শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১১

কাব্য গল্প:আমি এখন চা খাচ্ছি

[উৎসর্গ: মিসেস মুরুব্বীনীকে]

আমি এখন চা খাব চন্দ্রমল্লিকা;দু’কাপ চা বানিয়ে নিয়ে এসো
তুমি না ল্যাপটপের সামনে শব্দনীড় ব্লগে চোখ বুলিয়ে যাচ্ছ,
চা খাওয়া আর আমার সাথে গল্প করা সময় কোথায় তোমার?
নেটে বসলেই তোমার খানা-পিনার কথা বিলকুল মনে থাকে না,
কি যে বলো?
বলব না মানে,নিজের চোখেই তো দেখছি, তাছাড়া- তুমি কি জানো?
কি?
সব খবরই গোয়েন্দার মত টুকিয়ে রাখি,
ওরে বাপ রে,তুমি তো দেখছি অতি শীঘ্রই হোম মিনিষ্টার হতে যাচ্ছ?
জ্বি স্যার,ঠিক ধরেছ?
সপ্তাহে তিনদিন অফিস করো বাকি চারদিনই কম্পিউটারে ডুবে থাক,
আমাকে সময় দিতেই বললেই বেশ সুন্দর হাসিতে কাটিয়ে যাও,
খুব সহজ গলায় বলো, ব্যস্ত আছি প্রিয়…
আচ্ছা তুমি দেখছি দিন দিন শব্দনীড়ের গভীর প্রেমে জড়িয়ে গিয়ে
আমার কথা বিলকুল ভুলে যাচ্ছ?
ব্যাপার কি,১৪৪ ধারায় এসব বন্ধ করে দিব বিয়ের পর,বুঝতে পারছো?
জ্বি ম্যাডাম, মাননীয় হোম মিনিষ্টার!
আচ্ছা তোমার ডায়েরীর পাতায় কিছু প্রিয় লিষ্টে ওয়েব ব্লগারের নাম দেখলাম,
ওনারা কারা,জানতে পারি?
অবশ্যই জানবে মল্লিকা,আগে চা করে আনো,
তারপর না হয় চুমুকে চুমুকে সবিস্তারে বলে যাই
কফি না লাল চা খাবে?
লাল চা;সাথে আদা মিশিয়ে দিও,যাও কুইক।
যাচ্ছি বলে চন্দ্রমল্লিকা চা করতে যায়।
শ্রাবণ বৃষ্টি ঝরা বিকেল
প্রবল বৃষ্টির ধারা দেখে মনে হয়েছিল ঘর থেকে বেরোনোই দায়,
এক নিমগ্ন ভাবনা থেকে ফিরে এসে পিসিতে চোখ রাখি।
হ্যাঁলো দাদু কবি সাহেব শুধু ল্যাপটপ টিপলেই হবে,
না আমার দাদুমণি চন্দ্রমল্লিকাকে একটু——
রসিকতা করতে করতে কাছে এসে গা ঘেসে বসলেন
মল্লিকার দাদু প্রেমচন্দ্র রায়
ঠিক বলেছেন দাদু,দিন দিন কেমন যেন আমরা মানুষ থেকে
রোবটের মতো ডিজিটাল যন্ত্রমানবে রুপান্তরিত হতে চলেছি
ডিজিটাল মানব! বলো কি কবি দাদু ভাই?
হ্যাঁ দাদু,মানুষ এখন ডিজিটাল যন্ত্রমানব হয়ে যাচ্ছে দৌড়ে এসে বলে বর্ণালী
জানো দাদু,আমার এ হবু বর কবি সাহেবও সত্যি সত্যি যন্ত্রমানব হয়ে যাচ্ছে
চা নিয়ে এসে সহাস্যে বলল চন্দ্রমল্লিকা…
এখনকার কবিরাও দেখছি অত্যাধুনিক যন্ত্রমানব হতে চলেছে,
হাসির খৈ ফোঁটে সারা বাড়ির আঙিনা নেচে উঠে দাদুর হাসিতে
আড়ালে আঁচল টেনে মুখ ঢেকে হাসেন চন্দ্রমল্লিকা মা শ্রীমতি মাধবীবালা।
সারা বাড়ীর উঠোন জুড়ে যখন হাসির কল্লোল তখন কারেন্টের সুইচ অফ করে
চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে যায় কবি ও চন্দ্রমল্লিকা।
বাড়ীর উত্তর কোণে ছাতা বিস্তৃত নয় বছর বয়সী লিচু গাছ,
এই গাছটির নিচে এসে দাঁড়ায় কবি আর চন্দ্রমল্লিকা
জানো এই গাছটি আমার নিজ হাতে লাগানো
এই ভরা মৌসুমেও প্রচুর ফল ধরেছিল এই গাছটায়
চায়ের চুমুকের ফাঁকে ফাঁকে বলে মল্লিকা
তখন তোমার বয়স কত ছিল?
তের;
জানো আমি স্বপ্ন দেখি
কি দেখ?
তোমাকে বিয়ে করে দুটি ফুটফোঁটে বাচ্চার মা হবো,
পাকা লিচুর গায়ের রংয়ের মতো টকটকে রুপ হবে আমাদের সন্তানদ্বয়ের
জানো,আমার না মা ডাক শুনতে খুব ইচ্ছে করে,
আমার বান্ধবী লিতা বিয়ে করে বছর খানেকের মধ্যে মা হয়েছে,
এখন সেই ছোট্ট খোকা লিতাকে মা ডাকে কি প্রানবন্তই না করে তুলে
বলো না আমরা কবে বিয়ে করছি,
কবি নীরব!
এই শুনছো না কেন, কিছু বলছো না যে?
তোমার স্বপ্নটা খুবই সুন্দর মল্লিকা,
সত্যি বলছো?
হ্যাঁ সত্যি বলছি।
আচ্ছা মুরব্বী আজাদ কাশ্মির জামান ভাইয়াটা কে?
যার কথা মাঝে মাঝে গল্পচ্ছলে উল্লেখ করে থাক,
বেশ কয়েকটি কবিতা দেখলাম উৎসর্গও উনাকেও করেছ!
হ্যাঁ,মল্লিকা খুব পছন্দ ও ভালবাসি উনাকে,
উনি একজন ব্লগ পরিচালক,শব্দনীড় ব্লগটা উনার,
তাই নাকি?
হ্যাঁ তাই,আমাকে খুব আদর-স্নেহ করে থাকেন।
একদিন তেঁতুলিয়ায় চায়ের দাওয়াত দিয়ে আমন্ত্রণ জানাও না;
আচ্ছা তোমার পক্ষ থেকে আমন্ত্রণটা জানিয়ে দিব
আর মুরব্বীনীসহ কিন্তু!
এই যুগল দম্পত্তিকে জানিয়ে দাও তেঁতুলিয়ায় আসার একটা নিমন্ত্রন
অনেকে তো অনেক সুন্দর সুন্দর দেশ-বিদেশ গ্রহেও হানিমুনে বের হয়
তেঁতুলিয়ার মতো ছোট্ট একটা শহবের ওনারা হানিমুন করতে আসুক না
ঠিক বলেছ দাওয়াত পৌছে যাবে।
তুমি কি জানো?
কি?
“যেখানে বাংলাদেশের প্রান্তিক শুরু তেঁতুলিয়া দিয়ে
হিমালয়ের পর্বতের আকাশ ছোঁয়ার এক নান্দনিক সৌন্দর্য
কাঞ্চনজঙা-দার্জিলিংয়ের রুপের ঐশ্বর্য্যরে বিলাস
বিস্তৃত চাবাগানের চোখ জুড়ানো স্বপ্নীল মায়াবি ছবি
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই জোনাকি আলোর হৈচৈ পড়ে
ঝি ঝি পোকার গুঞ্জনে মুখরিত হয় এখানকার চারপাশ
ডাহুকের ডাকে সরব হয় নদী মহানন্দার বুক কাশবন প্রান্তর
আকাশ থেকে চুয়ে চুয়ে পড়ে শিশির কণার মতো চাঁদ-জোৎস্নার আলো
নদী মহানন্দার জলের সাথে খেলা করে চাঁদ-জোৎস্নার ঢেউ।
ভারতের তারকাটার বেড়ার সাথে সারি সারি ল্যাম্পষ্টের রঙিন আলোয়,
এ নদীর বুককে তখন মনে হয় যেন সিঙ্গাপুরের কোন অভিজাত শহর।
পড়ন্ত বিকেলের সূর্যাস্তের আরেক মনোমুগ্ধকর চিত্রায়ন
উড়ন্ত পাখিদের ডানা মেলে অভূত দৃষ্টির পলকায়ন।
বলো এর চেয়ে নন্দিত ঐশ্বর্যের প্রকৃতি স্বপ্নের মতো একটা শহর,
পৃথিবীর আর কয়টা মানচিত্রে পাওয়া যাবে বলতে পার ম্যাগপাই?
চলো ওই যে দাদু ওরা আসছে কি কাজটাই না করে এসেছি আমরা,
হ্যাঁ মল্লিকা হাসাহাসির মাঝে কারেন্টের বাতি অফ করে দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যাওয়া
হি হি হি,ওই দেখো দাদু মাল কাছার দিয়ে কিভাবে আসছে,
ঠিক এই সময়েই মোবাইলটা বেজে উঠলো কবির,
মোবাইলটা চন্দ্রমল্লিকার বাম হাতের মুঠোয়,
ম্যাগপাই তোমার ফোন, রিসিভ করবো?
করো-
নাম্বারটা দেখে চমকে উঠে বলে এই নাম্বারটা কার?
১৮ জুলাই/২০১১।

[কম্পিউটার ডেক্সটপ পিসির সামনে কবি]


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন