের সূর মন্ত্রে নিভিষ্ট থাকি
জোস্নালোকিত কিংবা কৃষ্ণ কালো আঁধারে কবিতায় গান করি,
শৈল্পিক তুলিতে আচঁর কাটতে কাটতে তোমাকেই এঁকে ফেলি
সেই তুমি-ই হতে পার আমার অগণিত কবিতার ভিতর
একমাত্র শ্রেষ্ট কবিতা।
গতরাত হতেই উথলিত ঝরণার মতো জেগে উঠছে
বুকের সবুজ হৃদপিন্ডেরে ভিতর রক্ত কণিকায়,
দু’চোখের রঙিন লাল-নীল চর্ম ক্যামেরায়,
তোমার হাস্যজ্জল মুখের ফুল রাঙা পাঁপড়ী মেলানো হাসি
উন্মাদের মতো ছুটে যেতে চেয়েছি সহ¯্রবার,আর
কবিতার সূরলোহরীতে ডেকেছি তোমাকে অগণিতবার
আজকের বিকেলটা তোমাকেই দিব বলে
রাত্রি পোহানোর অপেক্ষার তীব্র উদগ্রীবতায়
আধো ঘুম জাগা চোখে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরেই ঠিক করেছিলাম
আজকের পৌষের শীতার্ত মিষ্টি রঙিন রোদমাখা
বিকেলটা তোমাকেই দিয়ে পৌষের বিকেলটা কাটিয়ে দিব।
তুমি জানো না; অনেক দিন ধরে
মনের কল্পনায় চোখের ক্যামেরার মনের দেওয়ালে
ফ্রেমে বেঁধে রেখেছি লাল পাতা বাহারী তোমার স্যালোয়ার কামিজ পরা ছবিটা,
সেই গতরাতে এতসব স্বপ্ন দেখেছি যে,
যা আজন্মেও দেখেছি কীনা সন্দেহ!
তাহলে কি আমাকে ভালবাস বার্ড! দ্বিতীয়বার বিস্ময়ে প্রশ্ন করতে পার-
হ্যাঁ,আমি তোমাকে প্রচন্ড ভালবাসি,কবিতার মতো ভালবাসি
এতোটা ভালবাসি যে তুমিহীন সমস্ত পৃথিবী আমার শ্রান্তিহীন,
ওই যে গানে বলে-
‘যেটুকু সময় থাক পাশে
মনে হয় এ দেহে প্রাণ আছে,
বাকিটা সময় যেন মরণ আমার
হৃদয়ে জুড়ে নামে আধাঁর…’
এভাবেই চাই তোমাকে অনন্তকাল ভালবাসতে….।
আমি তোমাকে কবিতা শুনাবো,শুনবে হিমালীয়া
হিমালীয়া কেন! বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করতে পার,
আমি তোমাকে এটা নতুন নাম দিলাম
চাইলে আকিকাও করা যেতে পারে।
জানি তুমি এখন সাগরের কল্লোল ঢেউয়ের মতো হাসতে থাকবে
ঠোঁট রাঙানো সুমিষ্ট কন্ঠে বলবে পাগল! একেবারে পাগল কবি!
সত্যি কবিরা পাগল,জানো পাগলামী ছাড়া কোন কিছু আবিস্কার সম্ভভ নয়,
একমাত্র পাগলেরা আজকের বিশ্বটাকে পাল্টিয়ে দিয়েছে,
শিল্প সাহিত্যের জয়গানে উৎসব মুখর এই ধরাধম!!
জানো,আজ তোমাকে দুপুরে এক নজর দেখেছিলাম
অবশ্য চোখে চোখে সে দৃষ্টি তোমারও পড়েছিল
দু’দু চার চোখ মিলে হৃদয় কাঁপিয়েছিল
এবার তোমার ভালবাসার মূল্যায়ন করতে চাই
স্বাক্ষর করতে তোমার ভালবাসার অটোগ্রাফ হাতের পাতায়
স্বীকৃৃতি দিতে চাই একমাত্র তুমি-ই আমার মানবী কবিতা
দুজনের ভালবাসা যৌথ হৃদয়ে গড়ে তুলতে চাই,
প্রেম সাগর!
পুস্প কানন!
প্রেম ঝরণা প্রবাহ!
প্রেম গগন!
কাব্য ভূবন!
আমি তোমাকে কবিতা আবৃত্তি করে শুনাবো,
মন্ত্রসূরের মতো,
মুগ্ধ চিত্তে কান পেতে শুনতে শুনতে ঘুম স্বর্গে পারি দিবে
আমি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবো তোমার ঘুমন্ত মুখ
এভাবেই আমরা আবিস্কার কবিতার প্রেম মঞ্জিল!!
তুমি জানো না; কবিতা পৃথিবীর শ্রেষ্ট সংগীত
বিমোহিত সূরের কল্লোল!
সূরের মুর্ছনা;
শিল্পীর তুলির অমায়িক প্রকাশ ভঙ্গিমা
শিশুর হাসির প্রস্ফুটিত ফুলেল অর্চনা
ভোরের পাখির কিচিরমিচির আওয়াজে গানের বন্দনা
শিল্পীর তুলিতে সেভাবে একটা ছবি জীবন্ত হয়ে উঠে
সেভাবে কলমের আঁচরে তোমার দেহ কাগজে,
কবিতার ছন্দের আঁচর আকতে-
আজ বিকেলে তোমাকে দেখার খুব ইচ্ছে জেগেছিল
তোমার ওই চাঁদলোকিত শুভ্র শিশির ঝরা জেসমিন রাঙা মুখ
এই মুখটি দেখার জন্য বারংবার ছুটে যাই,
তোমার বাড়ীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী গবরা,
আসলে আমি শুধু নদী গবরার রুপই দেখিনা,
সেখানে কল্পনায় দাঁড়া করাই তোমার পুত:পবিত্র মুখ
উন্মাদের মতোই ছুটে আসি পাখির ডানার ন্যায়
আমার দ্বি-চক্রযান বাইসাইকেলটা নিয়ে।
আজ বিকেলে যখন তোমাকে দেখলাম শীতের মিষ্টি রুপালি রোদে
তোমার মুখায়বে ফুটে উঠেছিল যেন এই দিনের বেলায় রুপালী চাঁদনী রাত
তোমার লাবণ্য ঠোঁটে ঝলক ঝলক উচ্ছল প্রাণবন্ত হাসি
আমি যেন পার্থিব জগতেই খোদার সৃষ্টি জান্নাতে দেখেছিলাম তোমায়,
ফুলের পাপঁড়ী সিংহাসনে আসিন হয়ে ছড়িয়েছিলে সমস্ত কানন স্বর্গের সুবাস,
মুগ্ধ হয়ে কয়েক সেকেন্ডের কল্পনায় দেখেছিলাম তোমার ওই চিত্তহরিণী মুখ,
অত:পর ঘুরে ফিরতে দেখি রুপালী সন্ধ্যায় তুমি আমার পাশে দাড়িয়ে আছ।।
২৫/১২/২০১১

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন