শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩


“বাংলার মানুষ কাদের মোল্লার এবার ফাসি দেখতে চায়” রণ সংগীতে তেঁতুলিয়া যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে প্রতিবাদের ঝড় !


বাংলাপোষ্ট২৪/ই:  পঞ্চগড় তেঁতুলিয়ায় “বাংলার মানুষ কাদের মোল্লার এবার ফাসি দেখতে চায়” মোঃ রিয়াজুল মোল্লার সংগীতে ৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় গণপ্রতিবাদের মুখরিত হলো ঐতিহাসিক তেতুলতলা প্রাঙ্গন। গত মঙ্গলবার যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ড রায় বাংলার মানুষ মেনে নিতে না পেরে রাজপথে নেমে এসেছিল।
কাঁপিয়ে তুলেছিল রাজপথ। এই রাজপথ জনতার ঢলে ঢাকা শাহবাগ যেন রুপ নিল প্রতিবাদের ঝড় তাহরির স্কয়ার। তাহরির স্কয়ার আন্দোলনের অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত করলো অনলাইন ব্লগার, ফেসবুক এক্টিভিট্সি, টুইটারসহ সামাজিক সংগঠনের স্টেটাস এবং কলম যোদ্ধারা। শাহবাগ পরিণত হলো প্রজন্ম চত্বর।
প্রজন্ম চত্ত্বরের আন্দোলনের ঢেউ উসলিয়ে পড়লো সারাদেশ। সারাদেশ এখন প্রতিবাদের ঝড়ে কাঁপছে বাংলার ৫৫ হাজার বর্গমাইলের ভুখন্ড।। রুপসা থেকে পাথুরিয়া, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া বাংলাদেশের প্রতি ভুখন্ড প্রকম্পিত হলো যেন প্রতিবাদী কন্ঠের শব্দের বর্জপাতে।

বৃহস্পতিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩


মানুষ তার জীবনে যেভাবে মূল্যবান সময়গুলো ব্যয় করে

প্রযুক্তি এই দুনিয়ায় মানুষ যত না কর্মথ হয়েছে,অলস কিন্তু কম হয়নি। জীবন মানেই অনির্দিষ্ট একটা তরী। এটা কখন,কোথায় গিয়ে হঠাৎ থেমে যাবে তা কেউ বলতে পারে না। তাই মানুষের বলার সাধ্য নেই সে কত বছর বাঁচবে,কখন মারা যাবে,কিভাবে মারা যাবে। অনির্দিষ্ট জীবনের ভিতরও মানুষ বেঁচে থাকে আজকের যুগে গড় আয়ুর ৫০-৬০ কিংবা ৭০ বা তারও উর্ধ্বে। মানুষ বেঁচে থাকে আশায়। জীবনের পরতে পরতে স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্নের নকশা এঁকে বাস্তবায়ন করতে উদগ্রীব হয়। জীবন মানেই স্বপ্ন। এই স্বপ্নের পিছনেই ছুটছে মানুষ। এই স্বপ্ন ঘিরেই আবিস্কার হয়েছে আজকের বিজ্ঞান। রুপ নিয়েছে প্রযুক্তি সভ্যতা। আজকের প্রযুক্তি সভ্যতা মানেই যান্ত্রিকতা। এই যান্ত্রিক সভ্যতায় মানুষ কিভাবে চলছে এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঘুরে দেখবো মানুষ তার জীবনের সময়গুলো কিভাবে ব্যয় করছে।

পেশা ক্ষেত্রে :
মানুষ তার জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কাটায় পেশা জীবনে। বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকে একেক জন। পেশাগুলো হতে পারে-চাকরি, ব্যবসা,শ্রমিক ইত্যাদি।
জীবনে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান অর্থাৎ মৌলিক চাহিদার যাবতীয় কিছু। এসব পূরণের জন্য প্রয়োজন কর্ম। সেই কর্মকে সন্ধান করতে মানুষ বেছে নেয় পেশা জীবন। যারা সরকারি পেশায় নিয়োজিত তারা জীবনের ২৫-৩০ বছর টানা সময় কাটিয়ে দেন। দীর্ঘ একটা সময় লাগাটার কাটে। যারা আধা সরকারি অর্থাৎ সরকারি অনুমোদন আছে-বিভিন্ন এনজিও,ব্যাংক প্রতিষ্ঠান,স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠানে মানুষ তার জীবনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করে। এছাড়া যারা নিজের স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান  কোম্পানী,ব্যবসা মূলক কাজকে পেশা হিসেবে ব্যয় করে জীবনের মূল্যবান সময়। কেউ একজন বলেছিল-পৃথিবী ঘুরে সূর্যের চারদিকে,আর মানুষ ছুটে টাকার পিছনে”। অর্থগত তাই,মানুষ জীবনের বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে উপার্জন করে অর্থ। সেই অর্থ দিয়ে জীবনের চাহিদা পূরণের জন্য সময় ব্যয় করতে হয়।

[পেশাগত জীবন]
বেকারত্ব ক্ষেত্রে : মানুষের জীবনের একাংশ কাটে ভবঘুরে। যাদের আমরা বেকার বলে চিহ্নিত করি। পেশাজীবনে কিংবা নিজের কোন কর্মস্থল না হওয়া পর্যন্ত মানুষের জীবনের মূল্যবান সময় অপচয় হয় এখানে।

অবসর ক্ষেত্রে : জীবন যখন ক্লান্তি অনুভব করে। তখন মানুষ খুঁজে নেয় একটু শান্তি। এই একটু শান্তির ভিতরও কিন্তু সময় কাটায় শিক্ষা-দীক্ষায়-গবেষণায়। যেমন-সারাদিন পরিশ্রমের ফলে শরীর হয়ে আসে ক্লান্ত। সেই ক্লান্তির বিষাদকে দূর করার জন্য মানুষ রাতের সময়টিকে বেছে নেয়। ঘূমের ভিতর কাটে একাংশ সময়। কারও কর্মস্থল থেকে অবসর নিয়ে জীবনের বাকিটা সময় কাটায় বিভিন্ন পত্রিকা,বই,সিনেমা ও টেলিভিশন এর মাধ্যমে। 
অপর দিকে প্রযুক্তির যান্ত্রিকতায় মানুষের আরও মূল্যবান সময়গুলো কাটছে অনলাইনের ভিতর। কেউ সারাদিনই কম্পিউটার কিংবা মোবাইলে ফেসবুক, টুইটার,ইউটিউব, ব্লগ তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কাটিয়ে দিচ্ছে জীবনের মূল্যবান সময়গুলো।

ফেসবুকে কাটছে সময়
আড্ডার ক্ষেত্রে : আড্ডা মানেই আনন্দ-উল্লাস। মানুষের জীবনের কাংখিত চাওয়া আনন্দ ভরা হোক তার জীবন। তাই সে জীবনের সব কষ্ট,ক্লান্তি-অবসাদকে দূর করতে আয়োজন করে আড্ডা। এই আড্ডার ভিতর বনভোজন,চায়ের স্টল, ভ্রমন ,সংগীত,সাহিত্য চর্চা অনুষ্ঠান হতে পারে। এসবের ভিতর মানুষ জীবনের সময়গুলো ব্যয় করে।

বিরহ-যন্ত্রণা ও রোগ শয্যা: মানুষের জীবন যেমন আনন্দ-উল্লাসে কাটে। অপর পিঠে জীবনের একাংশ সময় কাটে বিরহ যন্ত্রণায়। এটা হতে পারে প্রেমে ব্যর্থ,বিবাহ বিচ্ছেদ। এ দুটোতে মানুষ তার জীবনের সময় কাটায় নষ্ট জীবনের মতো। ধুমপান,মদপানের ভিতর কাটে এক ঘোর সময়। অপর দিকে কেউ জীবনের দীর্ঘ সময় কাটায় নানা রোগে আক্রান্ত অবস্থায়। কারও সময় কাটে মুমুর্ষ অবস্থায়। কারও দূর্ঘটনায় পরে বিকলাঙ্গ হয়ে হুইল চেয়ারে বসে।


চলবে
০৭.০২.১৩

মঙ্গলবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

এই মানুষগুলো সভ্যতার কলঙ্কের নকশা


এই মানুষগুলো ভীষণ খারাপ;শয়তানের চেয়ে নিকৃষ্ট
এদের মাথার ওপর আবু জেহেলের বাড়ীর মতোন টয়লেট বানানোর দরকার
মল-মূত্র ফেলার নর্দমার খাল খনন করার দরকার,এরা এতোই জঘণ্য
এদের বুক-পিঠের কোন পাথর্ক্য নেই,শয়তানকেও ধোঁকা দিতে এরা সক্ষম
এরা মানুষ নামের ভয়ংকর এক নোংড়া জানোয়ার,শূয়োর বললেও ভুল হবে না
এরা একই প্লেটে দুধ-মাছ-মাংসের সাথে পায়খানার বর্জ্য তরকারির মতো খেতে পারে
ধর্মের বিচারে এদের মানুষ বলে না,নিকৃষ্ট এক দ্বিপদী মানুষরুপী জানোয়ার ছাড়া!!

এই মানুষগুলো বড়ই ধোঁকাবাজ,মিথ্যাকে সত্য করতে হাজারও নাটক সাজায়
বিবেকহীন নির্দয় হৃদয়,সামান্য স্বার্থ ঊনিশ-বিশ হলেই ধ্বংসযজ্ঞের পায়তারা চালায়
এরা প্রতারক,ধোঁকাবাজ,ভেল্কিবাজ,চোখ ধাঁধানো আতবাজির ভিতর তাসের খেলা খেলে
স্বার্থ ফুরোলেই বিষাক্ত কালনাগের মতো ধ্বংসলীলা খেলতে ফণা তুলে ফুঁস ফুঁস করে
হাজারও কলঙ্কের দাগ আঁচর কাটলেও কিছু মনে করেনা,এরা যে নির্লজ্জ বিশ্ব বেহায়া
অন্ধ বিবেকে স্বীয় কন্যাকে ধর্ষণ কিংবা খুন করে,স্ত্রীকে তুলে দেয় আরেক লম্পটের হাতে
এরা এতোই জঘণ্য যে তাস খেলার মতো অন্যের সাজানো সংসার তছনছ করতে কুন্ঠাবোধ করেনা!

সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

স্বপ্ন ভাঙনের নদীর চর
চিঠি-১
নীল নয়োনা,
স্বপ্ন বিভ্রমের পর চরম হতাশায় ভুগছি আজ। দীর্ঘ চার মাসের সংসার জীবনের ইতিবৃত্ত ঘটালে গত ৮জানুয়ারী। আমার আশার বাগানে ফুটন্ত ফুলগুলো অকালে ঝরে পড়লো তোর কান্ডজ্ঞানে। তুইও চলে গেলি,ফুলগুলো ঝরে পড়লো সে রাতেই। যে বাগানে ফুটেছিল নানান রঙের সুবাস ঝরা ফুল। ঘ্রাণে ঘ্রাণে ভরে উঠতো পুরো বাড়ির আঙিনা। তুই যে ছিলি আমার বাগানের সবচে প্রিয় মানবী ফুল। তোর বিচরণে ফুলেরা সরব হয়ে উঠতো। রঙিন প্রজাপতিরা ডানা মেলে আনন্দে এদিক-সেদিক উড়াউড়ি করতো। মুহুমুহু করতো মধু-পোকারা। সন্ধ্যার আঁধারে জোনাকিদের মেলা বসতো। ঝলমলের সে রঙিন আলোয় স্বপ্নের নীড় রুপে সজ্জিত হত আমাদের বসতঘর। এখন আর এই বাড়ির কোন প্রাণবন্ততা নেই। মৃত্যুপুরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে আজ আমাদের প্রাণবন্তহীন নির্জন বাড়িটা।

পুরো বাড়ি জুড়ে এখন নিরানন্দের বিলাপ। গৃহ আঙিনা জুড়ে ধরা পরে শুধু শুকনো পাতার হলুদ-রাঙা রঙ। তুইহীন শুন্যতা, শুকনো পাতার হাহাকার কান্নায় আমিও মর্মাহত হই। ভুলতে পারি না তোকে এক মুহুর্ত। চোখ বন্ধ করলেই তোকে দেখি। খেতে বসলে তোর ছবি ভেসে উঠে। মনে হয় তুই আমাকে খাওয়াচ্ছিস। থালায় ভরে দিচ্ছিস তোর নিজ হাতের পছন্দকৃত রান্নার সব সুস্বাদু খাবার। তোকেও কাছে টেনে খেতে বলি,নীল তুইও বোস না; কত দিন ধরে যেন তুই-আমি পাশাপাশিএকত্রে বসে খাই না। খাবার নিয়ে রসিকতা করিনা;তোর থালার মাছটা আমি ছিনিয়ে নিতে পারিনা। বোস বোস...আবার স্বপ্ন বিভ্রম। রাতের খাবার একাই খাচ্ছি। খাবার মুখে নিচ্ছি কিন্তু ঢোক গিলতে পারছি না। বুকটা প্রচন্ড ব্যথা হয় তোকে ছাড়া। মনটাও নিস্প্রাণ হয়ে যাচ্ছে ইদানিং। জানিনা এই নিস্প্রাণতার ভবিষ্যত পরিণতি কি?

মঙ্গলবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৩

মানুষ যেভাবে বেঁচে থাকে

মানুষ যেভাবে বেঁচে থাকে
পর্ব-১
প্রকৃতি যেমন বিচিত্র-বর্ণিল। ঠিক মানুষের জীবনটাও বিচিত্র। নানা বর্ণের নানা রঙের মিশ্রনে কাটে মানুষের জীবন। প্রকৃতি পাল্টায় রং,বর্ণ,সময়। আর মানুষের জীবনেও আসে এক একসময় একেক মুহুর্ত বা সময়। সব সময় মানুষের এক যায়না। জীবন চলার পথে সময়ে সময়ে ঘটে অনেক কিছু। সেই নানা বৈচিত্র্যতায় মানুষের জীবন যখন যেভাবে কাটে,সে রঙের চিত্র আমার চোখে অনেক দিন ধরেই চলচ্চিত্র দীর্ঘ ছবির মতো ৩ ঘন্টার চলছিল। তাই আজ মানুষ যেভাবে বেঁচে থাকে,তেমনি এক চিত্র তুলে ধরার জন্য পাঠকের পড়ার আয়নায় হাজির হলাম।


মানুষ বেশ কয়েকটি ধাপে বেঁচে থাকে তা নিন্মরুপ-
জন্ম থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত 
মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবেশে বেঁচে থাকে। নানা রঙ,নানা ঢঙ নিয়ে রুপ নেয় একেক সময়। যেমন-মানুষ যখন মাতৃগর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হয়,তখন সে নিত্যান্তই এক শিশু। তখন তার কোন বোধগম্য থাকে। থাকে না বোধশক্তির জ্ঞান। আরেকজন মানুষের সাহচর্যে তাকে আস্তে আস্তে পরিণত হতে হয়। সেই আরেকজন হলোই পরম মমতাময়ী মা। এরপর বাবার আদর,আত্নীয়-স্বজনের স্নেহ। এভাবেই মানুষ শিশু থেকে পৌছে কিশোরে। কিশোর বেলায় মানুষের রং হয় আরেক। যেটা শিশু থেকে অনেকটাই ভিন্ন। কিশোরে মানুষ নানা কিছু বুঝতে চেষ্টা করে। প্রাথমিক শিক্ষা মা-বাবার কাছ থেকে গ্রহণ করে। এরপর স্কুল-মকতব থেকে জ্ঞান অর্জন। সময় গড়ায়। সময়ের পরিক্রমায় প্রকৃতির ঋতুর পরিবর্তনের সাথে মানুষ পৌছে যৌবনে। যৌবনের রং কিশোর থেকে আরও ভিন্ন। উদ্যম শরীর,দেহ-মনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন। কিশোর থেকে সে তখন সম্পূর্ণ আলাদা। রুপ-রস,চাহিদা,বেশ আগের তুলনা অনেক উন্নত। যৌবনে মানুষের মনের ভিতর খেলা করে ব্যাপক চঞ্চলতা। ভাল-মন্দ জ্ঞান এসময় জানা হলেও যৌবনের উত্তেজনায় অপরাধমূলক কাজও ঘটে।
শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করে প্রবেশ করে কর্মক্ষেত্রে। এখানেও আরেক রং লক্ষ্য করা যায়। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে অর্থ উপার্জনের দিকে ছোটে। এ যে বেঁচে থাকার ভবিষ্যত পথ রচনা করার সময় যৌবনকাল। এসময় মানুষ ভবিষ্যত রচনার জন্য জীবনে যোজন করে আরেকজন সঙ্গী। যাকে আমরা প্রণয় বা বিয়ে বলি। এখানেও আরেক রঙ। সঙ্গীর যোজনের পর শুরু হয় সংসার। পরিবারের চিত্রও আলাদা। 

বুঝতে বুঝতে এতোটা দূর..

বুঝতে বুঝতে এতোটা দূর..


বুঝতে বুঝতেই এতোটা দূর জীবনের সময় পেরিয়ে এসেছি
সেই মাতৃগর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হয়েই বুঝার পাঠক্রমের যাত্রা শুরু
শৈশবের গড়াগড়ি,তারপর শিশুর মতো চঞ্চলতার চড়ই-ফড়িংয়ের খেলা
মা-বাবার কড়া শাসন,ওখানে যাবে না,ওখানে জ্বীনপরী-বাঘ-ভাল্লুক আছে
এতোসব ভয়,সামান্য বুঝতেই ভয়ে কুকড়ে যেতাম,পাখির পালকের মতো-
মায়ের আঁচলে আশ্রয় নিতাম,যেভাবে আশ্রয় নেয় মুরগীর ছানাগুলো বাজপাখির ভয়ে।

এরপর কিশোর জীবনের যাত্রা;স্কুলে নয়তো ক্ষেতখামারে বাবার সাথে হাল চাষ
একটু দেরি হলেই শুরু হত অত্যাচার,শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির নির্মম আঘাত
স্কুলে পড়া না হওয়ার মাষ্টারের চাবুকাঘাত,সহপাঠদের সাথে হাসি-ঠাট্টা মারামারি
বুঝতে বুঝতেই প্রাইমারির অধ্যায় শেষ;অত:পর কিশোর পথে যাত্রা শুরু
জীবন তালিকায় নতুন দিনপুঞ্জী,নতুন ফর্মুলা,নয়া উদ্দমতায় সামনে এগিয়ে যাওয়া
পিছিয়ে থাকা জীবনের অর্থ নয়,জীবনকে জানতেই বুঝতে বুঝতে এতোটা দূর..

বুঝতে বুঝতেই কেটে গেছে শৈশব-কিশোর,এখন যৌবনকাল যাওয়ার অপেক্ষা
জীবনকে সুখী করতে কর্মস্থলে দৌড় ঝাপ,সংসারে মাঝিমাল্লার মতো ধরতে হয় হাল
জীবন তরী বইতে থাকে;সংসারে যোগ হয় নতুন অতিথি স্ত্রী-সন্তান,নাতি-নাতনী
চুলে পাক ধরে,দাঁড়ি-গোঁফ সাদা হয়ে আসে এক সময়,গর্বে অহংকার করি,
আরে মিয়া চুল-দাঁড়ি গোঁফ এমনি এমনি পাকেনি;বয়সে পেকেছে-
বুঝতে বুঝতে কাটিয়ে এসেছি এই বয়স,আর কত বুঝাবার চাও……..বলো দেখি?

এবার শেষ বুঝার পালা,জীবনের পরতে পরতে করেছি কতো অন্যায়-অবিচার
অন্যের সম্পদ করেছি আতœসাৎ,মুনাফিকের আচরন নিয়ে কাটিয়েছি জীবন,
অন্যের গীবত গেয়েছি,প্রতারণার ফাঁদে কাউকে করেছি স্বর্বস্বান্ত,করেছি রাস্তার ফকির
অর্থের লোভে কাউকে করেছি নির্মমভাবে খুন,অত্যাচার করেছি স্বীয় যৌবনের তাগিদে
কিছু ভালো কাজও করেছি,বিভিন্ন স্থাপনা-দান দক্ষিণাতেও বাড়িয়েছিলাম স্বীয় হস্ত হাত
আজ সামনে অন্ধকার;কেউ অপেক্ষা করছে আমাকে নিয়ে যাওয়ার,তবুও বুঝতে চেষ্টা করি।
২৯.০১.১৩

রবিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৩

যন্ত্র সভ্যতার অস্থিরতা



যন্ত্র সভ্যতার অস্থিরতা

প্রিয় পাঠক,চলমান প্রযুক্তির যন্ত্র সভ্যতার সাথে প্রতিনিয়ত লড়ে যাচ্ছি। নিজেদেরকে সপে দিয়েছি যন্ত্রের কাছে। বলা যায় এই একুশ শতাব্দির মানব প্রানী হিসেবে আমরা যন্ত্রের কাছে নেহায়েতই অসহায়। দাসে পরিণত হতে চলেছি। যন্ত্র ছাড়া যেন আমাদের এক মুহুর্ত চলে না। চলতে-ফিরতে হাতের কাছে সংগী হিসেবে সাহায্যকারী হিসেবে থাকে যন্ত্র। আত্মরক্ষা,অন্যকে ধ্বংস করতে প্রয়োজন এই অস্ত্র বা যন্ত্র। চিকিৎসা বিজ্ঞানে যন্ত্রের কোন বিকল্প নেই। এই যন্ত্রনির্ভর জীবনে যে হরহামেশাই আমরা বিরক্ত হয়ে অস্থিরতা বোধ করছি না,সেটাও কেউ হলফ করে বলতে পারবো না। এই যন্ত্রের কাছে আমরা কতটা অসহায়,অস্থিরতা বোধ করছি সেটা ধারাবাহিক চলবে আমার এ পোষ্টের আয়োজন। আসুন দেখি আজকে দেখব বর্তমান জীবন চলতে,জীবনের সাথে অংগের মত লেপ্টে থাকে একটি যন্ত্র সেটার নাম কি জানেন? নিশ্চয় বলে উঠবেন-মোবাইল। হ্যাঁ এই মোবাইল নিয়ে সচিত্র বর্ণনা করে যাব। তো দেখা যাক মোবাইল নিয়ে অস্থিরতার কারণগুলো---------

‘সেদিন কেউ একজন মর্মাহত হয়ে বলেছিল নিজ স্ত্রীর সাথে এক রাতে সহবাস না করলেও থাকা যাবে,কিন্তু ওই রাত্রে যদি মোবাইলটি হাত ছাড়া হয়ে যায়,তাহলে কষ্টের সীমা থাকবে না’।

মোবাইলে কানেকশন না পেলে যে অবস্থা হয়:
ধ্যাৎতুরি মোবাইলে নেটওয়ার্ক নেই,মেজাজটা খারাপ হবে না; কাজের সময় নেটওর্য়াক থাকে না। চরম এক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায় এখানে।
এই কথাগুলো খুব অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়:
** দু:খিত আপনার মোবাইলে এখন যথেষ্ট পরিমাণ টাকা নেই। অনুগ্রহ করে রিচার্জ করুন।
প্রথম বন্ধু: দোস্ত হলো না হলো না...
দ্বিতীয় বন্ধু: কি হলো না...
প্রথম বন্ধু: আর কইস না,সমিনার সাথে বেশ প্রেমের রস গল্পে মেতে উঠেছিলাম। ঠিক এই মুহুর্তে মোবাইলে ব্যালেন্স নেই, কি অসহ্য যন্ত্রনা,দে তো বিশটা টাকা-
প্রথম বন্ধু: কি করবি?
দ্বিতীয়: মোবাইলে রিচার্জ দিতেই হবে
প্রথম বন্ধু: স্যরি দোস্ত তোর মোবাইলে রিচার্জ দেওয়ার মত ২০টাকা আমার কাছে নেই।
দ্বিতীয়; ওহ..অসহ্য.........যন্ত্রনা...।

** দু:খিত আপনার কাংখিত নাম্বারটিতে এই মুহুর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়,অনুগ্রহ করে আবার ডায়াল করুন
** নেটওয়ার্ক নেই,ইমারজেন্সী........
** আপনার ডায়াল করা নাম্বারটি এই মুহুর্তে ব্যস্ত আছে।
** আপনি এখন কল ওয়েটিং এ আছেন।
** আপনার কাংখিত নাম্বারটি এখন আর ব্যবহৃত হচ্ছে না

মোবাইলের নানা চিত্র :

চিত্র-১


চিত্র-২

চিত্র-৩