কাব্য গল্প: চন্দ্রমল্লিকার সোনালী-রুপালি সন্ধ্যা
পৃথিবীর এমনি এক রুপালী স্নিগ্ধ আগমনিত সন্ধ্যা
বিকেলই বলা যায়। ঘড়ির কাটায় বিকেল পাঁচটা পেরিয়ে চলন্ত কাটা।
কবি সাকা-চন্দ্র মল্লিকা এই আবহিত বিকেল-সন্ধ্যা উপভোগ করতে
বেরিয়েছে ঘর থেকে বাহিরে পদ হাটুনির যাত্রায়।
দিনটি শুক্রবার। ঝরঝর বহমানিত দখিনা শীতল শিহরন জাগা বাতাস
কবি বসে আছে ডাকবাংলোর তীর ঘেঁষা নদী মহানন্দার উত্তর কিনারায়,
মুখে শরতের ফোঁটা কাঁশফুলের ডগা চিবুনির মাঝে ফুটে উঠছে নান্দনিক দৃশ্য
মল্লিকা অনতি দূরে মহানন্দার চরে আধো জলে পায়ে গল্পে মোহচ্ছন্ন
সূর্যাস্তের রক্তিম লীলিমা হাসছে মৃদুতায় নদী মহানন্দার শান্ত স্রোতের ঢেউয়ে
এপারে-ওপারে অগনিত দর্শক চোখ মেলে এই সূর্যাস্ত অবাক নয়নে দেখে
অদূরেই গল্পে রত তিন নিন্দুক কি মনে করে চলে এসেছে,
এই লোভনীয় সূর্যাস্ত নীলিমা রাঙা প্রেমের টানে উম্মাদনার ডাকে।
পঞ্চাশার্ধ বয়েসে শুভ্র কেশী-দাঁড়ি গোঁফে পানি চিবুনির মর্দামীর একটা ভাব
এই শোভনীয় বিকেলটা ফুটে উঠেছে যেন অনন্য অনুপমায়।
বেনু মন্ডল,ফটিক চান মৌল্লা,আক্কাস জোয়াদ্দার কবির এলাকায় সম্ভ্রান্ত খচ্চর মাতব্বর
সহসাই চোখ পড়ে কবির বসার তীরের দিকে বেনু মন্ডলের,সহসাই বলে উঠে-
ওই তো আমাদের গাঁয়ের সাকা নামের কবিতা পাগল ছেলেটা না?
মাথায় ঝাকরা চুল,চোখে চশমা হাতে অত্যাধুনিক ল্যাপ্টপ,
কী দিব্বি কবিতা পাগলের মতো লিখে চলে।
হ্যাঁ হ্যাঁ,ওই ছেলেটাই তো ঝাকরা চুলের চশমা ছেলেটা,আচ্ছা ও এখানে কেন?
হাত চুলকাতে চুলকাতে বলে আক্কাশ জোয়াদ্দার।
আরে নদী মহানন্দার রুপ কবিতায় সাজালেই কি আর পেট ভরবে?
আরে ধুররু; ও এখানে এসেছে কোন মাইয়া-টাইয়ার সাথে যদি প্রেম-জারি
গোঁফ টানতে টানতে বলে বেনু মন্ডল।
আহ্-হা পেতে নাই ভাত,করবে মাইয়ার সাথে প্রেম! বলে ফটিক মোল্লা
ঠিক বলেছেন,খুব তো সেদিন বাবু প্রশান্ত রায় আমাদিগকে লেকচার দিয়ে গেল,
তাঁর অ্যাডভোকেট হওয়া মাইয়াটা নাকি ওই ছেলেটার সাথে বিয়ে দিবে,
আরে বলা সহজ,কাজের বেলায় সেটা রুপ দিতে কতবার মানুষের মন পরিবর্তন হয়
আক্কাস জোয়াদ্দার যেন মুখটা কুচিয়ে বাকা হাসি টেনে বিদ্রুপাচ্ছলে বলে।
আসলে আমার মনে হয়,আমাদের অপমান করাই ছিল সেদিনে মুখ্য উদ্দেশ্য,
আচ্ছা এই সভ্যতায় কবির চেয়ে কাকের সংখ্যা বেশী কীনা? বলে ফটিকচান মোল্লা।
অবশ্যই,বাংলাদেশের যে হারে কাক প্রতিদিন কা কা করে উড়ে বেড়ায়,
তার চেয়ে কবিদের উন্মাদনায় বিচরিত সারা বিশ্বের চারপাশ
তাছাড়া যন্ত্র সভ্যতায় মানুষের কবিতা-সাহিত্য পড়ার সময় কোথায়,
চারদিকে মোবাইল এমপিথ্রি,ভিডিও নোংড়ামীতে মগ্ন এ ডিজিটাল সভ্যতা,
জাহেলিয়ার যুগের চেয়ে এ যুগকে কম বলা যায় কিসে বলুন তো?
সেদিন বাজার থেকে রাত ন’টায় বাসায় ফিরছিলাম,
বাসার নিকট ব্রীজটায় এসেই দেখি দশ-বার বছরের ছেলেরা মোবাইলে ন্যাংটা ছবি দেখছে,
হায়রে সভ্যতা! ভাবতেই অবাক লাগে। বলে উঠেন-আক্কাস জোয়াদ্দার।
জানি না কি যুগরে বাবা! আমার ছেলেটা সারারাত ল্যাপটপ নিয়ে ঘুমহীন রাত কাটায়,
একদিন মেয়ে সুশীলা বলছিল ভাইয়া,ফেসবুকে কি সব চ্যাটিন করিস,ঘুমাবি না?
আমি আড়ালেই থেকেই শুনতে পাচ্ছি এ ভাই-বোনের কথোপকথন। আমি বুঝতে পারছি
এখনকার কবিদের যন্ত্রন সভ্যতায় অনেক পরিবর্তন,এখন আর কবিরা-
হাতে কলমে কবিতা না লিখে কম্পিউটারে কি সব টিপাটিপি করে চলে,
বলেন বেনু মন্ডল।
এই যে শুনেন;পিছন থেকে বিনীত স্বরে সালাম দেয় চন্দ্রমল্লিকা
সালামের আওয়াজ পেতেই মুখ ঘুরিয়ে চোখ পড়ে তিনজনেরই এক নয়োনা যুবতীর দিকে
এতো সুন্দর! গোলাপ রাঙা রক্তিম শিশির ঝরা ঠোঁটে মিহি কন্ঠস্বর!
মুখ শ্রাবস্তির সৌন্দর্য্যময় অনুপম মার্ধুয্যিত রুপ,সাত স্তরে ঢাকা যৌবনা বুক,
তিন নিন্দুক দৃষ্টি-ই যেন ‘থ’অক্ষরে এসে হোঁচট খাচ্ছে বারংবার
এই পঞ্চাশার্ধ বয়সে কটিবদ্ধ পোষাকের অভ্যন্তরে জেগে উঠে আরেকটা মাস্তুল শরীর,
শিহরনে ঝাকিয়ে তুলে ঝিমন্ত যৌবনে হঠাৎ কোন বানের ধাক্কায় তোড়ে।
তিন নিন্দুকের জ্বিহবায় লোলুপ দৃষ্টি দেখে বুঝতে পারে চন্দ্রমল্লিকা
বদমাইশ,শয়তানটাইপের বুড়োগুলো মন থেকে উঠে আসে সদুচ্চারিত শব্দ-বাক্য।
বেনু মন্ডল ফটিকচান মৌল্লাকে খোঁচা দিয়ে চোখের ইশারায় কথা বলতে চান,বলেই ফেলেন-
কে আপনি বলুন তো,আকাশ থেকে নামলেন না ধরা থেকে এলেন?
কি মনে হয়? চন্দ্রমল্লিকার বিনয় জবাব।
মনে হচ্ছে আকাশ থেকে নেমে এসেছেন,কি নাম আপনার?
চন্দ্রমল্লিকা
চন্দ্রমল্লিকা! তার মানে আপনি অ্যাড.চন্দ্রমল্লিকা বাবু প্রশান্ত রায়ের মেয়ে!!
হ্যাঁ। কেন চমকে উঠলেন যে?
আপনার নাম শুনেছি,কিছুক্ষন আগেও আপনাকে জপ করলাম। বলতে লাগলেন বেনু মন্ডল
ধন্যবাদ। আচ্ছা ওই যে নদীর তীরে বসা সাকাকে চিনেন নিশ্চয়ই?
হ্যাঁ হ্যাঁ চিনবো না মানে; আমাদের গাঁয়ের ছেলে কবি,বড়ই উন্মাদ;
উন্মাদ!
তাই তো,কবিরা তো সাধারন উন্মাদই হয়,
মানে?
উন্মাদ মানে জানেন না,পাগল দেখছি আপনি?
ঠিক বলেছেন,ওই যে পাগল কবিকে আমি আগামী ১১.১১.১১ তে বিয়ে করতে যাচ্ছি
এ্যাঁ,(তিনজনই অবাক) বলুন কি? দেখুন এতো বড় ভূল কেন করতে যাচ্ছেন?
তাছড়া আপনি হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিজাত বংশের মেয়ে,
কে বললো আমি হিন্দু, আমি তো এখন মুসলমান। ইসলামী শরীয়াহ মতে,
এই রমজানে ত্রিশটি রোজা,পাঁচ ওয়াক্ত নামায,তারাবীহ্,সাদকাতুল ফেতর আর,
আর কি?
আর মহান আল্লাহর পবিত্র গ্রন্থ কুরআনুল মাজীত তেলাওয়াত করেছি।
যা মুসলমান হয়ে এই তিন জনের মধ্যে একজনও আপনারা রোজা রাখেন নি?
এই মেয়ে রোজা রাখিনি মানে? অগ্নিশর্মা হয়ে বলে উঠেন ফটিক চান মৌল্লা।
না আপনারা কেউ রোজা রাখেন নি,দিনের বেলায় চোরের মতো পর্দার আড়ালে,
হোটেলে বসে কি দিব্বি ভাবে নাস্তা,চা,পান,সিগারেট খেয়েছেন,বলেন মিথ্যে বলছি?
না আসলে,মিথ্যা আসলে বলেন নি? জানেন আমরা কারা?
আপনাদের চিনে এক ফোটা লাভ আছে? শয়তানদের চিনতে কাঁঠ খড়ি পোড়াতে হয় না।
এই মেয়ে তুমি কিন্তু সীমা পেরিয়ে যাচ্ছ?
সীমান্তেই তো আছি,দ্যাখুন না পাশেই ভারত; মাঝখানে শুধু নদী মহানন্দাটাই ব্যবধান।
মল্লিকা তুমি কাদের সাথে তর্ক করছো?
এরা সমাজের ঘুনে ধরা কালক্রীত,তীর থেে উঠে এসে বলে কবি
ঠিক বলেছেন স্যার, এরা জুব্বা,পায়জামা দাঁড়ি রাখলেও মুখোশের আড়ালে বেঈমান
বলে কোর্ট-টাই পরা ঝাকরা চুলের ক্রেজে ভরা করা ভদ্রলোক
আরে অথর্ব তুমি?
জ্বি স্যার, আমি সেই অথর্ব যার দুটি পা ছিল না,অথচ আমাকে এক,
সোনালী ভবিষ্যত উপহার দিয়েছেন।
স্যার ইনি-ই কি চন্দ্রমল্লিকা ম্যাডাম,যার কথা কাব্য গল্পে ছত্রে ছত্রে বলে যাচ্ছেন?
হ্যাঁ অথর্ব,ইনিই তোমার ম্যাডাম।
ম্যাডাম স্লাইমালাইকুম,আমি অথর্ব চন্দ্রমল্লিকার দিকে মুখ করে বলে অথর্ব,
ওয়ালাইকুম আসসালাম,আমি শুনেছি আপনার গল্প,কেমন আছেন?
জ্বি ভাল,আমাকে আপনি তুমি করে বলবেন।
আচ্ছা বলব,কখন এলে?
এই তো কিছুক্ষণ আগে; স্যার এরাই কি সেই কট্টোর তিন নিন্দুক?
যাদের কথা “ওই যে ছেলেটি কবিতা লিখে” কাব্য গল্পে উল্লেখ করেছিলেন?
হ্যাঁ অথর্ব,চলো বাসায়,
প্লিজ স্যার একটু সময় দিন,আমার মাথার মুকুটকে অসম্মান করবে,
আমি কি করে সহ্য করব বলুন?
এই যে আপনি ক্যাডা,এই পাগলদের সাথে উড়ে এসে জুড়ে বসে এক হলেন?
বলে ফটিক চান মোল্লা
আমি কাওসার আহমেদ অথর্ব,কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার আর
এক প্রাইভেট ভার্সিটির কম্পিউটার লেকচারার।
আর এই যে আপনার-আমার সামনে সাকা নামে কবি পাগল লোকটি,
ইনি কে জানেন? আমার মাথার বাদশাহী মুকুট,
আমার দুটি পা ছিল না,অথচ সেই পা হীন ছেলেটাকে পড়াশুনা করিয়ে
সোনালী ভবিষ্যত দিলেন,
যার নিন্দা এতোক্ষন কি সব উপমাচ্ছলে করে যাচ্ছিলেন,
জানেন কি? আমার সারা জীবনের অর্জিত সম্পদ স্যার,
সারা জীবন বসে খেলেও শেষ হবে না,
কাকে বলছেন আপনারা আমার স্যার দরিদ্র ,পাগল।
সত্যিকার মানুষ তো সেই যে, সে শুধু দিতেই জানে,পাওয়ার আশা করে না,
অন্ধকে পথ দেখান,অসহায়ের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন গভীর মানবিকতায়,
এই পঞ্চাশার্ধ বয়েসে কেন সব নিন্দার প্রার্থনায় শরিক হোন, আর কত দিন….।
নিন্দুকরা আর কথা বলে না; মাথা নীচু করে পথের উল্টো দিকে হাটা শুরু করে,
মহান পাক নিন্দুকদের মাথা নিচু করেই রাখেন,
যাতে তারা সম্মানের উপহার থেকে বঞ্চিত থাকে।
অথর্ব তুমি কখন এসেছ,একা না পরিবার নিয়ে? বলে কবি
স্যার আমরা বিকেল তিনটায় হোটেল সীমান্তের পাড়ে উঠেছি,সঙ্গে-
আমার স্ত্রী মোহনা,মেয়ে দৃষ্টি ও ছেলে মাহদী এসেছে,
কোথায় ওরা?
ওই তো মহানন্দার চরের বুকে হেটে বেরিয়ে এদিকে আসছে,
আসার সময় শুধু আপনার কথাই বলতেছিল মোহনা,বলছিল-
বাবাকে যেন প্রথম সালাম করি আমি,আর দৃষ্টি ও মাহদী বলতেছিল,
বাবা আমরা আগে দাদুকে সালাম করে আর্শীবাদ নেব,বললাম ঠিক আছে।
সাকা চলো আমরা তীরের কাছাকাছি এসে দাঁড়াই ওরা আসুক,
আর আমার বাসায়-ই ওদের প্রথম নিমন্ত্রন,বলে চন্দ্রমল্লিকা
আচ্ছা চলো।
সূর্য ডুবতে শুরু করেছে,লাল আভায় আকাশ যেমন রাঙা বধু সেজে অপরুপা,
মহানন্দার জলে ভেসে উঠে নীল রঞ্জিত উজ্জ্বল হাসি।
খুব কাছাকাছি হয় মোহনা,দৃষ্টি ও মাহদী,
অথর্ব মাহদী ও দৃষ্টিকে ডাক দিয়ে বলছে এই দ্যাখো তোমাদের দাদু,
দাদু দাদু বলে দৌড়ে আসতে থাকে দৃষ্টি মাহদী
পশ্চিমাকাশে লাল রেখাটা আস্তে আস্তে বিলীন হতে থাকে সন্ধ্যাকে বিদায় দিয়ে।
[প্রিয় ব্লগার বন্ধুরা ইচ্ছে ছিল,অথর্বর স্ত্রী মোহনা,মেয়ে দৃষ্টি ও ছেলে মাহদীর সাথে চন্দ্রমল্লিকার একটা অন্যরকম সম্পর্কের প্রানবন্ত আড্ডা জমে উঠে। চন্দ্রমল্লিকার সাথে কবির এই বেজোর সালে ১১.১১.১১ তেই বিয়ে করতে হতে চাচ্ছে,ইচ্ছে ছিল এই পর্বে তা তুলে ধরতে ]
বিকেলই বলা যায়। ঘড়ির কাটায় বিকেল পাঁচটা পেরিয়ে চলন্ত কাটা।
কবি সাকা-চন্দ্র মল্লিকা এই আবহিত বিকেল-সন্ধ্যা উপভোগ করতে
বেরিয়েছে ঘর থেকে বাহিরে পদ হাটুনির যাত্রায়।
দিনটি শুক্রবার। ঝরঝর বহমানিত দখিনা শীতল শিহরন জাগা বাতাস
কবি বসে আছে ডাকবাংলোর তীর ঘেঁষা নদী মহানন্দার উত্তর কিনারায়,
মুখে শরতের ফোঁটা কাঁশফুলের ডগা চিবুনির মাঝে ফুটে উঠছে নান্দনিক দৃশ্য
মল্লিকা অনতি দূরে মহানন্দার চরে আধো জলে পায়ে গল্পে মোহচ্ছন্ন
সূর্যাস্তের রক্তিম লীলিমা হাসছে মৃদুতায় নদী মহানন্দার শান্ত স্রোতের ঢেউয়ে
এপারে-ওপারে অগনিত দর্শক চোখ মেলে এই সূর্যাস্ত অবাক নয়নে দেখে
অদূরেই গল্পে রত তিন নিন্দুক কি মনে করে চলে এসেছে,
এই লোভনীয় সূর্যাস্ত নীলিমা রাঙা প্রেমের টানে উম্মাদনার ডাকে।
পঞ্চাশার্ধ বয়েসে শুভ্র কেশী-দাঁড়ি গোঁফে পানি চিবুনির মর্দামীর একটা ভাব
এই শোভনীয় বিকেলটা ফুটে উঠেছে যেন অনন্য অনুপমায়।
বেনু মন্ডল,ফটিক চান মৌল্লা,আক্কাস জোয়াদ্দার কবির এলাকায় সম্ভ্রান্ত খচ্চর মাতব্বর
সহসাই চোখ পড়ে কবির বসার তীরের দিকে বেনু মন্ডলের,সহসাই বলে উঠে-
ওই তো আমাদের গাঁয়ের সাকা নামের কবিতা পাগল ছেলেটা না?
মাথায় ঝাকরা চুল,চোখে চশমা হাতে অত্যাধুনিক ল্যাপ্টপ,
কী দিব্বি কবিতা পাগলের মতো লিখে চলে।
হ্যাঁ হ্যাঁ,ওই ছেলেটাই তো ঝাকরা চুলের চশমা ছেলেটা,আচ্ছা ও এখানে কেন?
হাত চুলকাতে চুলকাতে বলে আক্কাশ জোয়াদ্দার।
আরে নদী মহানন্দার রুপ কবিতায় সাজালেই কি আর পেট ভরবে?
আরে ধুররু; ও এখানে এসেছে কোন মাইয়া-টাইয়ার সাথে যদি প্রেম-জারি
গোঁফ টানতে টানতে বলে বেনু মন্ডল।
আহ্-হা পেতে নাই ভাত,করবে মাইয়ার সাথে প্রেম! বলে ফটিক মোল্লা
ঠিক বলেছেন,খুব তো সেদিন বাবু প্রশান্ত রায় আমাদিগকে লেকচার দিয়ে গেল,
তাঁর অ্যাডভোকেট হওয়া মাইয়াটা নাকি ওই ছেলেটার সাথে বিয়ে দিবে,
আরে বলা সহজ,কাজের বেলায় সেটা রুপ দিতে কতবার মানুষের মন পরিবর্তন হয়
আক্কাস জোয়াদ্দার যেন মুখটা কুচিয়ে বাকা হাসি টেনে বিদ্রুপাচ্ছলে বলে।
আসলে আমার মনে হয়,আমাদের অপমান করাই ছিল সেদিনে মুখ্য উদ্দেশ্য,
আচ্ছা এই সভ্যতায় কবির চেয়ে কাকের সংখ্যা বেশী কীনা? বলে ফটিকচান মোল্লা।
অবশ্যই,বাংলাদেশের যে হারে কাক প্রতিদিন কা কা করে উড়ে বেড়ায়,
তার চেয়ে কবিদের উন্মাদনায় বিচরিত সারা বিশ্বের চারপাশ
তাছাড়া যন্ত্র সভ্যতায় মানুষের কবিতা-সাহিত্য পড়ার সময় কোথায়,
চারদিকে মোবাইল এমপিথ্রি,ভিডিও নোংড়ামীতে মগ্ন এ ডিজিটাল সভ্যতা,
জাহেলিয়ার যুগের চেয়ে এ যুগকে কম বলা যায় কিসে বলুন তো?
সেদিন বাজার থেকে রাত ন’টায় বাসায় ফিরছিলাম,
বাসার নিকট ব্রীজটায় এসেই দেখি দশ-বার বছরের ছেলেরা মোবাইলে ন্যাংটা ছবি দেখছে,
হায়রে সভ্যতা! ভাবতেই অবাক লাগে। বলে উঠেন-আক্কাস জোয়াদ্দার।
জানি না কি যুগরে বাবা! আমার ছেলেটা সারারাত ল্যাপটপ নিয়ে ঘুমহীন রাত কাটায়,
একদিন মেয়ে সুশীলা বলছিল ভাইয়া,ফেসবুকে কি সব চ্যাটিন করিস,ঘুমাবি না?
আমি আড়ালেই থেকেই শুনতে পাচ্ছি এ ভাই-বোনের কথোপকথন। আমি বুঝতে পারছি
এখনকার কবিদের যন্ত্রন সভ্যতায় অনেক পরিবর্তন,এখন আর কবিরা-
হাতে কলমে কবিতা না লিখে কম্পিউটারে কি সব টিপাটিপি করে চলে,
বলেন বেনু মন্ডল।
এই যে শুনেন;পিছন থেকে বিনীত স্বরে সালাম দেয় চন্দ্রমল্লিকা
সালামের আওয়াজ পেতেই মুখ ঘুরিয়ে চোখ পড়ে তিনজনেরই এক নয়োনা যুবতীর দিকে
এতো সুন্দর! গোলাপ রাঙা রক্তিম শিশির ঝরা ঠোঁটে মিহি কন্ঠস্বর!
মুখ শ্রাবস্তির সৌন্দর্য্যময় অনুপম মার্ধুয্যিত রুপ,সাত স্তরে ঢাকা যৌবনা বুক,
তিন নিন্দুক দৃষ্টি-ই যেন ‘থ’অক্ষরে এসে হোঁচট খাচ্ছে বারংবার
এই পঞ্চাশার্ধ বয়সে কটিবদ্ধ পোষাকের অভ্যন্তরে জেগে উঠে আরেকটা মাস্তুল শরীর,
শিহরনে ঝাকিয়ে তুলে ঝিমন্ত যৌবনে হঠাৎ কোন বানের ধাক্কায় তোড়ে।
তিন নিন্দুকের জ্বিহবায় লোলুপ দৃষ্টি দেখে বুঝতে পারে চন্দ্রমল্লিকা
বদমাইশ,শয়তানটাইপের বুড়োগুলো মন থেকে উঠে আসে সদুচ্চারিত শব্দ-বাক্য।
বেনু মন্ডল ফটিকচান মৌল্লাকে খোঁচা দিয়ে চোখের ইশারায় কথা বলতে চান,বলেই ফেলেন-
কে আপনি বলুন তো,আকাশ থেকে নামলেন না ধরা থেকে এলেন?
কি মনে হয়? চন্দ্রমল্লিকার বিনয় জবাব।
মনে হচ্ছে আকাশ থেকে নেমে এসেছেন,কি নাম আপনার?
চন্দ্রমল্লিকা
চন্দ্রমল্লিকা! তার মানে আপনি অ্যাড.চন্দ্রমল্লিকা বাবু প্রশান্ত রায়ের মেয়ে!!
হ্যাঁ। কেন চমকে উঠলেন যে?
আপনার নাম শুনেছি,কিছুক্ষন আগেও আপনাকে জপ করলাম। বলতে লাগলেন বেনু মন্ডল
ধন্যবাদ। আচ্ছা ওই যে নদীর তীরে বসা সাকাকে চিনেন নিশ্চয়ই?
হ্যাঁ হ্যাঁ চিনবো না মানে; আমাদের গাঁয়ের ছেলে কবি,বড়ই উন্মাদ;
উন্মাদ!
তাই তো,কবিরা তো সাধারন উন্মাদই হয়,
মানে?
উন্মাদ মানে জানেন না,পাগল দেখছি আপনি?
ঠিক বলেছেন,ওই যে পাগল কবিকে আমি আগামী ১১.১১.১১ তে বিয়ে করতে যাচ্ছি
এ্যাঁ,(তিনজনই অবাক) বলুন কি? দেখুন এতো বড় ভূল কেন করতে যাচ্ছেন?
তাছড়া আপনি হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিজাত বংশের মেয়ে,
কে বললো আমি হিন্দু, আমি তো এখন মুসলমান। ইসলামী শরীয়াহ মতে,
এই রমজানে ত্রিশটি রোজা,পাঁচ ওয়াক্ত নামায,তারাবীহ্,সাদকাতুল ফেতর আর,
আর কি?
আর মহান আল্লাহর পবিত্র গ্রন্থ কুরআনুল মাজীত তেলাওয়াত করেছি।
যা মুসলমান হয়ে এই তিন জনের মধ্যে একজনও আপনারা রোজা রাখেন নি?
এই মেয়ে রোজা রাখিনি মানে? অগ্নিশর্মা হয়ে বলে উঠেন ফটিক চান মৌল্লা।
না আপনারা কেউ রোজা রাখেন নি,দিনের বেলায় চোরের মতো পর্দার আড়ালে,
হোটেলে বসে কি দিব্বি ভাবে নাস্তা,চা,পান,সিগারেট খেয়েছেন,বলেন মিথ্যে বলছি?
না আসলে,মিথ্যা আসলে বলেন নি? জানেন আমরা কারা?
আপনাদের চিনে এক ফোটা লাভ আছে? শয়তানদের চিনতে কাঁঠ খড়ি পোড়াতে হয় না।
এই মেয়ে তুমি কিন্তু সীমা পেরিয়ে যাচ্ছ?
সীমান্তেই তো আছি,দ্যাখুন না পাশেই ভারত; মাঝখানে শুধু নদী মহানন্দাটাই ব্যবধান।
মল্লিকা তুমি কাদের সাথে তর্ক করছো?
এরা সমাজের ঘুনে ধরা কালক্রীত,তীর থেে উঠে এসে বলে কবি
ঠিক বলেছেন স্যার, এরা জুব্বা,পায়জামা দাঁড়ি রাখলেও মুখোশের আড়ালে বেঈমান
বলে কোর্ট-টাই পরা ঝাকরা চুলের ক্রেজে ভরা করা ভদ্রলোক
আরে অথর্ব তুমি?
জ্বি স্যার, আমি সেই অথর্ব যার দুটি পা ছিল না,অথচ আমাকে এক,
সোনালী ভবিষ্যত উপহার দিয়েছেন।
স্যার ইনি-ই কি চন্দ্রমল্লিকা ম্যাডাম,যার কথা কাব্য গল্পে ছত্রে ছত্রে বলে যাচ্ছেন?
হ্যাঁ অথর্ব,ইনিই তোমার ম্যাডাম।
ম্যাডাম স্লাইমালাইকুম,আমি অথর্ব চন্দ্রমল্লিকার দিকে মুখ করে বলে অথর্ব,
ওয়ালাইকুম আসসালাম,আমি শুনেছি আপনার গল্প,কেমন আছেন?
জ্বি ভাল,আমাকে আপনি তুমি করে বলবেন।
আচ্ছা বলব,কখন এলে?
এই তো কিছুক্ষণ আগে; স্যার এরাই কি সেই কট্টোর তিন নিন্দুক?
যাদের কথা “ওই যে ছেলেটি কবিতা লিখে” কাব্য গল্পে উল্লেখ করেছিলেন?
হ্যাঁ অথর্ব,চলো বাসায়,
প্লিজ স্যার একটু সময় দিন,আমার মাথার মুকুটকে অসম্মান করবে,
আমি কি করে সহ্য করব বলুন?
এই যে আপনি ক্যাডা,এই পাগলদের সাথে উড়ে এসে জুড়ে বসে এক হলেন?
বলে ফটিক চান মোল্লা
আমি কাওসার আহমেদ অথর্ব,কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার আর
এক প্রাইভেট ভার্সিটির কম্পিউটার লেকচারার।
আর এই যে আপনার-আমার সামনে সাকা নামে কবি পাগল লোকটি,
ইনি কে জানেন? আমার মাথার বাদশাহী মুকুট,
আমার দুটি পা ছিল না,অথচ সেই পা হীন ছেলেটাকে পড়াশুনা করিয়ে
সোনালী ভবিষ্যত দিলেন,
যার নিন্দা এতোক্ষন কি সব উপমাচ্ছলে করে যাচ্ছিলেন,
জানেন কি? আমার সারা জীবনের অর্জিত সম্পদ স্যার,
সারা জীবন বসে খেলেও শেষ হবে না,
কাকে বলছেন আপনারা আমার স্যার দরিদ্র ,পাগল।
সত্যিকার মানুষ তো সেই যে, সে শুধু দিতেই জানে,পাওয়ার আশা করে না,
অন্ধকে পথ দেখান,অসহায়ের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন গভীর মানবিকতায়,
এই পঞ্চাশার্ধ বয়েসে কেন সব নিন্দার প্রার্থনায় শরিক হোন, আর কত দিন….।
নিন্দুকরা আর কথা বলে না; মাথা নীচু করে পথের উল্টো দিকে হাটা শুরু করে,
মহান পাক নিন্দুকদের মাথা নিচু করেই রাখেন,
যাতে তারা সম্মানের উপহার থেকে বঞ্চিত থাকে।
অথর্ব তুমি কখন এসেছ,একা না পরিবার নিয়ে? বলে কবি
স্যার আমরা বিকেল তিনটায় হোটেল সীমান্তের পাড়ে উঠেছি,সঙ্গে-
আমার স্ত্রী মোহনা,মেয়ে দৃষ্টি ও ছেলে মাহদী এসেছে,
কোথায় ওরা?
ওই তো মহানন্দার চরের বুকে হেটে বেরিয়ে এদিকে আসছে,
আসার সময় শুধু আপনার কথাই বলতেছিল মোহনা,বলছিল-
বাবাকে যেন প্রথম সালাম করি আমি,আর দৃষ্টি ও মাহদী বলতেছিল,
বাবা আমরা আগে দাদুকে সালাম করে আর্শীবাদ নেব,বললাম ঠিক আছে।
সাকা চলো আমরা তীরের কাছাকাছি এসে দাঁড়াই ওরা আসুক,
আর আমার বাসায়-ই ওদের প্রথম নিমন্ত্রন,বলে চন্দ্রমল্লিকা
আচ্ছা চলো।
সূর্য ডুবতে শুরু করেছে,লাল আভায় আকাশ যেমন রাঙা বধু সেজে অপরুপা,
মহানন্দার জলে ভেসে উঠে নীল রঞ্জিত উজ্জ্বল হাসি।
খুব কাছাকাছি হয় মোহনা,দৃষ্টি ও মাহদী,
অথর্ব মাহদী ও দৃষ্টিকে ডাক দিয়ে বলছে এই দ্যাখো তোমাদের দাদু,
দাদু দাদু বলে দৌড়ে আসতে থাকে দৃষ্টি মাহদী
পশ্চিমাকাশে লাল রেখাটা আস্তে আস্তে বিলীন হতে থাকে সন্ধ্যাকে বিদায় দিয়ে।
[প্রিয় ব্লগার বন্ধুরা ইচ্ছে ছিল,অথর্বর স্ত্রী মোহনা,মেয়ে দৃষ্টি ও ছেলে মাহদীর সাথে চন্দ্রমল্লিকার একটা অন্যরকম সম্পর্কের প্রানবন্ত আড্ডা জমে উঠে। চন্দ্রমল্লিকার সাথে কবির এই বেজোর সালে ১১.১১.১১ তেই বিয়ে করতে হতে চাচ্ছে,ইচ্ছে ছিল এই পর্বে তা তুলে ধরতে ]
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন