দ্য লাইফ সাকসেসফুল: এখানেই শেষ নয়
প্রিয় পাঠক, এখানেই শেষ নয়। ব্যর্থতা জীবনেই আসবেই। প্রকৃতির সাথে
মানুষের যে কতটা সামঞ্জস্য তার স্বচিত্র আমি আজ আলোচনা করব। জীবনটা যদি ৬০
থেকে ৭০ বছরের জিন্দেগী হয়। তাহলে তার একটা সরল রেখা অঙ্কন করা প্রয়োজন।
জীবন আর যৌবন কারও অজানা নয়। প্রত্যেকেই তার নিজের জীবন ব্যতীত অন্যকিছু
মূল্যবান ভাবতে পারে না। তাই তাকে জীবনের সাথে লড়তে হয়, প্রতিকূলতার
সম্মুখীন হতে হয়। অনুকূলতার দৃশ্যাপট সবার চোখে ভাসে। প্রত্যেকেই চায়
জীবনটা যেন তার সুখের হয়। কোন দুঃখ-দুদর্শা যেন তাকে স্পর্শ না করে। তাই কি
হয় ? গাছপালা থাকলে সেখানে বাতাস বইবেই। আমরা বাতাসকে যেমন দেখিনা বা ধরতে
পারি না, তেমনি নিয়তিকেও আমরা ধরতে বা দেখতে পারি না। সেটা এক অদৃশ্য
দৃশ্যাপট। সাগরের বুকে যদি আমরা চোখ রাখি তাহলে দেখতে পারব, সেখানে কখনও
প্লাবন, কখনও শান্ত প্রবাহনীর স্রোত। আবার কখনও গর্জে উঠা উত্তাল স্রোত।
যেন বিভীষিকা আমাদের ভয়ে আত্মস্ত করে তুলে। ঠিক তেমনি মানব জীবনেও কখনো
যুদ্ধ, ঝড় বয়ে যায়। আবার কখনো সুখ শান্তিতে সময় কাটে। কখনও দুঃখ দুর্দশায়
জীবন পরিচালিত হয়। সুতরাং মানব জীবনটা সেই স্রোতসিনী নদীর মতো বহমান।
কিন্তু মানুষের সাথে এটার এমনি পার্থক্য হলো যে, মানুষের জীবন অল্প দিনের।
প্রতিকূলতার সাথে লড়তে লড়তে হয়তো কেউ হাঁপিয়ে উঠে। ক্লান্তি অনুভব করেন। তখন ওই মুহূর্ত যেন মনে হয় এক দুর্বিষহ কন্টকাকীর্ন সময়। বিপর্যস্ততার কারণে নিজের আত্মবিশ্বাস তারা হারিয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন জীবনে গতির। সুদৃশ্য পথকে দেখে থাকেন এক ঝাপসা মেঘলা দিনের মত। তখন মনে হয় জীবনের যেন অন্তিম সময় সামনে দাঁড়িয়ে গেছে। বদ্ধ ঘরের মতই বন্দি শালা বলে মনে হয় পৃথিবীটাকে। বেঁচে থাকার আশা নেই বললেই চলে। পরাজয় আর ব্যর্থতার কারণে নিজের জীবনটাকে বিষাক্ত, ধৈর্যচ্যুতি, অবক্ষয় মনে হয়। সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার ক্ষীন মুহূর্তটাকে মানুষ ঘৃণা করে। আর পৃথিবীটাকে স্বার্থপর ভেবেই অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। সত্যি কি পৃথিবী স্বার্থপর ? তুমি পৃথিবী কে আপন ভাবতে পার কিন্তু পৃথিবী তোমাকে আপন বলে মনে করে না। পৃথিবী তোমাকে মুহূর্তের জন্য অতিথি বলেই মনে করে। যেমন আমরা মুহূর্তের আকর্ষণকে গভীর মন নিয়ে উপলব্ধি করি। কথাটি মনে হয় বোঝাতে পারছিনা। এমন কিছু পৃথিবীর মানুষ আছে. তারা নতুন নতুন প্রেমের জন্য প্রত্যাশায় পথ চলে। এমন কেউ আছে প্রতিদিন তাকে নিত্য নতুন সঙ্গী লাগে। ঠিক তেমনি পৃথিবী নতুনত্বের বিশ্বাসী। যখন তুমি শিশু হয়ে পৃথিবীতে এলে, তখন তুমি তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন অতিথি। আর যখন তুমি বৃদ্ধ অবস্থায় উপনিত হবে তখন তার কাছে বোঝা বলেই মনে হবে। কথাটা কাল্পনিক নয়, বাস্তবেই অবিনশ্বর। যেমন আপনার মা-বাবার কথাই ধরা যাক। শৈশব থেকে তারুণ্যে আসায় পর্যন্ত যে বয়সটি আপনার প্রয়োজন সে পর্যন্ত আপনাকে লালন পালন করল। যখন আপনি নতুন একজন সঙ্গী (স্ত্রী) জীবনের সাথে সংযোগ করলেন, তখন দেখা যাচ্ছে আপনার মা-বাবা হয়তো বৃদ্ধ অবস্থায় উপনিত। তখন তাদের কথা ভুলে যেতে থাকেন নতুন সঙ্গিনীকে পেয়ে। বছর কয়েক পরে যখন তারা চলাফেরা করতে নেহাৎ-ই অক্ষম কিংবা রোগ শয্যায় শায়িত থাকেন, তখন আপনি অর্থের স্বার্থেই হউক নতুবা প্রিয়সীর প্রেমের কারণেই হউক তখন তাদেরকে ভুলে যান বা বোঝা মনে করেন। ঠিক এরুপ দশ মাস দশ দিন আপনাকে আপনার গর্ভবতী মা পেটে রেখেছিলেন। তিনি তো বোঝা মনে করেন নি। যদি আপনার মতো স্বার্থপর হতেন, তাহলে তো আপনার পৃথিবীতে আসার আগেই গর্ভ নষ্ট করে দিতেন। ঠিক তদ্রুপ আপনি যদি নতুন সঙ্গী পেয়ে পুরাতন কে ভুলে যেতে পারেন, তাহলে পৃথিবী কেন এক সময় আপনাকে পুরাতন ভেবে নতুন কে গ্রহণ করবে না? তাই স্বার্থপরের সাথে লড়তে হলে স্বার্থপর হতে হয়।
ধরুন আপনার জীবনটা ৬০ বছরের ছক বাধা। বাঁচবেন ৬০বছর কিন্তু বর্তমান বয়স আপনার ৩০ বছর। আরও ৩০ টি বছর আপনি বাঁচবেন। যদি জীবনে হায়াৎ মউত এর কথা বলা যায় না। তথাপিও আমরা বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশে মানুষের গড় আয়ু ৬০ বছর। সেই অনুপাতে ছক বেধে নেওয়া হয়েছে। জীবনের ৬০ বছর। প্রথম ৩০ টি বছর হয়তো আপনার সুখে কিংবা দুঃখে কেটেছে। নানা প্রতিকূলতার সাথে আপনাকে লড়তে হয়েছে। যদি আপনার প্রথম জীবন দুঃখ দৈন্যতায় কেটে থাকে তাহলে আপনি হয়তো সাফল্য ও সুখকে ধরতে জীবনের সাথে প্রাণপন লড়াই করছেন। কিন্তু যখন সফল হতে পারছেন না প্রথম জীবনই আপনি হাপিয়ে উঠেছেন। আচ্ছা আপনার জীবনের গতি কত ? লক্ষ্য করুন । ৬০ কিঃ মিঃ আপনার জীবনের রাস্তা। চলতে হবে এই দীর্ঘ রাস্তাটি। এরই মাঝে দেখতে পারবেন নানা কিছু। আপনি কি দেখেন না একটি যাত্রীবাহী যানও চলতে চলতে হঠাৎ এক্সিডেন্ট করে বসে। চলন্ত ট্রেনটা তার গতি হারিয়ে দূর্ঘটনায় পরে। একটি যন্ত্রচালিত যানও যদি তার গতিহীনতার কারণে এক্সিডেন্ট করতে পারে তাহলে আপনার জীবনে যে এক্সিডেন্ট হবে না এমন কি নিশ্চিত হতে পারেন? সেই যন্ত্রের মতো চলছেন আপনিও। চলতে চলতে যখন আপনি ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত অনুভব করেন। তখন আপনার কাছে মনে হয় জীবনের গতি কমে এসেছে। একজন ক্ষুধার্ত মানুষ যেমন চলতে বিষাদ অনুভব করে, তেমনি একটি যন্ত্রও তার কাঙ্খিত খাদ্যের অভাবে তার চলা গতিহীন হয়ে পড়ে। তাই জীবন চলার পথে ঝড় আসবেই। সেই ঝড়ের সাথেও আপনার লড়তে হবে। আব্রাহাম লিঙ্কনের নাম আপনার ইতিহাসে শুনেছেন। তিনি ২১ বছর বয়সে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হন, ২২ বছর বয়সে আইন সভার নির্বাচনে পরাস্ত হন। ব্যবসায় ব্যর্থ হন আবার ২৪ বছর বয়সে। ২৬ বছর বয়সে তার প্রাণ প্রিয়তমা জীবন সঙ্গীনিকে হারান। কংগ্রেস নির্বাচনে পরাস্ত হন ৩৪ বছর বয়সে। ৪৫ বছর বয়সে হারেন সাধারণ নির্বাচনে, ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হন ৪৭ বছর বয়সে। সিনেটর নির্বাচনে আবার হারলেন ৪৯ বছর বয়সে। ২১ থেকে ৪৯ বছর পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে তিনি শুধু ব্যর্থ আর ব্যর্থ হন। তবু তিনি এখানেই শেষ নয় বলে দমলেন না, তিনি বললেন ব্যর্থতার পিছনেই সাফল্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে অপেক্ষা করছে। তাই তিনি পুনরায় যুদ্ধে নামলেন। অবশেষে তিনি সত্যি সত্যি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ৫২ বছর বয়সে। আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হলেই যে বেশি শিখব এমন কোনও কথা নেই। পিছনের ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করা উচিৎ, যাতে সেখান থেকে কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে সফলতার পথ উন্মেচনের দ্বার খোলা সম্ভব হয়। আমি দেখেছি এমন কিছু ব্যবসায়ীদের যারা সামান্য ব্যবসায়ে লস হওয়ার কারণেই ভেঙ্গে পরেন। পুনরায় ব্যবসায়ে নামতে ভয় পান এই ভেবে যে, যদি আবার ব্যবসায় ধস নামে। এক্ষেত্রে ‘যদি’ শব্দটি ব্যর্থতার ক্ষমতাকে চরম গুনে বাড়িয়ে দেয়। তার ফলে ব্যর্থতাকে লালন করি এবং তার সাথে লড়তে ভয় পাই। সিনিয়র টমাস ওয়াটসন বলেছেন, ‘যদি সফল হতে চাও তাহলে ব্যর্থতার হার দ্বিগুন বাড়িয়ে দাও’ আমরা যদি একটি বাইসাইকেলের প্রতি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাবো যে, একজন লোক সাইকেল চালানো শিখছে। কিন্তু সে বারবার সাইকেলটি চালানোর চেষ্টা করেও পারছেনা। মাঝে মাঝে আছার খাচ্ছে এবং পড়ে যাচ্ছে। ফলে তার মধ্যে একটা উদ্দিগ্নতার ভাবটি লক্ষ্য করা যায়। তা এমন যে, সে ওই মুহূর্তে তার ‘আমিত্ব’কে ব্যর্থতার ভাব প্রকাশ পায়। তবু সে সাইকেল চালানো শিখবে। তার এই ইচ্ছার আগ্রহ শক্তিটাকে বহু গুনে বাড়িয়ে দেয়। তখনি সে সফল হয়। এখন যদি তাকে বলা হল- তুমি কি সফল ? সে একটু উজ্জ্বল হাসি টেনে বলল, ণবং, ও ংঁপপবংং হড়.ি কারণ আমাকে অনেক চেষ্টা করতে হয়েছে এটার পিছনে। আমি মনে করি সাইকেল চালানোর মতোই ওই সব লোকদের চেষ্টা করা উচিৎ, যারা নিজেদের কে অপারগ বলে গণ্য মনে করে। ইংরেজীতে একটা প্রবাদ আছে- ‘শান্ত সমুদ্রে কখনও দক্ষ নাবিক হওয়া যায় না’। এখানে কি এটাই বুঝানো হয়নি যে, সমুদ্র যখন শান্ত, সেখানে তখন তরঙ্গ বা উত্তাল ঢেউ নেই। তাই সেখানে ঝড়ও নেই। অযোদ্ধার সাথে যেমন যুদ্ধার পরিচয় নেই, তেমনি শান্ত সমুদ্রে টাইটানিকের মতে দক্ষ নাবিকও নেই। আচ্ছা কোন একটি ব্যক্তিকে বলা হয় ‘সংগ্রাম’ কি? যদি ওই ব্যক্তি জীবনে কখনও যুদ্ধের সম্মুখীন না হন, তাহলে কি বলতে পারবেন সংগ্রামের অভিজ্ঞতা কি ? টমাস আলভা এডিসনের কাহিনী আমরা ইতিহাসে পড়েছি। বৈদুত্যিক ব্লাব এর আবিষ্কারক। তার ৬৭ বছর বয়সে ১৯১৪ সালে কয়েক মিলিয়ন ডলারের কারখানা অগ্নিকান্ডে পুড়ে বিনষ্ট হয়ে যায়। এই বৃহৎ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান টির ব্যাংকিং বীমা করা ছিল না। বয়স্ক এডিসন দেখলেন, তার জীবনের সমস্ত প্রচেষ্ঠার ফলক্রটি ভস্মে পরিণত হল। এবং তিনি মনে মনে এটাই বললেন, “বিপর্যয়ের মধ্যে একটি মহৎ শিক্ষা আছে। আমাদের ক্রটি-বিচ্যুতি পুড়ে ছাই হয়ে গেল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমরা আবার নতুন করে কাজ শুরু করব। ” এই সংজ্ঞাটুকু যদি ব্যবসায়ীরা মনে রাখেন, তাহলে অন্তত নিজেদের ব্যর্থতা, অপারগতা আর মনে দুঃচিন্তা, সংশয়, মন থেকে ঝেড়ে ফেলে সাফল্যকে খুঁজার চেষ্টায় নেমে পড়বেন এবং মনে ধৈর্য্য আসবে বলে আমার বিশ্বাস। মজার ব্যাপার হলো টমাস এডিসন তার ৩ সপ্তাহ পরেই দচযড়হড়মৎধঢ়য’ যন্ত্র আবিষ্কার করেন। তার ফলে তিনি আবার সাফল্যের শিখরে পৌছেন।
অনেকেই লেখার জগতে এসে ব্যর্থতা অনুভব করেন। এ ভেবে যে, তার লেখা কেন ছাপানোর উপযোগী হয় না। জানিনা আমার লেখাটি প্রকাশ হবে কি না? তাই বলে কি আত্মবিশ্বাস ছেড়ে দিয়ে লেখালেখি বন্ধ করে দিব? অন্ধকারের সাথে লড়তে লড়তে একদিন আলো দেখা যাবেই। এই দৃঢ় বিশ্বাস সামনে রেখে সে মনোভাব নিয়ে কাজ শুরু করেছি। তার শেষ না দেখে থেমে যাব? আমি মনে করি ‘যেখানে ব্যর্থতা শেষ, সেখানেই সাফল্যের শুরু’ আমরা যদি এই জানি যে যেখানে দাড়িয়ে আছি সেখানে মাটির নিচে স্বর্ণের খনি আছে। তাহলে কি আমরা বসে থাকবো না, না স্বর্ণের লোভে মাটি খুড়তে শুরু করব? স্বর্ণ খনিটি মাটির কত গভীরে আছে সেটা আমরা দেখি না, কিন্তু আমরা টনের পর টন মাটি কেটে উপরে তুলেছি তার হিসাবও করি না। আমাদের লক্ষ্য স্বর্ণ মাটির হিসাব নয়। তাই স্বর্ণের আশায় যদি আমরা গভীর থেকে গভীর মাটি খুড়ি, তারপরেও যেমন জানি না স্বর্ণ খনি আর কত দূর। তেমনি আমরা যে সাফল্যের জন্য ছুটছি তার পথও শেস কর দূর। তাই সাফল্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রবল ইচ্ছা ও পরিশ্রম। ওয়েস্টার্ন লেখক লুই-লামুর ছিলেন বিশ্ব খ্যাত একজন লেখক। জীবনে তিনি ৩৫০টি উপন্যাস রচনা করেছিলেন। পুরষ্কার পেয়েছেন অসংখ্য। তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশের জন্য ৩০০ প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছিলেন। কিন্তু সব প্রকাশকই তাকে ফিরিয়ে দিয়েি লেন। আমরা হলে লেখালেখি ছেড়ে দিতাম। কিন্ত ওয়েস্টার্ন লুই-লামুর কখনোই তা করেন নি। তাঁর লক্ষ্য ছিল অটুট। তাই তিনি লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়ে অবশেষে সাফল্য কে ঠিকই ধরতে পেরেছিলেন।
আকাশে মেঘ কখনো স্থায়ী ভাবে থাকে না। তাই তাকে সরে যেতে হয়। সাফল্য সেই সূর্যের মতো যে বার বার মেঘ টাকে ঢেকে রাখতে চাইলেও তা সে পারে না। তার কারণ সে স্থির নয়। চলমান তার গতি। তাইতো শুণ্য আকাশে কখনো মেঘ, কখনো পরিষ্কার আকাশ দেখতে পাই। ঠিক তেমনি মানব জীবনও এমন যে তার কখনো দুঃখ জর্জরিত জীবন, কখনো সুখী জীবন যাপন করছে। তাই জীবনে পদে পদে মানুষ কে সংগ্রাম করতে হয়। পরীক্ষায় পড়তে হয় বারবার। পরীক্ষা ছাড়া কৃতিত্ব বা জয় যেমন আশা করা যায় না তেমনি পরিশ্রম ছাড়া সৌভাগ্য মেলে না। যদি মিলে তাহলে তা অলৌকিক বৈ কিছু নয়। একবার সক্রেটিস কে এক তরুন জিজ্ঞাস করেছিলে ‘সাফল্যের রহস্যটা কি’ উত্তরে সক্রেটিস পরের দিন ছাত্রটিকে দেখা করতে বললেন, সে যখন এলো সক্রেটিস তাকে নিয়ে সোজা নদীতে নামলেন। হাটু বুক পেরিয়ে যখন গলা পানিতে তিনি গেলেন, তখন কিছু না বলেই ছেলেটির ঘাড় ধরে পানির মধ্যে ডুবিয়ে রাখলেন। ছেলেটি তখন পানির উপর মাথা তোলার জন্য বারবার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তিনি তাকে পানিতে ধরেই রাখলেন্ তার ফলে বাতাসের অভাবে ছেলেটি যখন নীল হয়ে যাচ্ছিল তখন তিনি তাকে উপরে তুলে চরে এনে বাতাস নেওয়ার সুযোগ করে দিলেন। ছেলেটি হা করে বাতাস গ্রহণ করছিল। কতক্ষণ পরে সক্রেটিস তাকে জিজ্ঞেস করল- যখন তুমি পানির নিচে ছিলে তখন সবচেয়ে আকূল ভাবে কি চেয়েছিলে ? ছেলেটি উত্তরে বলল, বাতাস। এটিই সাফল্যের রহস্য। এর কোন গুরু রহস্য নেই। সুতরাং তুমি যে ভাবে বাতাসের জন্য সংগ্রাম করছিলে সে ভাবেই পরিশ্রম কর। তাহলে সাফল্য অনিবার্য।
আমরা দেখি পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রাণীই জীবনের বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে থাকে। যদি আমরা এই দৃশ্যাপটও দেখে থাকি যে, ক্ষুদ্র প্রাণীদের মধ্যে সামান্য পিঁপড়াও তার প্রকৃতির সাথে টিকে থাকার জন্য সময়ের সাথে লড়ছে। তার সাথে গল্প করতে যান, সে বলবে সময় নেই। আমি আরও দেখছি এদেশের বেকার যুবকেরা তারা নিজেদের জীবনকে অভিশাপ বলে মনে করে। কিন্তু তারা এমন যে নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মেরে দুঃখ ডেকে আনে। এভাবে যে, সময়ের মূল্য তাদের কাছে কদাচিৎ বলে মনে হয়। সারা দিন তৈ তৈ করে ঘুরে বেড়াবে আর গভীর রাতে বাড়ি ফিরে খাওয়াটা পেলে হল, তারপর ঘুমিয়ে পরে। পরদিন সকাল ৮ টা ৯ টার দিকে ঘুম থেকে ওঠে। এই যে তার জীবনের একটি একটি করে মূলবান সময় ও দীন গুলো সে অবহেলায় পার করে দিচ্ছে। এই সময়টি যদি সে কোন ওয়ার্কশোপে কিংবা হতের কারিগরি শিক্ষার সময় কাটাত তাহলে পরিশ্রমী হবে বলে মনে করব। এবং পরিশ্রমের ফলেই সে জীবনে সাফল্য খুজে পাবে। এর বাস্তবটি গ্রহণ করা প্রত্যেক বেকারদের প্রয়োজন। তাই আমি বলি আপনার জীবন যদি মাঝপথে ব্যর্থতায় পরিণত হয়ে পড়ে তাহলে মনে ধৈর্য ধরুন। মনে রাখবেন ধৈর্য সাফল্যের অন্যতম সোপান। প্রথমেই বলেছি জীবনে যদি ৬০ কিলোমিটার যাত্রা হয় তাহলে মাঝপথে ব্যর্থতা কে জয় করে সাফল্যের জন্য অগ্রসর হোন। লক্ষ্য আপনার সাফল্য. ব্যর্থতা নয়।
“এখানেই শেষ নয়”
প্রতিকূলতার সাথে লড়তে লড়তে হয়তো কেউ হাঁপিয়ে উঠে। ক্লান্তি অনুভব করেন। তখন ওই মুহূর্ত যেন মনে হয় এক দুর্বিষহ কন্টকাকীর্ন সময়। বিপর্যস্ততার কারণে নিজের আত্মবিশ্বাস তারা হারিয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন জীবনে গতির। সুদৃশ্য পথকে দেখে থাকেন এক ঝাপসা মেঘলা দিনের মত। তখন মনে হয় জীবনের যেন অন্তিম সময় সামনে দাঁড়িয়ে গেছে। বদ্ধ ঘরের মতই বন্দি শালা বলে মনে হয় পৃথিবীটাকে। বেঁচে থাকার আশা নেই বললেই চলে। পরাজয় আর ব্যর্থতার কারণে নিজের জীবনটাকে বিষাক্ত, ধৈর্যচ্যুতি, অবক্ষয় মনে হয়। সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার ক্ষীন মুহূর্তটাকে মানুষ ঘৃণা করে। আর পৃথিবীটাকে স্বার্থপর ভেবেই অভিব্যক্তি প্রকাশ করে। সত্যি কি পৃথিবী স্বার্থপর ? তুমি পৃথিবী কে আপন ভাবতে পার কিন্তু পৃথিবী তোমাকে আপন বলে মনে করে না। পৃথিবী তোমাকে মুহূর্তের জন্য অতিথি বলেই মনে করে। যেমন আমরা মুহূর্তের আকর্ষণকে গভীর মন নিয়ে উপলব্ধি করি। কথাটি মনে হয় বোঝাতে পারছিনা। এমন কিছু পৃথিবীর মানুষ আছে. তারা নতুন নতুন প্রেমের জন্য প্রত্যাশায় পথ চলে। এমন কেউ আছে প্রতিদিন তাকে নিত্য নতুন সঙ্গী লাগে। ঠিক তেমনি পৃথিবী নতুনত্বের বিশ্বাসী। যখন তুমি শিশু হয়ে পৃথিবীতে এলে, তখন তুমি তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন অতিথি। আর যখন তুমি বৃদ্ধ অবস্থায় উপনিত হবে তখন তার কাছে বোঝা বলেই মনে হবে। কথাটা কাল্পনিক নয়, বাস্তবেই অবিনশ্বর। যেমন আপনার মা-বাবার কথাই ধরা যাক। শৈশব থেকে তারুণ্যে আসায় পর্যন্ত যে বয়সটি আপনার প্রয়োজন সে পর্যন্ত আপনাকে লালন পালন করল। যখন আপনি নতুন একজন সঙ্গী (স্ত্রী) জীবনের সাথে সংযোগ করলেন, তখন দেখা যাচ্ছে আপনার মা-বাবা হয়তো বৃদ্ধ অবস্থায় উপনিত। তখন তাদের কথা ভুলে যেতে থাকেন নতুন সঙ্গিনীকে পেয়ে। বছর কয়েক পরে যখন তারা চলাফেরা করতে নেহাৎ-ই অক্ষম কিংবা রোগ শয্যায় শায়িত থাকেন, তখন আপনি অর্থের স্বার্থেই হউক নতুবা প্রিয়সীর প্রেমের কারণেই হউক তখন তাদেরকে ভুলে যান বা বোঝা মনে করেন। ঠিক এরুপ দশ মাস দশ দিন আপনাকে আপনার গর্ভবতী মা পেটে রেখেছিলেন। তিনি তো বোঝা মনে করেন নি। যদি আপনার মতো স্বার্থপর হতেন, তাহলে তো আপনার পৃথিবীতে আসার আগেই গর্ভ নষ্ট করে দিতেন। ঠিক তদ্রুপ আপনি যদি নতুন সঙ্গী পেয়ে পুরাতন কে ভুলে যেতে পারেন, তাহলে পৃথিবী কেন এক সময় আপনাকে পুরাতন ভেবে নতুন কে গ্রহণ করবে না? তাই স্বার্থপরের সাথে লড়তে হলে স্বার্থপর হতে হয়।
ধরুন আপনার জীবনটা ৬০ বছরের ছক বাধা। বাঁচবেন ৬০বছর কিন্তু বর্তমান বয়স আপনার ৩০ বছর। আরও ৩০ টি বছর আপনি বাঁচবেন। যদি জীবনে হায়াৎ মউত এর কথা বলা যায় না। তথাপিও আমরা বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশে মানুষের গড় আয়ু ৬০ বছর। সেই অনুপাতে ছক বেধে নেওয়া হয়েছে। জীবনের ৬০ বছর। প্রথম ৩০ টি বছর হয়তো আপনার সুখে কিংবা দুঃখে কেটেছে। নানা প্রতিকূলতার সাথে আপনাকে লড়তে হয়েছে। যদি আপনার প্রথম জীবন দুঃখ দৈন্যতায় কেটে থাকে তাহলে আপনি হয়তো সাফল্য ও সুখকে ধরতে জীবনের সাথে প্রাণপন লড়াই করছেন। কিন্তু যখন সফল হতে পারছেন না প্রথম জীবনই আপনি হাপিয়ে উঠেছেন। আচ্ছা আপনার জীবনের গতি কত ? লক্ষ্য করুন । ৬০ কিঃ মিঃ আপনার জীবনের রাস্তা। চলতে হবে এই দীর্ঘ রাস্তাটি। এরই মাঝে দেখতে পারবেন নানা কিছু। আপনি কি দেখেন না একটি যাত্রীবাহী যানও চলতে চলতে হঠাৎ এক্সিডেন্ট করে বসে। চলন্ত ট্রেনটা তার গতি হারিয়ে দূর্ঘটনায় পরে। একটি যন্ত্রচালিত যানও যদি তার গতিহীনতার কারণে এক্সিডেন্ট করতে পারে তাহলে আপনার জীবনে যে এক্সিডেন্ট হবে না এমন কি নিশ্চিত হতে পারেন? সেই যন্ত্রের মতো চলছেন আপনিও। চলতে চলতে যখন আপনি ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত অনুভব করেন। তখন আপনার কাছে মনে হয় জীবনের গতি কমে এসেছে। একজন ক্ষুধার্ত মানুষ যেমন চলতে বিষাদ অনুভব করে, তেমনি একটি যন্ত্রও তার কাঙ্খিত খাদ্যের অভাবে তার চলা গতিহীন হয়ে পড়ে। তাই জীবন চলার পথে ঝড় আসবেই। সেই ঝড়ের সাথেও আপনার লড়তে হবে। আব্রাহাম লিঙ্কনের নাম আপনার ইতিহাসে শুনেছেন। তিনি ২১ বছর বয়সে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হন, ২২ বছর বয়সে আইন সভার নির্বাচনে পরাস্ত হন। ব্যবসায় ব্যর্থ হন আবার ২৪ বছর বয়সে। ২৬ বছর বয়সে তার প্রাণ প্রিয়তমা জীবন সঙ্গীনিকে হারান। কংগ্রেস নির্বাচনে পরাস্ত হন ৩৪ বছর বয়সে। ৪৫ বছর বয়সে হারেন সাধারণ নির্বাচনে, ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হন ৪৭ বছর বয়সে। সিনেটর নির্বাচনে আবার হারলেন ৪৯ বছর বয়সে। ২১ থেকে ৪৯ বছর পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে তিনি শুধু ব্যর্থ আর ব্যর্থ হন। তবু তিনি এখানেই শেষ নয় বলে দমলেন না, তিনি বললেন ব্যর্থতার পিছনেই সাফল্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে অপেক্ষা করছে। তাই তিনি পুনরায় যুদ্ধে নামলেন। অবশেষে তিনি সত্যি সত্যি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ৫২ বছর বয়সে। আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হলেই যে বেশি শিখব এমন কোনও কথা নেই। পিছনের ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করা উচিৎ, যাতে সেখান থেকে কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে সফলতার পথ উন্মেচনের দ্বার খোলা সম্ভব হয়। আমি দেখেছি এমন কিছু ব্যবসায়ীদের যারা সামান্য ব্যবসায়ে লস হওয়ার কারণেই ভেঙ্গে পরেন। পুনরায় ব্যবসায়ে নামতে ভয় পান এই ভেবে যে, যদি আবার ব্যবসায় ধস নামে। এক্ষেত্রে ‘যদি’ শব্দটি ব্যর্থতার ক্ষমতাকে চরম গুনে বাড়িয়ে দেয়। তার ফলে ব্যর্থতাকে লালন করি এবং তার সাথে লড়তে ভয় পাই। সিনিয়র টমাস ওয়াটসন বলেছেন, ‘যদি সফল হতে চাও তাহলে ব্যর্থতার হার দ্বিগুন বাড়িয়ে দাও’ আমরা যদি একটি বাইসাইকেলের প্রতি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাবো যে, একজন লোক সাইকেল চালানো শিখছে। কিন্তু সে বারবার সাইকেলটি চালানোর চেষ্টা করেও পারছেনা। মাঝে মাঝে আছার খাচ্ছে এবং পড়ে যাচ্ছে। ফলে তার মধ্যে একটা উদ্দিগ্নতার ভাবটি লক্ষ্য করা যায়। তা এমন যে, সে ওই মুহূর্তে তার ‘আমিত্ব’কে ব্যর্থতার ভাব প্রকাশ পায়। তবু সে সাইকেল চালানো শিখবে। তার এই ইচ্ছার আগ্রহ শক্তিটাকে বহু গুনে বাড়িয়ে দেয়। তখনি সে সফল হয়। এখন যদি তাকে বলা হল- তুমি কি সফল ? সে একটু উজ্জ্বল হাসি টেনে বলল, ণবং, ও ংঁপপবংং হড়.ি কারণ আমাকে অনেক চেষ্টা করতে হয়েছে এটার পিছনে। আমি মনে করি সাইকেল চালানোর মতোই ওই সব লোকদের চেষ্টা করা উচিৎ, যারা নিজেদের কে অপারগ বলে গণ্য মনে করে। ইংরেজীতে একটা প্রবাদ আছে- ‘শান্ত সমুদ্রে কখনও দক্ষ নাবিক হওয়া যায় না’। এখানে কি এটাই বুঝানো হয়নি যে, সমুদ্র যখন শান্ত, সেখানে তখন তরঙ্গ বা উত্তাল ঢেউ নেই। তাই সেখানে ঝড়ও নেই। অযোদ্ধার সাথে যেমন যুদ্ধার পরিচয় নেই, তেমনি শান্ত সমুদ্রে টাইটানিকের মতে দক্ষ নাবিকও নেই। আচ্ছা কোন একটি ব্যক্তিকে বলা হয় ‘সংগ্রাম’ কি? যদি ওই ব্যক্তি জীবনে কখনও যুদ্ধের সম্মুখীন না হন, তাহলে কি বলতে পারবেন সংগ্রামের অভিজ্ঞতা কি ? টমাস আলভা এডিসনের কাহিনী আমরা ইতিহাসে পড়েছি। বৈদুত্যিক ব্লাব এর আবিষ্কারক। তার ৬৭ বছর বয়সে ১৯১৪ সালে কয়েক মিলিয়ন ডলারের কারখানা অগ্নিকান্ডে পুড়ে বিনষ্ট হয়ে যায়। এই বৃহৎ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান টির ব্যাংকিং বীমা করা ছিল না। বয়স্ক এডিসন দেখলেন, তার জীবনের সমস্ত প্রচেষ্ঠার ফলক্রটি ভস্মে পরিণত হল। এবং তিনি মনে মনে এটাই বললেন, “বিপর্যয়ের মধ্যে একটি মহৎ শিক্ষা আছে। আমাদের ক্রটি-বিচ্যুতি পুড়ে ছাই হয়ে গেল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমরা আবার নতুন করে কাজ শুরু করব। ” এই সংজ্ঞাটুকু যদি ব্যবসায়ীরা মনে রাখেন, তাহলে অন্তত নিজেদের ব্যর্থতা, অপারগতা আর মনে দুঃচিন্তা, সংশয়, মন থেকে ঝেড়ে ফেলে সাফল্যকে খুঁজার চেষ্টায় নেমে পড়বেন এবং মনে ধৈর্য্য আসবে বলে আমার বিশ্বাস। মজার ব্যাপার হলো টমাস এডিসন তার ৩ সপ্তাহ পরেই দচযড়হড়মৎধঢ়য’ যন্ত্র আবিষ্কার করেন। তার ফলে তিনি আবার সাফল্যের শিখরে পৌছেন।
অনেকেই লেখার জগতে এসে ব্যর্থতা অনুভব করেন। এ ভেবে যে, তার লেখা কেন ছাপানোর উপযোগী হয় না। জানিনা আমার লেখাটি প্রকাশ হবে কি না? তাই বলে কি আত্মবিশ্বাস ছেড়ে দিয়ে লেখালেখি বন্ধ করে দিব? অন্ধকারের সাথে লড়তে লড়তে একদিন আলো দেখা যাবেই। এই দৃঢ় বিশ্বাস সামনে রেখে সে মনোভাব নিয়ে কাজ শুরু করেছি। তার শেষ না দেখে থেমে যাব? আমি মনে করি ‘যেখানে ব্যর্থতা শেষ, সেখানেই সাফল্যের শুরু’ আমরা যদি এই জানি যে যেখানে দাড়িয়ে আছি সেখানে মাটির নিচে স্বর্ণের খনি আছে। তাহলে কি আমরা বসে থাকবো না, না স্বর্ণের লোভে মাটি খুড়তে শুরু করব? স্বর্ণ খনিটি মাটির কত গভীরে আছে সেটা আমরা দেখি না, কিন্তু আমরা টনের পর টন মাটি কেটে উপরে তুলেছি তার হিসাবও করি না। আমাদের লক্ষ্য স্বর্ণ মাটির হিসাব নয়। তাই স্বর্ণের আশায় যদি আমরা গভীর থেকে গভীর মাটি খুড়ি, তারপরেও যেমন জানি না স্বর্ণ খনি আর কত দূর। তেমনি আমরা যে সাফল্যের জন্য ছুটছি তার পথও শেস কর দূর। তাই সাফল্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রবল ইচ্ছা ও পরিশ্রম। ওয়েস্টার্ন লেখক লুই-লামুর ছিলেন বিশ্ব খ্যাত একজন লেখক। জীবনে তিনি ৩৫০টি উপন্যাস রচনা করেছিলেন। পুরষ্কার পেয়েছেন অসংখ্য। তার প্রথম উপন্যাস প্রকাশের জন্য ৩০০ প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছিলেন। কিন্তু সব প্রকাশকই তাকে ফিরিয়ে দিয়েি লেন। আমরা হলে লেখালেখি ছেড়ে দিতাম। কিন্ত ওয়েস্টার্ন লুই-লামুর কখনোই তা করেন নি। তাঁর লক্ষ্য ছিল অটুট। তাই তিনি লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়ে অবশেষে সাফল্য কে ঠিকই ধরতে পেরেছিলেন।
আকাশে মেঘ কখনো স্থায়ী ভাবে থাকে না। তাই তাকে সরে যেতে হয়। সাফল্য সেই সূর্যের মতো যে বার বার মেঘ টাকে ঢেকে রাখতে চাইলেও তা সে পারে না। তার কারণ সে স্থির নয়। চলমান তার গতি। তাইতো শুণ্য আকাশে কখনো মেঘ, কখনো পরিষ্কার আকাশ দেখতে পাই। ঠিক তেমনি মানব জীবনও এমন যে তার কখনো দুঃখ জর্জরিত জীবন, কখনো সুখী জীবন যাপন করছে। তাই জীবনে পদে পদে মানুষ কে সংগ্রাম করতে হয়। পরীক্ষায় পড়তে হয় বারবার। পরীক্ষা ছাড়া কৃতিত্ব বা জয় যেমন আশা করা যায় না তেমনি পরিশ্রম ছাড়া সৌভাগ্য মেলে না। যদি মিলে তাহলে তা অলৌকিক বৈ কিছু নয়। একবার সক্রেটিস কে এক তরুন জিজ্ঞাস করেছিলে ‘সাফল্যের রহস্যটা কি’ উত্তরে সক্রেটিস পরের দিন ছাত্রটিকে দেখা করতে বললেন, সে যখন এলো সক্রেটিস তাকে নিয়ে সোজা নদীতে নামলেন। হাটু বুক পেরিয়ে যখন গলা পানিতে তিনি গেলেন, তখন কিছু না বলেই ছেলেটির ঘাড় ধরে পানির মধ্যে ডুবিয়ে রাখলেন। ছেলেটি তখন পানির উপর মাথা তোলার জন্য বারবার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তিনি তাকে পানিতে ধরেই রাখলেন্ তার ফলে বাতাসের অভাবে ছেলেটি যখন নীল হয়ে যাচ্ছিল তখন তিনি তাকে উপরে তুলে চরে এনে বাতাস নেওয়ার সুযোগ করে দিলেন। ছেলেটি হা করে বাতাস গ্রহণ করছিল। কতক্ষণ পরে সক্রেটিস তাকে জিজ্ঞেস করল- যখন তুমি পানির নিচে ছিলে তখন সবচেয়ে আকূল ভাবে কি চেয়েছিলে ? ছেলেটি উত্তরে বলল, বাতাস। এটিই সাফল্যের রহস্য। এর কোন গুরু রহস্য নেই। সুতরাং তুমি যে ভাবে বাতাসের জন্য সংগ্রাম করছিলে সে ভাবেই পরিশ্রম কর। তাহলে সাফল্য অনিবার্য।
আমরা দেখি পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রাণীই জীবনের বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে থাকে। যদি আমরা এই দৃশ্যাপটও দেখে থাকি যে, ক্ষুদ্র প্রাণীদের মধ্যে সামান্য পিঁপড়াও তার প্রকৃতির সাথে টিকে থাকার জন্য সময়ের সাথে লড়ছে। তার সাথে গল্প করতে যান, সে বলবে সময় নেই। আমি আরও দেখছি এদেশের বেকার যুবকেরা তারা নিজেদের জীবনকে অভিশাপ বলে মনে করে। কিন্তু তারা এমন যে নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মেরে দুঃখ ডেকে আনে। এভাবে যে, সময়ের মূল্য তাদের কাছে কদাচিৎ বলে মনে হয়। সারা দিন তৈ তৈ করে ঘুরে বেড়াবে আর গভীর রাতে বাড়ি ফিরে খাওয়াটা পেলে হল, তারপর ঘুমিয়ে পরে। পরদিন সকাল ৮ টা ৯ টার দিকে ঘুম থেকে ওঠে। এই যে তার জীবনের একটি একটি করে মূলবান সময় ও দীন গুলো সে অবহেলায় পার করে দিচ্ছে। এই সময়টি যদি সে কোন ওয়ার্কশোপে কিংবা হতের কারিগরি শিক্ষার সময় কাটাত তাহলে পরিশ্রমী হবে বলে মনে করব। এবং পরিশ্রমের ফলেই সে জীবনে সাফল্য খুজে পাবে। এর বাস্তবটি গ্রহণ করা প্রত্যেক বেকারদের প্রয়োজন। তাই আমি বলি আপনার জীবন যদি মাঝপথে ব্যর্থতায় পরিণত হয়ে পড়ে তাহলে মনে ধৈর্য ধরুন। মনে রাখবেন ধৈর্য সাফল্যের অন্যতম সোপান। প্রথমেই বলেছি জীবনে যদি ৬০ কিলোমিটার যাত্রা হয় তাহলে মাঝপথে ব্যর্থতা কে জয় করে সাফল্যের জন্য অগ্রসর হোন। লক্ষ্য আপনার সাফল্য. ব্যর্থতা নয়।
“এখানেই শেষ নয়”
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন