শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১১

কাব্য গল্প: যার জন্য কবি সেই আমার কবিতা

আমি তোমাকে ভালবেসে হয়েছি কবি
তোমাকে ঘিরেই আমার সমস্ত কবিতার উৎপত্তি
তুমি আমার কবিতার প্রাণ;
তোমাকে ঘিরেই কবিতা হয়ে উঠে আমার
এক একটি কবিতা বৈচিত্র্যের সমাহার।
তুমি আমার কবিতার দেবী
তোমাকেই আমি বার বার পুঁজো করি
হৃদয়ের কানায় কানায় তোমার উপস্থিতি
আমার সাহিত্যের ভাষার উৎস তুমি।
যখন আমি কবিতা লিখতে বসি
দু-চোখের পর্দায় সহসাই ভেসে উঠ তুমি
ভাষ্যকারের মত অকপটে বলতে থাক তুমি
আমার কবিতার আনজাম ভাষাগুলি।
নইলে এত ভাষা কোথায় পাই?
যে ভাষাগুলো কখনো কল্পনাই করিনি আমি?
আমার কবিতা লেখা সব অনুপ্রেরণা তোমার
নইলে এতো কবিতা লেখার সাধ্য ছিল আমার?
তোমাকে ভাল না বাসলে হয়তো হতাম না কবি,
মানুষগুলো চিনতো না আমায়
আর ডাকতো না আমায়
লেখক-কবি-সাহিত্যিক…….।
আমার অন্তরে বসে থাকা কবির কবি
সমস্ত কবিতার অঙ্কন শিল্পী
তুমি আর্ট কর আমি লিখি
হয়ে উঠে বিলকুল কি আশ্চর্য কবিতাগুলি!
আমি ভাবতেই পারিনি কখনো কবি হব আমি
অথচ সেই কবিত্বভাব ফোঁটালে তুমি;
আমার অন্তর-মস্তিস্কে বসে;
আমাকে চালিত কর কবিতা লিখনে]
আমি যে তোমায় ভালবাসি কত,
তাতো আমার কবিতাগুলো হরহর করে বলে দিবে।
কি আশ্চর্য সুন্দরী মানবী তুমি!
তোমাকে দেখলেই কেমন যেন পাগল হয়ে যাই আমি।
তোমাকে আমার জন্য বুঝি সৃষ্টি করেছেন,
মহাময় বিধি!
এত সুন্দর তুমি প্রকৃতিও হার মানে;
অপরুপ পূর্ণিমার জোস্না তোমার মোহনীয় রুপে;
নিস্প্রভ হয়ে যায়!
তোমাকে কল্পনায় আমি আমার অন্ধকার ঘরে উপস্থিত করি;
দেখি আমার অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘর-
তোমার নূরালোকিত রুপে অসম্ভব আলোকিত,
আমার আর ইলেক্ট্রিক বাল্ব জ্বালাতে হয় না।
পৃথিবীর প্রথম আনন্দময় সকাল ছিল সেটাই;
যে সকালে প্রথম তোমার-আমার জীবনে
ভালবাসার ফুল ফোঁটে পৃথিবীকে স্বাগত জানিয়েছিল।
আর সে সকালে তোমার হাত ধরে বলেছিলাম আমি তোমাকে ভালবাসি।
তুমিও বলেছিলে-‘আমিও তোমাকে ভালবাসি ‘এস’
সেদিন আমরা দু’জনই হাত হাত ধরে বলেছিলাম-
আজ থেকে আমরা শুধু-‘দুজন দু’জনাকেই ভালবাসব’।
তখন তুমি ছিলে ফুটন্ত গোলাপের মত,
ফুট ফোঁটে মোহানীয়া যৌবনে পা রাখা বালিকা।
যেন স্বর্গ থেকে সরাসরি পাঠিয়েছিলেন স্বয়ং স্রষ্টা;
যে রুপের বর্ণনা আজও আমি দিতে পারি না।
এখনও তুমি স্বর্গীয়াই যেন রয়ে গেছ
পুত:পবিত্রতায় নিজেকে অক্ষত রেখেছ;
কিন্তু হলো না, তোমার সাথে আমার-
প্রথম সকাল বেলার ফুল ফোঁটা পবিত্র প্রেম;
আজ অধ্যাবদি পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে।
সেই একা-একাই রয়ে গেলাম দু’জন দু’জনা।
পাড়ার ওই দুষ্টমতি লোকেরা সহ্য করতে পারল না;
তোমার-আমার ঐশ্বর্য ভালবাসার ঈর্ষায়;
অথচ দেখ ওই দুষ্ট লোকেরা আর বখাতেরা;
আমাদের-ই ছিল বন্ধু-বান্ধব-আর নিজ পরিবারের—।
তারা কিনা তোমার-আমার পরিবারে,
লাগিয়ে দিয়েছিল হিংসের দাবদাহের জ্বলন্ত অন্তরক্ষয়া আগুন,
এই আগুনে ছাড়খাড় হয়ে গেল দু’টি পবিত্র সবুজ হৃদয়।
ফলে তুমিও ভেঙে পড়লে;
ভেঙে পড়লাম আমিও;
মাঝখানে তো চলতে লাগল এভাবেই;
দীর্ঘ একযুগ নীরবতা।
দীর্ঘ এই যুগের নীরবতার ফাঁকে আমি হয়ে উঠলাম;
তোমাকে ঘিরেই-এই ২১ শতাব্দির একজন তরুণ কবি;
যার কবিতা এখন এখানে-সেখানে,
পত্রিকায় পাতায় পাতায় এমনকি ওয়েবসাইট ব্লগগুলোতে;
বিস্তর ছড়াছড়ি।
আমি পূর্বেই বলেছি আমার সমস্ত কবিতার-
মূল উৎস তুমি;
সবুজ প্রাণ তুমি;
মরুভূমির তৃষ্ণা তুমি;
শুস্ক মরুভূমির জলধারা তুমি;
তুমি কবির কবিতা!
মাঝখানের এই ১ যুগের নীরবতায়-
কেউ কি পেরেছি আমরা
একটি রাত শান্তিতে ঘুমাতে!!
জানো, সেদিন তোমাকে এক পলক দেখে;
কি মনে হয়েছিল?
মনে হয়েছিল তুমি আমারি রয়েছ।
তুমি আগের থেকে কত্তো লাবণ্য হয়েছ!
যৌবনে (২১শে) এসে;
তোমার কি অসম্ভব পরিবর্তন!!
জানো, মাঝে মাঝে যখন তোমাকে দেখি;
সত্যি-ই আমার হার্ট-বিট বেড়ে যায়!
আর তোমাকে দেখে থাকতেই ইচ্ছে করে,
কেন যে তুমি আমার কাছ থেকে-
কাছাকাছি থেকেও—দূরে থাক??
জানো, তোমাকে ঘিরেই রচনা করলাম;
গতবছর-লেখক সাহেবের পাত্রী চাই উপন্যাসটি।
ও তোমাকে তো বলাই হয়নি,
গত ২০০৫ সালের ৬ এপ্রিল রাতে-
যে স্বপ্ন;
এখনো আমি এক মুহুর্তে ভুলতে পারি না!!
জানো, কি ঘটেছিল সেই স্বপ্নে;
সংক্ষেপে তোমাকে কবিতায় খুলে বলছি-
সেই স্বপ্নে তুমি-আমি পালিয়ে বিয়ে করি;
আমার নামে মামলাও করে তোমার পরিবার;
আমরা উভয়-ই প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায়,
মামলাতে আমার কিছুই হয়নি।
বিয়ের পর তো শুরু হলো আমাদের গোছগাছ সংসার,
মনের মত সাজিয়ে ফেলি আমাদের ছোট্ট সংসারটি,
আস্তে আস্তে কাটতে লাগল সুখী দাম্পত্যের আনন্দের দিনগুলি,
এক বছরেই তোমার কোল জুড়ে এলো-
এক ফুট ফোঁটে কন্যা সন্তান;
নাম রাখলাম-তামিমা সুলতানা তিন্নি।
তার বছর তিনেক পর একটি ছেলে দিয়ে;
মহান আল্লাহপাক তোমার আরেকটি কোল আলোকিত করলেন।
ছেলেটির নাম রাখলাম-তামিম আহমেদ লিংকন।
এ দু’টো ছেলে-মেয়ে নিয়ে বেশ আনন্দেই কাটতে থাকে;
আমাদের আনন্দময় ঘর সংসার।
অবশেষ একদিন ১৫তম বিবাহ বার্ষিকীর রাতে,
একটি মজার ঘটনাই ঘটে;
ওই রাত্রে আমাদের ছেলে-মেয়ের জন্মদিনও পালন কি,
মহাধুমপান করে!
এর সাথে পড়ে আমাদের ১৫তম বিবাহ বার্ষিকীর রাত,
কি সারপ্রাইজ ওই দিন-রাতটি তাই না!!
রাত গভীর;
তুমি-আমি বিবাহ বার্ষিকীর রাতে সাজানো রঙিন ফুলশয্যায়,
আমরা মগ্ন হই প্রেম গল্পের মোহনার ভিতর;
যখন নিবির রাত আমাদের নিদ্রায় আচ্ছন্ন করল-
আমরা ঘুমি পড়লাম স্বামী-স্ত্রী,
যেন স্বর্গীয়-ই ছিল রাতটি।
হটাৎ ঘুম ভাঙলেই হয়ে যাই একা!
১৫ বছর দাম্পত্যের স্বপ্ন ভাঙা;
এটা কি ট্রাজেডি স্বপ্ন নয়!
এটা কি বিচিত্র স্বপ্ন নয়!!
এটা কি স্মরণীয় স্বপ্ন নয়!!!
আমি সেরুপ কষ্ট পেয়েছিলাম,
যেরুপ কষ্ট পেয়েছিলাম-
সেই ভালবাসার ফুল ফোঁটা ভোরে,
সেদিন চলছিল তোমার-আমার উপর;
যেন তীব্র আঘাত হানা প্রলয়করী সিডর কিংবা নারগিস ঝড়!
কি সেই মুহুর্তের দিনগুলি,
মনে আছে তোমার?
সেই স্বপ্ন আর স্নিগ্ধ সকালের মন ভাঙা,
সাত সাগর জলের সমান কষ্ট নিয়ে,
পাথর চাপা হৃদয় নিয়ে-
নীরবে বয়ে চলেছি ক্লান্তময় পথিকে,
তা কি কখনো বুঝতে চেষ্টা করেছ?
জানো, আমার কষ্টগুলো এখন শেয়ার করি,
কাগজ আর কলমের মধ্যস্থটায়-
চোখের জলগুলো কলমের কালিতে মিশ্রিত করে,
সাজাই তোমাকে ঘিরে এক একটি বেদনার্ত কবিতা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন