মানুষ তার জীবনে যেভাবে মূল্যবান সময়গুলো ব্যয় করে
প্রযুক্তি এই দুনিয়ায় মানুষ যত না কর্মথ হয়েছে,অলস কিন্তু কম হয়নি। জীবন মানেই অনির্দিষ্ট একটা তরী। এটা কখন,কোথায় গিয়ে হঠাৎ থেমে যাবে তা কেউ বলতে পারে না। তাই মানুষের বলার সাধ্য নেই সে কত বছর বাঁচবে,কখন মারা যাবে,কিভাবে মারা যাবে। অনির্দিষ্ট জীবনের ভিতরও মানুষ বেঁচে থাকে আজকের যুগে গড় আয়ুর ৫০-৬০ কিংবা ৭০ বা তারও উর্ধ্বে। মানুষ বেঁচে থাকে আশায়। জীবনের পরতে পরতে স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্নের নকশা এঁকে বাস্তবায়ন করতে উদগ্রীব হয়। জীবন মানেই স্বপ্ন। এই স্বপ্নের পিছনেই ছুটছে মানুষ। এই স্বপ্ন ঘিরেই আবিস্কার হয়েছে আজকের বিজ্ঞান। রুপ নিয়েছে প্রযুক্তি সভ্যতা। আজকের প্রযুক্তি সভ্যতা মানেই যান্ত্রিকতা। এই যান্ত্রিক সভ্যতায় মানুষ কিভাবে চলছে এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঘুরে দেখবো মানুষ তার জীবনের সময়গুলো কিভাবে ব্যয় করছে।
পেশা ক্ষেত্রে :
মানুষ তার জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কাটায় পেশা জীবনে। বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকে একেক জন। পেশাগুলো হতে পারে-চাকরি, ব্যবসা,শ্রমিক ইত্যাদি।
জীবনে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান অর্থাৎ মৌলিক চাহিদার যাবতীয় কিছু। এসব পূরণের জন্য প্রয়োজন কর্ম। সেই কর্মকে সন্ধান করতে মানুষ বেছে নেয় পেশা জীবন। যারা সরকারি পেশায় নিয়োজিত তারা জীবনের ২৫-৩০ বছর টানা সময় কাটিয়ে দেন। দীর্ঘ একটা সময় লাগাটার কাটে। যারা আধা সরকারি অর্থাৎ সরকারি অনুমোদন আছে-বিভিন্ন এনজিও,ব্যাংক প্রতিষ্ঠান,স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠানে মানুষ তার জীবনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করে। এছাড়া যারা নিজের স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান কোম্পানী,ব্যবসা মূলক কাজকে পেশা হিসেবে ব্যয় করে জীবনের মূল্যবান সময়। কেউ একজন বলেছিল-পৃথিবী ঘুরে সূর্যের চারদিকে,আর মানুষ ছুটে টাকার পিছনে”। অর্থগত তাই,মানুষ জীবনের বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে উপার্জন করে অর্থ। সেই অর্থ দিয়ে জীবনের চাহিদা পূরণের জন্য সময় ব্যয় করতে হয়।


[পেশাগত জীবন]
বেকারত্ব ক্ষেত্রে : মানুষের জীবনের একাংশ কাটে ভবঘুরে। যাদের আমরা বেকার বলে চিহ্নিত করি। পেশাজীবনে কিংবা নিজের কোন কর্মস্থল না হওয়া পর্যন্ত মানুষের জীবনের মূল্যবান সময় অপচয় হয় এখানে।
[পেশাগত জীবন]
বেকারত্ব ক্ষেত্রে : মানুষের জীবনের একাংশ কাটে ভবঘুরে। যাদের আমরা বেকার বলে চিহ্নিত করি। পেশাজীবনে কিংবা নিজের কোন কর্মস্থল না হওয়া পর্যন্ত মানুষের জীবনের মূল্যবান সময় অপচয় হয় এখানে।
অবসর ক্ষেত্রে : জীবন যখন ক্লান্তি অনুভব করে। তখন মানুষ খুঁজে নেয় একটু শান্তি। এই একটু শান্তির ভিতরও কিন্তু সময় কাটায় শিক্ষা-দীক্ষায়-গবেষণায়। যেমন-সারাদিন পরিশ্রমের ফলে শরীর হয়ে আসে ক্লান্ত। সেই ক্লান্তির বিষাদকে দূর করার জন্য মানুষ রাতের সময়টিকে বেছে নেয়। ঘূমের ভিতর কাটে একাংশ সময়। কারও কর্মস্থল থেকে অবসর নিয়ে জীবনের বাকিটা সময় কাটায় বিভিন্ন পত্রিকা,বই,সিনেমা ও টেলিভিশন এর মাধ্যমে।
অপর দিকে প্রযুক্তির যান্ত্রিকতায় মানুষের আরও মূল্যবান সময়গুলো কাটছে অনলাইনের ভিতর। কেউ সারাদিনই কম্পিউটার কিংবা মোবাইলে ফেসবুক, টুইটার,ইউটিউব, ব্লগ তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কাটিয়ে দিচ্ছে জীবনের মূল্যবান সময়গুলো।ফেসবুকে কাটছে সময়
আড্ডার ক্ষেত্রে : আড্ডা মানেই আনন্দ-উল্লাস। মানুষের জীবনের কাংখিত চাওয়া আনন্দ ভরা হোক তার জীবন। তাই সে জীবনের সব কষ্ট,ক্লান্তি-অবসাদকে দূর করতে আয়োজন করে আড্ডা। এই আড্ডার ভিতর বনভোজন,চায়ের স্টল, ভ্রমন ,সংগীত,সাহিত্য চর্চা অনুষ্ঠান হতে পারে। এসবের ভিতর মানুষ জীবনের সময়গুলো ব্যয় করে।
বিরহ-যন্ত্রণা ও রোগ শয্যা: মানুষের জীবন যেমন আনন্দ-উল্লাসে কাটে। অপর পিঠে জীবনের একাংশ সময় কাটে বিরহ যন্ত্রণায়। এটা হতে পারে প্রেমে ব্যর্থ,বিবাহ বিচ্ছেদ। এ দুটোতে মানুষ তার জীবনের সময় কাটায় নষ্ট জীবনের মতো। ধুমপান,মদপানের ভিতর কাটে এক ঘোর সময়। অপর দিকে কেউ জীবনের দীর্ঘ সময় কাটায় নানা রোগে আক্রান্ত অবস্থায়। কারও সময় কাটে মুমুর্ষ অবস্থায়। কারও দূর্ঘটনায় পরে বিকলাঙ্গ হয়ে হুইল চেয়ারে বসে।

চলবে
০৭.০২.১৩
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন