শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১১

কাব্য গল্প: একদিন পৃথিবী আর আমি

একদিন পৃথিবীর কাছে জানতে চাইলাম
এখানে আমার দায়িত্ব কি,আমার করনীয় কি,
তোমার দায়িত্ব পরম স্রষ্টার আরাধনা,আনুগত্য স্বীকার করা
যিনি তোমাকে-আমাকে সৃষ্টি করেছেন,তুমি তারই ইবাদত কর,
কেন জ্বীন-ইনসানকে একমাত্র তাঁরই ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।
আমি অবিভূত ও অনুকম্পিত হই আর আমার দায়িত্ব,
ফের জিজ্ঞেস করি;
যতদিন বেঁচে থাক কাজের কাজ কর,মহান স্বত্বার হুকুম পালন কর,
হেলা-খেলায় জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করো না,
যে জীবন তুমি পেয়েছ তা ওই সৃষ্টিকর্তার কাছে শোকরিয়া আদায় করো,
মনে রেখ যেদিনটি তোমার হারিয়ে গেল তা আর ফিরে আসবে না,
তাই আজকের দিনটি তোমার কি করা উচিত,আগামীকালের জন্য প্রস্তুত থাকো,
প্রত্যেকটি দিন আদম সন্তানকে এই আহবান করে ডাকতে থাকে,
আমি তোমার জীবন থেকে চলে গেলে আর ফিরবো না।
মনে করতে পার খোদা তাআলা ইচ্ছে করলে তোমাকে মানুষ না বানিয়ে,
ভিন্ন কোন জাতিতে রুপান্তর করতে পারতেন।
আমি আবার শিহরিত,পুলকিত হই,বিস্ময়ে শুনতে থাকি পৃথিবীর বাক্যলাপ।
জানো মানব,একমাত্র তোমরা ইনসান ও জ্বীনরাই আমার বুকে অদ্ভূত সৃষ্টিকৃত প্রাণী,
তবে জ্বীনদের চেয়ে তোমরা আরও ভয়ঙ্কর,অদ্ভূত!
কেন হে পৃথ্বি?
তোমরা রক্তপাত ঘটাও,এক একজনকে খুন কর,মানবতাহীন কতক পাষান হৃদয়ী হয়ে থাক
পৃথিবীর একমাত্র কোলাহলপূর্ণ,বাধ্য-অবাধ্য জাতি তোমরা মানব!
মনে পড়ে তোমাদের অতীত সভ্যতায় অবাধ্যতার জন্য বানর বানানো হয়েছিল,
তোমরা হিংস্রুক,ভয়ানক,পাথর হৃদয়ী কতক আচরন করে থাক,
তোমরা নিজেদের পাপের রাজ্যে লিপ্ত থেকে মুমিনদেরকে কষ্ট দিয়ে থাক,
নিজেদের পাপের কারণে অতীতে একটার পর একটা সভ্যতা ধ্বংস হয়েছে,
কুরআন-ইতিহাস পড়ে দেখ কি পরিণতি হয়েছিল অবাধ্যচারীদের!
আমি পৃথিবী দেখেছি এই ধ্বংসীল দৃশ্য,যুগে যুগে এক একটি নতুন সভ্যতার উদ্ভব;
আমি পৃথিবী আগে যেমন ছিলাম এখনো তেমনি আছি,
মাঝখানে পার হয়েছে তোমাদের গণনাকৃত সময়-কালের বিবর্তন ধারা।
বলতে পার পৃথিবীর বয়স এখন ছয়শ কোটি বছর!
পৃথিবী আমি তোমার বুকে যুগ যুগ বেঁচে থাকতে চাই,বলি আমি
সম্ভব নয় মানব,কারণ তুমি আমি উভয়েই সৃষ্টিকর্তার আইনে ধ্বংসীল
তবে তুমি তোমার সৃষ্টির মাঝে বেঁচে থাকতে পার,
যতদিন আমি পৃথিবী ধ্বংসের আগ পর্যন্ত বেঁচে থাকি,
আমি তোমাদের মানব কৃত্বীর অনেক কিছুই স্বাক্ষর করে রেখে চলেছি,
ইবনে সীনা,আল বেরুনী,হেরোডোটাস,সক্রেটিস,প্লেটো-এরিস্টল,রবিঠাকুর,কাজী নজরুল,
এরকম বহু মণিষীর নাম,তাঁদের সৃষ্টি স্বত্তা তোমরা এখন জানতে পারছ।
তোমরা মানব সৃষ্টির পূর্বে আমার বুকে জ্বীনরা বসবাস করতো
কিন্তু তারা বেঁচে থাকতে পারেনি,কারণ তারা ছিল শৃঙ্খলহীন রক্তপাত ঘটানো জাতি,
ফলত তারা ধ্বংস হয়েছ তাদের পাপে আমি বিষাক্ত হয়ে উঠেছিলাম।
যার ফলে আল্লাহ পাক তার ফেরেশতাদ্বীয়কে দিয়ে সমূলে ধ্বংস করেছিলেন,
অত:পর তোমাদের আগমন হে মানব!
উত্তম কাজের ফলাফল সব সময় প্রশংনীয়-ই হয় মানব;
আমি পৃথিবী সব কিছু দেখেই চলেছি এই কাল-মহাকাল ধারায়।
এখন আছি ধ্বংসের অপেক্ষায়;
তোমরাও দাঁড়িয়ে আছ এই ধ্বংসের অপেক্ষায়,
তোমাদের এ যান্ত্রিক সভ্যতায় বেড়ে চলেছে পাপ আর পাপাবলীর বসত
যান্ত্রিক ক্যাটাগরিতে তোমরা উন্মোচন করে চলে নগ্ন নর-নারী যৌন বিলাসী চিত্র
যেখানে লজ্জা থাকার কথা;সেটা আজ বিলুপ্ত হতে চলে,
এখন চলছে নারীর দেহ প্রদর্শনের প্রতিযোগিতার বিপনন বিলাস।
তোমরা যন্ত্রের গোলাম হয়ে যাচ্ছ ক্রমশ;
তাহলে কি পৃথিবীর মানব সূচনা হয় নগ্ন থেকেই? আমার প্রশ্ন
হ্যা ঠিক বলেছ মানব,মানুষ পৃথিবীতে নগ্ন হয়েই জন্মগ্রহন করে,
ফের নগ্নটা নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়,
বলা যেতে পারে পৃথিবীর মানুষের সূচনা নগ্ন সভ্যতার মিল আজকের সভ্যতা
এর মাঝখানে তোমাদের যন্ত্রের ব্যবহারই তোমাদের লজ্জা খেয়ে ফেলছে সুস্থ্য সভ্যতা।
বলতে পার আইয়ামে জাহেলিয়া হতেও এই যান্ত্রিক সভ্যতা আরও অন্ধকারের চেয়েও কম নয়;
তবে হতাশ হবার কিছু নেই,তোমরা এমন এক আখেরী যামনার নবীর উম্মত
যাকে সৃষ্টি করতে না পারলে আমাকেও সৃষ্টিও করতো না,
হ্যাঁ মানব তোমরা খুব ভাগ্যবান নবীর উম্মত
আহম্মদ মোস্তফা (সা) মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানিত রাসুল
যার নূরে আমি পৃথিবী পর্যন্ত গ্রহ-নক্ষত্ররাজি দ্বারা আলোকিত
তোমরা তোমাদের রাসুলকে অনসরন কর,
যার উম্মতরা সর্বপ্রথমই চিরশান্তির বাগিচার জান্নাতে প্রবেশ করবে
তোমরা কি জানো না,তোমাদের মুহম্মদী নবী (সা) এর নাযিল হয়েছে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ,
পবিত্র আল কোরআন!!
যা কেয়ামত পর্যন্ত এর কোন বিন্দুমাত্র রদবদলের কোন আশংকা নেই,
তোমরা এ কোরআনকে বুকে আগলে রাখ,
মানব,তুমি যেহেতু সৃজনশীল একজন রচনাকার,
তুমি তোমার লেখার মাঝে তাওহীদের বাণী ছড়াতে পার,
মনে করতে পার,তোমাদের খাস দিলের তওবা মহান আল্লাহর কাছে অতি পছন্দনীয়,
তোমরা অল্প ইবাদতে জান্নাতে যেতে পার,
নিশ্চয়ই তোমরা লাইলাতুল ক্বদরের নাম শুনেছ,
যার ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম!!
তোমাদের একমাত্র কাজ শয়তানকে মন থেকে উৎখাত কর,
তুমি লিখেছিলে না,পৃথিবীটাই আমার কবিতার কাব্য মঞ্চ
তুমি এমন কাব্য রচনা কর যেখানে উন্মাদের পদাচারণ না থাকে,
তোমার সৃষ্টিটাও ইবাদতের একটা সারবস্তু হতে পারে,
তুমি সেভাবে তোমার সৃষ্টির সম্ভার সাজিয়ে দাও,
যেখানে আমি পৃথিবী তোমাকে আ-স্মরণীয় করে রাখি।।
[অসমাপ্ত]

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন