শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১১

কাব্য চিঠি: তোমাকে আমি স্বপ্নে দেখেছি

তুমি আমি এক যাত্রীবাহী বাস থেকে নেমে যাই তেতুলিয়া বাস স্টান্ডে,
তোমার হাতে দুটি ব্যাগ যা বহন করে চলেছ বাড়ীর অভিমুখে
আমিও হাটতে থাকি তোমার পিছনে এক নি:শব্দে পদচারণায়
যাতে তোমার কানে আমার পদশব্দ বিন্দুমাত্র না পৌছে।
তোমার সাথে কথা হয়না দীর্ঘ ১ যুগ পূর্তি হতে চলেছে
দীর্ঘ এই ১ যুগের নীরবতায় উভয়েই হয়ে গেছি,
বোবা মানুষদের মত এক জোড়া মানুষ;
তোমার সাথে বাসে পাশাপাশি বসেও বোবা হয়েই ছিলাম
চোথের ভাষায় হয়তো অনেক স্মৃতিঝরা কথাই প্রকাশ পেয়েছে।

কিভাবে এই একটি যুগ বাকশক্তিহীন নীরব প্রেমে কাটিয়ে দিলাম
তারই এক প্রামাণ্যচিত্র যেন দু’চোখের রঙিন পর্দায় ভেসে উঠেছিল
অথচ কথা বললেই বলতে পারতাম! কিন্তু কিসের এক অভ্যাসের সংকোচে,
চোখ দুটো কথা বললেও মুখ ফোঁটে বলার সাহস আর হয়নি।
আমরা দু’জনই হঠাৎ কখনো সামনাসামনি বা মুখোমুখী হয়েও গেছি,
দু’চোখের দৃষ্টিতে তখন বুকের পাজঁরে হৃৎপিন্ডটা থরথর কেঁপে উঠতো
আর কেমন একটা অনুভূতিতে দূর্বল হয়ে যেতে থাকতো স্নায়ানুভূতি।
এবং ভেঙে যেতে থাকত হৃদয়টা তখন, কোন এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে,
মুছরে যেতে থাকতো দেহের সমস্ত শক্তি।
তার ফলে আমরা নির্বাক বাকশক্তিহীন হয়ে অপ্রকাশ একটা অনুভূতি নিয়ে,
পাশ কাটিয়ে চলে যেতে হয়েছে দুজনকেই।

কিন্তু আজ তোমার সাথে কথা বলবোই বলবো এমন একটা অনুভূতি যেন,
আমার পদশক্তিকে দ্বিগুন বাড়িয়ে এগিয়ে নেয় বাঁধভাঙা ঝড়ের মতো,
আমি তোমার পাশাপাশি,খুব কাছাকাছি হয়ে, জিজ্ঞেস করি কেমন আছ মিস লিপিকা!
তোমার চোখজোড়ায় বিস্ময়ের দৃষ্টিতে দেখেছি তোমার হৃৎপিন্ডটা মোচর দিয়ে উঠলো,
আর দেখলাম এক আনন্দের উত্তাল ঢেউ ধাক্কা দিয়ে ঝাকিয়ে গেল তোমায়।
একটু সুমিষ্ট হাসিতে প্রস্ফুটিত গোলাপী ঠোঁটে বলে উঠলে,
আজ বুঝি এক যুগ পর মরা গাছে ফুল ফুটলো!!
কিভাবে তোমার বোবা মুখে কথার কলি ফুটলো ‘এস’
জেগে উঠলো ঝিমিয়ে থাকা পুরুষত্বের আবেগীর দুর্গম সাহস!
জানো,তোমার এ জিজ্ঞেসের অপেক্ষায় আমার নারীত্ব যৌবনের প্রহর কেটেছে
কতটি বছর?
প্রায় এক যুগ!
জানো, আমার যৌবন দেহে আসার পর পরই তোমার পরশ পেতে,
কত রাত উতলা হয়ে কষ্টানুভবে ঘুমিয়েও চোখের পাতা এক করতে পারিনি,
জানো না,আমি প্রায় আয়নায় দাঁড়িয়ে আমার উন্মুক্ত প্রশস্ত যৌবনা বুক দুটোতে,
তোমার ছবিটা দিয়ে সারাশির মতো চেপে একটু প্রশান্তি নিতে চেষ্টা করেছি।
কতবার শাড়ী পড়ে তোমাকে দেখাতে চেয়েছি, দেখো তো আমাকে কেমন লাগছে,
কিন্তু কাকে দেখিয়েছি জানো ‘এস’তোমার নিস্প্রাণ ছবিটাকে।
এখনো প্রায় রাতেই একটু পুরুষের স্পর্শের পরশের আশায়,
সেই তোমাকেই সহস্র কল্পনায় এনে নি:শব্দে রাত্রি পার করি।
অথচ কিসের এক পারিবারিক দ্বিধাদ্বন্ধে দুজন আবাদহীন পতিত জমির মতো,
বছরের পর বছর নিস্ফল পড়ে আছি।
দীর্ঘ একটি যুগ কম মনে করতে পার ‘এস’?
৩৬৫ কে গুন করে দেখো, প্রায় এক যুগে কতটা দিন জীবন থেকে হারিয়ে গেছে।
অথচ তুমি জানো,প্রেমের একটা দিন বৃথা গেলে,
পুরো জগতটাকে যেন বিষের মত লাগে
কেন ওই গানটি তো প্রায়ই গাইতে-
‘একদিন তোমাকে না দেখলে বড় কষ্ট হয়,
সেইদিনটাই বুঝি আমার বড় নষ্ট হয়’।
তুমি সবই বুঝ ‘এস’,কারণ আমাকে ভালবেসে,
এই একুশ শতাব্দীর একজন লেখক হয়ে আমার নারী দেহের মতো,
কাগজের বুকে সাহিত্যের শৈলিতায় কলম চালিয়ে যাচ্ছ!
এখন বলো কেমন আছ ‘এস’?
আপ্লুত হয়ে আনন্দের অনুভূতি চোখের জলের সাথে মিশিয়ে বলি-
ভাল আছি লিপিকা;
কোথায় গিয়েছিলে?
কেন, স্কুলে-
হাতে দুটি ব্যাগ যে,ভাবলাম অন্য কোথাও গিয়েছিলে বোধয়-
ঠিক ধরেছ, বোনের বাসা থেকে ফেরা পথে ভাবলাম স্কুলটা করেই যাই,
তার মধ্যে বাচ্চাদের ক্লাশ,
খুব ভাল করেছো,
দাও একটি ব্যাগ আমাকে-
একটি ভেনও পেলাম না ‘এস’,তবে খোদাকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে,
তোমার সাথে আমার এক যুগ পর দেখা করিয়ে কথা বলালেন।
হ্যাঁ লিপিকা, মহান আল্লাহর কাছে আমারও অশেষ কৃতজ্ঞতা লিপিকা।
আমরা হাটতে থাকি কথা বলতে বলতে,বলা হয় পথা চলার সাথে সাথে,
এই এক যুগ পেরিয়ে যাওয়া নানা কথা,নানা স্বপ্ন বুনার কথা,
মাঝে মাঝে লিপিকার দেহের সাথে আমার দেহ কিসের এক চুম্বকের টানে,
নাকি যৌবনের এক আকর্ষনের টানে মিশে যেতে চাইছে ক্রমশ..
আচ্ছা লিপিকা,
কি ‘এস’
তুমি আর আমাকে ভূলে যাবে না তো?
কি বলছো ‘এস’!
ঐ দেখো তোমার ভাই সামনে পথ আগলে রেখেছে?
কিছু ভেবো না ‘এস’
চলতে থাকি আমরা,প্রায় সামনাসামনি হয়ে যাই লিপিকার ভাইয়ের,
যার জন্য ভেঙেছিল আমাদের এক যুগ আগের পবিত্র প্রেম,
আজ আবার অতি সামনে পড়ে যাই তার……….

[লিপিকার ভাই আসরাফ আলী মুন্সির সাথে দেখা হয়,তারপর কি হলো ঝগড়া হলো না অন্য কিছু--]
সকাল: ৬:৩৩ মিনিট, ৬জুলাই/২০১১ইং।

undefined

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন